মুহাম্মদ নুরুদ্দিন, টিডিএন বাংলা: ভারতে করোনা ভাইরাসের আক্রমণ হু হু করে বেড়ে চলেছে। একের পর এক দেশকে পেছনে ফেলে এখন সে আমেরিকা ও ব্রাজিলের পরে তৃতীয় স্থান দখল করে আছে। করোনা ভাইরাস মোকাবেলার নিরিখে চীন, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলংকা, নেপাল, বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া ছাড়াও আফ্রিকার বহুদেশের থেকে পিছিয়ে ভারত। অভিজ্ঞ মহলের ধারণা অপরিকল্পিত লকডাউনের কারণেই ভারতে করোনা ছড়িয়েছে অনেক বেশি। ভারত নিজেকে বিশ্বের অন্যতম উন্নয়নশীল দেশের সারিতে দেখতে চায়। কিন্তু অনেক দুর্বল ছোট ছোট দেশ যে পরিকল্পনা করতে পেরেছে ভারত তা করতে অনেকখানি ব্যর্থ।
দক্ষিণ আফ্রিকার মত দেশ লকডাউন ঘোষণার আগেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় চিকিৎসা পরিষেবার উপর। করোনা সংক্রমণ শুরু হলে কি হবে সে কথা মাথায় রেখেই গড়ে তোলা হয় একের পর এক নতুন হাসপাতাল। আর লকডাউন শুরু হলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা যাতে নিরাপদ রাখা যায় তার জন্য তৈরি করা হয় পরিকল্পনা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চব্বিশে মার্চ হঠাৎ ঘোষণা করে দিলেন জনতা কারফিউ। তার চার ঘণ্টা পর আকাশ থেকে বজ্রপাতের মতো নেমে এল লকডাউনের ঘোষণা। প্রধানমন্ত্রীর এই নাটকীয়তা কে কেউ বাধা দেওয়ার সাহস দেখাইনি, অনেক রাজনৈতিক নেতা এবং বড় বড় আমলারাও এটাকে আত্মঘাতী পরিকল্পনায় পরিণত করার জন্য অপেক্ষা করেন। ফল যা হওয়ার তাই হয়েছে ।
২৪ মার্চ আকস্মিক লকডাউনে মহা বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে সাধারণ মানুষ। এক সপ্তাহ দু’সপ্তাহ কোন ভাবে কাটানোর পর শুরু হয় বিস্ফোরণ। দলে দলে হাজার হাজার মানুষ বের হয়ে আসে রাস্তায়। কোন যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিলনা। বাধ্য হয়েই পায়ে হাঁটতে শুরু করে তারা। ভারতের ভাবমূর্তি বহির্জগতে কালিমা লিপ্ত হয়। একটা দেশের সরকার যে এত দায়িত্বজ্ঞানহীন হতে পারে তা জানল বিশ্ব! আন্তর্জাতিক প্রচার মাধ্যমে এটা রীতিমতো এক আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়। ১৩ জুন ইকোনমিস্ট ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয় একটি তথ্য। তাতে দেখানো হয় কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এই কয়দিনের মধ্যে ৪০০০ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। একের পর এক নির্দেশিকা এসেছে পরের নির্দেশিকায় তা বাতিল করে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। লক ডাউন কীভাবে করা হবে সে নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ করা হয়নি।
হঠাৎ লকডাউনের ফলে হাজার হাজার মানুষ গাদাগাদি করে ছোট ঘরে দিনের পর দিন থাকতে বাধ্য হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই তাদের মাঝে ছড়িয়েছে করোনাভাইরাস। আবার তারা যখন বাঁধন ছেড়ে বেরিয়ে এলো, কোন বাধা না মেনে দুর্বার গতিতে ছড়িয়ে পড়তে লাগল দেশজুড়ে, তখন তাদের সাথে সাথে করোনা ছড়িয়ে গেল দেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে।
এদিকে করোণা মোকাবেলার জন্য বারবার শরীরের ইমিউনিটি শক্তিকে বাড়ানোর জন্য উপদেশ দেয়া হতে লাগল। কিন্তু যারা দিনের পর দিন খেতে পাইনা, ক্ষুধার জ্বালায় যারা ছটফট করে তাদের ইমিউনিটি পাওয়ার কি হাওয়া খেয়ে বাড়বে? ফলে সর্বহারা মানুষের মধ্যেই করোনা বাসা বাঁধতে লাগলো দ্রুতগতিতে।

এদিকে অর্থনীতির পতন চরম অবস্থায়। ভারতের অর্থনীতি ১৯৭৯ সালের পর সর্বনিম্ন অবস্থায় এসে ঠেকেছে। ইন্টারন্যাশনাল মনিটারিং ফান্ড এর একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে ভারতের গ্রোথ রেট ৪.৫ নেমে আসবে যা বিগত ৪০ বছরের সর্বনিম্ন। দেশজুড়ে বেকারত্বের হার বেড়েছে। যেখানে ব্রাজিলে বেকারত্ব বেড়েছে ১২.৬ শতাংশ, আমেরিকায় ১৩.৩ শতাংশ, চিন ৬ শতাংশ, সেখানে ভারতের বেকারত্ব লকডাউনের সময় বেড়েছে ২৩.৫ শতাংশ।