বঙ্গ রাজনীতিতে আলোচনার বৃত্তে ওয়াইসির দল

আবু রাইহান, টিডিএন বাংলা: বিহার বিধানসভার ফলাফল ঘোষিত হওয়ার পর থেকেই জাতীয় রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দল মিম! যদিও ব্যারিস্টার ওয়াইসির অল ইন্ডিয়া মজলিসে ইত্তেহাদুল মুসলিমিন দক্ষিণের তেলেঙ্গানা রাজ্যের হায়দ্রাবাদ কেন্দ্রিক একটি আঞ্চলিক দল! বর্তমানে ওয়াইসির দলের রাজনৈতিক শক্তি হলো সাকুল্যে ১৪ জন বিধায়ক এবং দু’জন সাংসদ! নিজের রাজ্য তেলেঙ্গানায় রয়েছে ৭ জন বিধায়ক এবং নিজের সাংসদ পদ! মহারাষ্ট্রে রয়েছে দুজন বিধায়ক এবং একজন সাংসদ! আর সদ্য বিহার বিধানসভা নির্বাচনে জিতেছেন মিম দলের পাঁচজন! অথচ 2006 সালে মাওলানা বদরুদ্দিন আজমলের দল অসম ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট প্রথমবার বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী দিয়ে দশটি বিধানসভার আসন পেয়েছিল! 2009 সালের লোকসভা নির্বাচনে নিজে জিতে সাংসদ হয়েছিলেন! আর 2011 সালের বিধানসভা নির্বাচনে 18 টি আসন জিতে এবং 2014 সালের লোকসভা নির্বাচনে প্রবল মোদির ঝড়ের মধ্যেও তিনটি লোকসভা আসনে জিতে রাজ্য রাজনীতিতে চমক দেখালেও জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারেননি! মাওলানা বদরুদ্দিন আজমল বারবার চেষ্টা করলেও কংগ্রেসের জোট শরিক হওয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেছে! 2016 সালে অসম বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতায় এলেও মাওলানা বদরুদ্দিন আজমল এর অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট দলের প্রার্থীরা তেরোটি বিধানসভার আসন ধরে রাখতে সমর্থ হয়েছে এবং 2019 সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি নিজের সাংসদ পদটি রক্ষা করতে সমর্থ হয়েছেন! অসম রাজ্যের বাইরে কেবলমাত্র 2011 সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি মাওলানা সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন এই দলের টিকিটে লড়াই করলেও খুব একটা সুবিধা করে উঠতে পারেননি! 2016 সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চৌধুরীকে ভোটে লড়ার জন্য দুটি বিধানসভার আসন দিয়েছিলেন! বর্ধমান জেলায় এবং মালদা জেলায় চৌধুরী সাহেব এআইইউডিএফ এর ব্যানারে জোট শরিক হিসাবে লড়ার কথা বললেও শেষপর্যন্ত তৃণমূল সুপ্রিমোর নির্দেশে তৃণমূলের প্রতীকেই লড়তে হয়! নিজে বিধায়ক হয়ে মমতা সরকারের মন্ত্রী হওয়ায় এ আই ইউ ডি এফ দলের পশ্চিমবঙ্গ সংগঠনের বেশিরভাগটাই তৃণমূল দলের সঙ্গে মিশে গিয়েছে!বাস্তবতা হলো অসম রাজ্যের বাইরে মাওলানা বদরুদ্দিন আজমল এবং তাঁর দল দেশের মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চল গুলিতে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সেভাবে সমর্থ হয়নি!
