ইসরাইলের ভয়ে ফিলিস্তিনে জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থা নিয়ে জটিলতা! ক্ষোভ প্রকাশ ফিলিস্তিনিদের

টিডিএন বাংলা ডেস্ক : ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক জাতিসংঘের ত্রাণ ও উন্নয়ন সংস্থা বা সংক্ষেপে আনরাওয়া ফিলিস্তিনিদের সেবা বিষয়ক কোনো কোনো কর্মসূচি অন্য কোনো সংস্থার ওপর ন্যস্ত করার উদ্যোগ নেয়ায় ফিলিস্তিনিরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ফিলিস্তিনি শরণার্থী ইস্যুটির অবসান ঘটানোর ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধেও তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

হিউম্যান রাইট ওয়াচের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মুহাম্মাদ শাহ’দেহ এ প্রসঙ্গে বলেছেন, আনরাওয়া’র কাজ কেবলই সেবা দেয়া নয়, খোদ এই সংস্থার উপস্থিতি ও কর্মতৎপরতা অব্যাহত রাখাও সংস্থাটির দায়িত্ব। কারণ ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংকট সমাধান করা বিশ্ব সমাজের দায়িত্ব। ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থার কাজ সীমিত করার বিষয়ে ফিলিস্তিন স্বশাসন কর্তৃপক্ষের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মাদ আশতাইয়েহ-ও বলেছেন, এ পরিকল্পনা জাতিসংঘের প্রস্তাবের লঙ্ঘন।
ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক জাতিসংঘের ত্রাণ ও উন্নয়ন কর্ম-তৎপরতার সংস্থা আনরাওয়া (UNRWA) গঠন করা হয়েছিল ১৯৪৯ সালে। দখলদার ও সন্ত্রাসী ইহুদিবাদীরা ১৯৪৮ সনে ফিলিস্তিনে জবরদখল প্রতিষ্ঠা করলে প্রায় দশ লাখ ফিলিস্তিনি শরণার্থীতে পরিণত হয়। বর্তমানে তাদের সংখ্যা বেড়ে প্রায় এক কোটিতে দাঁড়িয়েছে। এদের অর্ধেকেরও বেশী সংখ্যক আনরাওয়ার সেবা পাচ্ছেন।

মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত ফিলিস্তিনিদের জন্য কর্মসংস্থান ও নানা ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা দেয়ার কাজ করে আসছে আনরাওয়া। জর্দান, লেবানন, সিরিয়া, গাজা ও পূর্ব বায়তুল মুকাদ্দাসসহ পশ্চিম তীরে ছড়িয়ে থাকা ফিলিস্তিনি শরণার্থীরা আনরাওয়ার সেবা পাচ্ছিল। এর বাইরে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক কমিশনও ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তা দিয়ে আসছে। আনরাওয়া প্রায় ৭০০ ফিলিস্তিনি স্কুল চালায় যাতে রয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ ফিলিস্তিনি ছাত্র।

জাতিসংঘ ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলকে ফিলিস্তিনের অর্ধেক জমি দানের নীতি গ্রহণ করায় এর প্রতিদান হিসেবে আনরাওয়া গঠন করে যাতে ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংকট সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাদের নানা কল্যাণে অবদান রাখা যায়। তবে ইসরাইল প্রথম থেকেই এই সংস্থার অস্তিত্বকে পছন্দ করেনি ও ফিলিস্তিনি শরণার্থী প্রসঙ্গটিকে এড়িয়ে যেতে চাপ দিতে থাকে। ফিলিস্তিনি আপোষ-আলোচনাগুলো ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল ইসরাইলের এই নীতি। এই নীতির আলোকে ইসরাইল আনরাওয়ার নানা প্রতিষ্ঠানে সরাসরি হামলা চালিয়েছে এবং আনরাওয়াকে অর্থ সাহায্য দানকারী দেশগুলোকে এই সংস্থায় চাঁদা দেয়া বন্ধ করতে বা কমিয়ে দিতেও চাপ জোরদার করেছে।

ইসরাইলি চাপের মুখে মার্কিন সরকার আনরাওয়াকে অর্থ দেয়া বন্ধ করে দেয় এবং অনেক পশ্চিমা ও আরব দেশও একই ধরনের উদ্যোগ নেয়। ২০১৮ সালেও আনরাওয়াকে আরব দেশগুলো দিয়েছে বিশ কোটি ডলার, পরের বছর তা কমে হয় ৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার ও ২০২০ সালে তা আরও কমে মাত্র তিন কোটি ৭০ লাখ ডলারে নেমে আসে। ব্রিটেনও ২০২০ সালে যেখানে আনরাওয়াকে দিয়েছিল চার কোটি ২৫ লাখ (৪২.৫ মিলিয়ন) পাউন্ড পরের বছর তা কমে হয়েছে প্রায় দুই কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড। আসলে ইসরাইল ও তার সহযোগীরা আনরাওয়াকে বিলুপ্ত করে ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংকটকে চিরতরে ধামাচাপা দেয়ার ষড়যন্ত্র করছে। সূত্র- পার্স টুডে