ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত অসম, মৃত ৮ ও গৃহহীন ৪ লক্ষ পরিবার, পিছোল উচ্চ মাধ্যমিক

টিডিএন বাংলা ডেস্ক: ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে অসম। বন্যাকবলিত হয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছে অসমের প্রায় ৪ লক্ষ মানুষ। এখনও পর্যন্ত ইতিমধ্যেই বন্যা ও ধসের জেরে ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। অসমের ২৬টি জেলার ১০৮৯টি গ্রাম কার্যত বানভাসি। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল আসমে। কিন্তু উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা পরিষদের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পঙ্কজ বরঠাকুর জানান, আগামী ১জুন পর্যন্ত নির্ধারিত পরীক্ষাগুলি স্থগিত রাখা হয়েছে৷ পরিস্থিতি এমনই যে স্রোতের তোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রেনের অনেকগুলো বগির উল্টে যাওয়ার ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। অসমের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বন্যা মোকাবিলায় অসমকে সবরকমের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী সূত্রের খবর, বন্যা ও ধসে এখন পর্যন্ত ১০০৫টি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। ১৭৮টি ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন কমবেশি ৪০ হাজার মানুষ। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে জাতীয়সড়ক এবং পাঁচটি রাজ্যসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত। বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুত্‍ ও মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভুমিধসের কারণে ত্রিপুরা, মণিপুর, মিজোরাম এবং দক্ষিণ আসামের বিস্তীর্ণ অংশে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। অনেক জায়গায় রেললাইনে ধস নামার কারণে প্রায় ৩০টি ট্রেন বাতিল করেছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল। ট্রেনে আটকে পড়া অধিকাংশ যাত্রীকে এয়ার লিফট করে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা। বিভিন্ন জায়গায় শুরু হয়েছে রেললাইন মেরামতির কাজ। দুর্যোগে রেললাইনের যা অবস্থা, কবে তা ফের চলাচলের যোগ্য হয়ে উঠবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ওই সমস্ত এলাকায় দেখা দিচ্ছে খাদ্য সংকট। বানভাসী এলাকায় দুর্গতদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কাজও করা হচ্ছে। এদিকে, অসমে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতিতে দুর্গতদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।

ধসে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ফলে ডিমা হাসাওয়ে সবচেয়ে বেশি পণ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে৷ বাজারে নেই সবজি বা আলু কিছুই। আজ থেকে রান্নার গ্যাসও অমিল৷ জেলার মজুত ফুরিয়ে গিয়েছে৷ ধসে বন্ধ জেলার সব ক’টি সড়ক। বাকি রাজ্য থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন ডিমা হাসাও। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এ দিন ফের ডিমা হাসাও পরিদর্শনের উদ্দেশে রেরিয়েছিলেন তফসিলি জাতি উন্নয়ন মন্ত্রী যোগেন মোহন৷ কিন্তু গত কালের মতোই আজও ধসে রাস্তা বিচ্ছিন্ন থাকায় মাইবাঙ থেকে ফিরতে হয় তাঁকে৷ এদিন এক মন্ত্রী ঘোষণা করেন, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে চার লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে৷ বেশি ক্ষতিগ্রস্তেরা পাবেন এক লক্ষ টাকা করে৷ সামান্য পরিমাণে ক্ষতি হয়েছে যাঁদের, তাঁদের দেওয়া হবে পরিবার পিছু ৩০,৮০০ টাকা।