বিহারের ৫ বিধানসভা আসনে জেতার পর আসাদউদ্দিন ওয়াইসির এআইএমআইএম দলের বিরুদ্ধে দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি অভিযোগ করছে মহাজোটের মুসলিম ভোটে ভাগ বসিয়ে আদতে বিজেপিকে সুবিধে করে দিয়েছে ! বিরোধী রাজনৈতিক দলের কোনো কোনো নেতা আবার ওয়াইসির দলকে বিজেপির ‘বি-টিম’ বলেও কটাক্ষ করছেন! শুধু তাই নয়, সোশ্যাল মিডিয়াতেও বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমর্থক শুরু করে মুসলিম নেটিজেনদের একটা অংশ ওয়াইসিকে বিজেপির দালাল এবং তাঁর দল মীম কে ভোট কাটোয়া পার্টি বলেও তুমুল ভাবে গালমন্দ করছেন! এখন প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, বিহার বিধানসভার নির্বাচনে ওয়াইসির দল পাঁচটি বিধানসভার আসনে জয়লাভ যদি না করতেন এবং মহাজোট যদি এনডিএ জোট এর কাছে ফটো ফিনিসে হেরে না যেতেন, তাহলে কি ওয়াইসি এবং তাঁর দল মীম কি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির কাছে জাতীয় এবং রাজ্য রাজনীতিতে এত গুরুত্ব পেত? বলাই বাহুল্য উত্তরটা এক কথায় না! এবার প্রথমবার নয়,এর আগেও 2015 সালে বিহার বিধানসভার নির্বাচনে ওয়াইসির দল মীম 6টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল এবং সব কটি আসনে হেরেছিল! এমনকি 2019 সালে পাশের রাজ্য 81 আসনবিশিষ্ট ঝাড়খন্ড বিধানসভা নির্বাচনে ওয়াইসির দল আটটি আসনে প্রার্থী দিয়ে সবকটিতে হেরেছে! তখনও ওয়াইসি এবং তাঁর দলকে নিয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের মাথা ব্যথা ছিল না! ওয়াইসির দল কিন্তু হঠাৎ করে বিহার বিধানসভার নির্বাচনে সাফল্য পায়নি! রীতিমতো পরিকল্পনা করে এই সাফল্য এসেছে! 2019 সালে বিহারের কিষানগঞ্জ বিধানসভা উপ নির্বাচনে মিম প্রার্থী জয়লাভ করার পর, ওয়াইসি বিহারে নিজের দলের শক্তি বাড়াতে উদ্যোগী হন! বিহারে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে এআইএমআইএম দল এককভাবে না লড়াই করে ছটি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে গ্র্যান্ড ডেমোক্রেটিক সেকুলার ফ্রন্ট গড়ে লড়াই করেছিল! বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে এই তৃতীয় জোটে এআইএমআইএম ছাড়াও ছিল এনডিএ জোট সরকারের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী উপেন্দ্র কুশওয়াহর রাষ্ট্রীয় লোক সমতা পার্টি, ইউপিএ সরকারের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবেন্দ্র প্রসাদ যাদবের সমাজবাদী জনতা দল ডেমোক্রেটিক, উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টি এবং এছাড়া দুটি ছোট দল! অতি দলিতদের নেতা উপেন্দ্র কুশওয়াহর রাষ্ট্রীয় লোক সমতা পার্টি 104 টি আসনে লড়েও একটি ও আসনে জিততে পারেনি!অথচ এই দলটি 2015 সালের বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ জোটের শরিক হয়ে 23 টি আসনে লড়াই করে দু’টি আসনে জয়লাভ করেছিল! দলিত নেত্রী মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টির প্রার্থীরা 80 টি আসনে লড়াই করে জয়ী হয়েছে কেবল একটি আসনে! গত বিধানসভা নির্বাচনে এককভাবে 243 আসনে লড়াই করে একটি আসনও জিততে পারেনি!সমাজবাদী জনতা দল ডেমোক্রেটিক গত বিধানসভা ভোটে সোশালিস্ট সেকুলার মোট সাগরে 23 টি আসনে লড়লেও একটি আসনে জিততে পারেনি! এবারেও তৃতীয় জোটের শরিক হয়ে 25 টি আসনে লড়াই করেও জয় অধরা রয়ে গেছে!