মুহাম্মদ নুরুদ্দিন, টিডিএন বাংলা: ২০২১ এ বিধানসভা নির্বাচন। ঘাড়ের উপর নিঃশ্বাস ফেলছে ভারতীয় জনতা পার্টি ।তাই পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি অনেকটাই সতর্ক। সরকারি পরিষেবা তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার জন্য যে পঞ্চায়েত রাজ এর ভাবনা, বামপন্থীদের দীর্ঘ শাসনে তা অনেকটাই দলীয়রাজ এ রূপান্তরিত হয়েছিল। সেই ঐতিজ্য বজায় রেখে মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের ছোট বড় দাদারা গ্রাম পঞ্চায়েতে সমানভাবে লুটের রাজ কায়েম রেখেছে। সিপিএমের কথা শুনলেই মমতা ব্যানার্জি তেলে বেগুনে জ্বলে ওঠেন। কিন্তু পঞ্চায়েত দুর্নীতিতে তার দলের স্থানীয় নেতারা যে সিপিএমের সার্থক উত্তরাধিকার বহন করে চলেছে একথা কি নেত্রী জানেননা? তারপরও রাজনীতির দায়ে বয়ে বেড়াতে হয়েছে এই দুর্নীতিকে।

সামনে বিধানসভা নির্বাচন। ভারতীয় জনতা পার্টি এবং অন্যরা আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এই দুর্নীতিকে বড় ইস্যু করতে পারে। অন্যান্য রাজ্যে সাম্প্রদায়িক তাস খেলে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া যতটা সহজ বাংলায় ততটা সহজ নয় তা বুঝেছে বিজেপি। সেইজন্যে তারা সরকারের দুর্নীতি, অপশাসন ও ব্যর্থতাকেই বড় ইস্যু করতে পারে। এই অবস্থার মোকাবেলা করার জন্য পশ্চিমবঙ্গের শাসক দলকে এখন থেকেই সতর্ক হতে হবে। হয়তো সেই কারণেই দুর্নীতি নিয়ে ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। ভুয়ো ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে টাকা ফেরাতে তারা এখন তৎপর। কিন্তু স্থানীয় দাদাদের অত্যাচার তোলাবাজি ও গুন্ডামি যে পর্যায়ে পৌঁছেছে তাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে সরকার তথা শাসক দলকে যথেষ্ট শক্ত হতে হবে। দুর্নীতির শিকড় যে কত গভীরে তা ভাবলে আঁতকে উঠতে হয়।
উম্পুনে যারা সর্বস্ব হারিয়েছে তাদের অনেকের একটাও ত্রিপল জোটেনি অথচ একই পরিবারের একাধিক সদস্য ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে এটা কিভাবে হয়? এর সঙ্গে কি শুধু পঞ্চায়েত সদস্য বা স্থানীয় নেতারা যুক্ত? তা কখনোই হতে পারে না। আধিকারিকদের সংযোগ না থাকলে কখনোই এই ধরনের দুর্নীতি করা যায় না। একই পাড়ার একই বাড়ির একই পদবীর এতগুলো নাম যখন কোন বিডিও দপ্তরে আসে তখন তো সেটা বুঝে নিতে কোনো কষ্ট হয় না। কিন্তু তার পরেও অবাধে টাকা পাশ হয়ে যায়। আর যারা ক্ষতিগ্রস্ত তারা পঞ্চায়েতের দরবারে মাথা ঠুকতে থাকে।
তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষতিগ্রস্থদের কাছ থেকে টাকা ফিরিয়ে কিছুটা চমক দিতে চাচ্ছে। কোথাও কোথাও তারা সাময়িকভাবে অপরাধীদেরকে পার্টি থেকে সাসপেন্ড করে বার্তা দিতে চাচ্ছে । কিন্তু শুধু চটকদারি রাজনীতি ও লোকদেখানো আস্ফালনে কোন কাজ হবে বলে মনে হয় না। সরকার বা দল যদি শক্ত অবস্থান গ্রহণ করতে না পারে, সমস্ত তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ ও জনগণের সম্পত্তি আত্মসাৎ করার সঙ্গে যারা জড়িত আছে তাদেরকে যথাযথ বার্তা দিতে না পারে এবং আন্তরিকভাবে যদি রাজ ধর্ম পালনের ব্যাপারে সতর্ক না হয় তাহলে মানুষের আস্থা ফিরে পাওয়া মুশকিল। তাই যারা দিনের পর দিন এই ভাবে পুকুর চুরি করে চলেছে তাদের শুধু টাকা ফিরিয়ে নিয়ে ছেড়ে দিলে হবে না বা পার্টি থেকে সাসপেন্ড করে দিলে হবে না। আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
শুধু জনপ্রতিনিধি নয়, সরকারি আধিকারিকদেরকেও ছেড়ে দিলে হবে না। কেননা, জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আধিকারিকদের গাঁটছড়া না থাকলে কখনো দুর্নীতি হতে পারে না। সেই কথা মাথায় রেখেই সরকারকে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মমতা ব্যানার্জির সামনে এটা একটা পরীক্ষা। তিনি যদি দুকুল রক্ষা করতে চান তাহলে কোন কুলই রক্ষা করতে পারবেন না। তাই তাকে এখন শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। রাজ্যবাসি তাঁর দিকে চেয়ে আছে।