উপেন্দ্র কুশওয়াহ একসময় নীতীশ কুমারের জনতা দল ইউনাইটেড দলের নেতা ছিলেন! তৃতীয় জোট করে প্রার্থী দিয়ে তাঁর দল একটি আসনে জয়লাভ করতে না পারলেও এই দলের প্রার্থীরা যে নীতীশ কুমারের দলের প্রার্থীদের অতি দলিত ভোট কেটেছেন তা বলাই বাহুল্য! কারণ কুশওয়াহ সম্প্রদায়ের ভোট পেতে এই দলটি 40% কুশওয়াহদের প্রার্থী করেছিল! অন্যদিকে মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টি বিহারের রবিদাস সম্প্রদায়ের যে 4 শতাংশ দলিত ভোট রয়েছে তা পাওয়ার লক্ষ্যে বক্সার, রহতাস এবং কাইমুর জেলাগুলিতে প্রার্থী দিয়েছিল। অন্যদিকে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির এআইএমআইএম দল বিহারের মুসলিম অধ্যুষিত কিষানগঞ্জ, পূর্ণিয়া, আরারিয়া এবং কাটিহার জেলাগুলিতে প্রার্থী দিয়েছিল! বিহারের সীমাঞ্চল এলাকার জেলাগুলিতে 45 টি মুসলিম অধ্যুষিত বিধানসভার আসন রয়েছে! সীমাঞ্চল অঞ্চলের বিধানসভা আসন গুলিতে 2014 সালের লোকসভা এবং 2015 সালের বিধানসভা নির্বাচনে আরজেডি এবং কংগ্রেস দলের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছিল! এবারের বিধানসভা নির্বাচনে সীমাঞ্চল অঞ্চলের যে ২৪টি আসনে এআইএমআইএম প্রার্থীরা লড়াই করেছিল তার মধ্যে এআইএমআইএম প্রার্থীরা পাঁচটি বিধানসভার আসনে জয়লাভ করলেও, ভোট কাটাকাটির খেলায় 14 টি আসনে বিজয়ী প্রার্থীরা জয়লাভ করতে সমর্থ হয়েছে এবং বাকি পাঁচটি আসন গিয়েছে মহাজোটের দখলে! এই তথ্য-পরিসংখ্যান দেখিয়ে কংগ্রেস এবং বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি বলার চেষ্টা করছে আসাদুদ্দিন ওআইসির দল মহাজোটের মুসলিম ভোট কেটে বিজেপি প্রার্থীদের জয় লাভের পথ সুগম করে দিয়েছে! যুক্তির খাতিরে যদি একথা ধরেই নেওয়া যায় তাহলে একথাও স্বীকার করতে হবে মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টি এবং উপেন্দ্র কুশওয়াহর রাষ্ট্রীয় লোক সমতা পার্টির প্রার্থীরা অতি দলিত এবং দলিত ভোট কেটে আরজেডি এবং কংগ্রেস দলের প্রার্থীদের জেতার পথ সুগম করে দিয়েছে! কিন্তু এই সত্যটি গোপন করে সকলে কেবল এআইএমআইএম দলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে!তবে এটাও ঠিক
এআইএমআইএম দলকে বিজেপির বি টিম হিসাবে চিহ্নিত কারণের জন্যে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির কিছু সিদ্ধান্ত যে দায়ী সে কথা তিনি এড়াতে পারেন না! নির্বাচন কমিশন স্বীকৃত বর্তমানে তেলেঙ্গানা রাজ্যের অন্তর্গত হায়দ্রাবাদ ভিত্তিক এম আই এম দলটির বয়স 90 বছরেরও বেশি পুরনো! সাধারণ রাজনৈতিক হিসেবে বলে, যে রাজ্যে যে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের জন্ম সেই রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য থাকে সেই রাজ্যের শাসন ক্ষমতা দখল! জাতীয় দল হিসাবে উঠে আসতে চাইছেন! মহারাষ্ট্র কর্ণাটক উত্তরপ্রদেশের মত রাজ্যের মিউনিসিপাল এবং লোকাল বডির ভোটে অংশগ্রহণ করছেন! সাফল্যও পাচ্ছেন!দক্ষিণ ভারত থেকে এসে মিম প্রার্থীরা পূর্ব ভারতের বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে 24 টি আসনে লড়াই করছেন, ঝাড়খন্ড বিধানসভার আটটি আসনে লড়াই করছেন! এমনকি 2019 সালে মহারাষ্ট্রে বিধানসভা নির্বাচনে বি আর আম্বেদকর এর পৌত্র দলিত নেতা প্রকাশ আম্বেদকর এর দল বঞ্চিত বহুজন আগাদি দলের সঙ্গে জোট করে মহারাষ্ট্র বিধানসভায় 44 টি আসনের লড়াই করে দু’টি আসনে জয়লাভ করছেন এবং লোকসভার 48 টি আসনের মধ্যে জোট করে একটি আসনে লড়ে জয়লাভ করছেন! কিন্তু নিজের রাজ্যে এআইএমআইএম এর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সে ধরনের কর্মসূচির কোন লক্ষন দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না! তেলেঙ্গানা রাজ্যের এআইএমআইএম দল 119 টি বিধানসভা আসনের মধ্যে 2018 সালের বিধানসভা নির্বাচনে কে চন্দ্রশেখর রাও এর দল তেলেঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সমিতির সঙ্গে জোট করে মাত্র আটটি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল এবং সাতটি আসনে জয়লাভ করেছিল! জোট শরিক টিআরএসকে 110 টি আসন ছেড়ে দিয়েছিল! একইরকম ভাবে 2019 সালের লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের 17 টি লোকসভা আসনের মধ্যে হায়দ্রাবাদের আসনের নিজে লড়ে জয়ী হয়েছেন বাকি 16 টি আসন জোট শরিক টিআরএস কে ছেড়ে দিয়েছিলেন! এক সময় যে রাজ্যের অধীনে ছিলেন, এখন পাশের রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশ হলেও 2019 সালের বিধানসভা নির্বাচনে সেখানে এআইএমআইএম কোন প্রার্থী দেয়নি! শুধু তাই নয় 2020 সালের দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে ও এআইএমআইএম দল প্রার্থী দেয়নি! এই দুটি রাজ্যের মুসলিম অধ্যুষিত বিধানসভার মানুষজন কিন্তু চেয়েছিলেন’ এআইএমআইএম দল প্রার্থী দিক! কোন রহস্যময় কারণে আসাদুদ্দিন ওয়াইসি এই দুটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি তা কিন্তু তিনি খোলাসা করে বলেননি! এইসব কারণে তিনি মুসলিম সমাজে বিতর্কিত এবং আলোচিত চরিত্র হয়ে উঠেছেন! যদিও একই সঙ্গে কেন্দ্রের বিজেপি জোট সরকারের এনআরসি, সিএএ এবং কাশ্মীরে 370 ধারা আইন বিলোপ করা বিষয়ে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির লড়াকু ভূমিকা তাঁকে মুসলিম সমাজে যথেষ্ট জনপ্রিয় করে তুলেছে! বিহার বিধানসভা নির্বাচনে সাফল্য লাভের পর বাংলায় 2021 সালে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে লড়ার কথা ঘোষণা করেছেন এআইএমআইএম দলের প্রেসিডেন্ট আসাদউদ্দিন ওয়াইসি! ওয়াইসির এই ঘোষণায় বাংলায় শাসকদল তৃণমূল ও কংগ্রেস দল মুসলিম অধ্যুষিত বিধানসভা এলাকাগুলিতে বেশি চাপে পড়বেন বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। ওয়াইসির দল উত্তরবঙ্গের মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর ছাড়াও দক্ষিণবঙ্গের হাওড়া, উত্তর এবং দক্ষিণ 24 পরগনা এই ছটি জেলায় মুসলিম অধ্যুষিত বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে! এআইএমআইএম এর প্রেসিডেন্টের দাবি গত তিন বছর ধরে তারা এখানে সংগঠন তৈরি করছেন!রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূলের সঙ্গে জোট করে লড়ার বিষয়েও সদর্থক বার্তা দিয়ে রেখেছেন এআইএমআইএম এর প্রেসিডেন্ট! আসাদুদ্দিন ওয়াইসি কোন ভুঁইফোড় নেতা নন! হায়দ্রাবাদ লোকসভা আসন থেকে চারবারের জেতা সাংসদ! 2012 সালে ইউপিএ-2 সরকারের আমলে সেরা সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন! দীর্ঘদিন ধরে ইউপিএ জোটের শরিক ছিলেন! 2016 সালের বিধানসভা নির্বাচনে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের নেতা মাওলানা সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী কে নিজেদের দলে টেনে তৃণমূল নেত্রী মাস্টার স্ট্রোক দিয়ে সিংহভাগ মুসলিম ভোট নিজের দলের দিকে টেনে আনতে পেরেছিলেন! ফলে সিপিএম এবং কংগ্রেস জোট বেঁধে লড়েও তৃণমূলকে হারাতে পারেনি! 2021 সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের জন্য পরিস্থিতি খুব একটা যে অনুকূল নয় তা বলাই বাহুল্য! সংখ্যালঘু মুসলিম ভোটের সিংহভাগ নিজেদের দখলে না আনতে পারলে তৃণমূলের সমূহ বিপদ! সেক্ষেত্রে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দলের সঙ্গে জোট করে লড়ার কথা ভাবলে আখেরে তৃণমূল লাভবান হবে বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত!