মুহাম্মদ নুরুদ্দীন, টিডিএন বাংলা: ১৮৫৭ সালের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামে নানা ফড়নবিশ একটি উল্লেখযোগ্য নাম। তাঁর বাল্য নাম ছিল ধুন্ধুপন্থ। তিনি ছিলেন মারাঠা পেশোয়া দ্বিতীয় বাজিরাও এর পালিত পুত্র। দ্বিতীয় বাজিরাও ছিলেন ইংরেজদের একান্ত অনুগত। তার কোন পুত্র সন্তান না থাকায় মৃত্যুর সময় তিনি নানাসাহেব কে তার ভাতা প্রদান করার জন্য ইংরেজদেরকে অনুরোধ করে একটি পত্র লিখে যান। কিন্তু ইংরেজরা নানাকে ভাতা দিতে অস্বীকার করে। নানাসাহেব আজিমুল্লাহ খান নামক এক যুবককে ইংল্যান্ডে প্রেরণ করেন তার হয়ে সুপারিশ করার জন্য। কিন্তু ইংরেজরা আজিমুল্লাহ কেও ফিরিয়ে দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নানাসাহেব ইংরেজবিরোধী লড়াইয়ে যোগদান করেন। তিনি লোকজন সংগ্রহ করে কানপুর আক্রমণ করেন ও ইংরেজদের হাত থেকে কানপুর পুনরুদ্ধার করে নিজেকে সেখানকার শাসক হিসেবে ঘোষণা করেন। কিন্তু তার এই অবস্থান বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। ব্রিটিশরা শক্তি সঞ্চয় করে আবার কানপুর আক্রমণ করলে তিনি পরাজিত হন ও নেপালে পালিয়ে যান। ১৮৫৯ সালে নেপালে তার মৃত্যু হয়।
আজিমুল্লাহ খান (১৮৩০-১৮৫৪)
আজিমুল্লাহ খান ছিলেন অতি দরিদ্র্য কিন্তু অসাধারণ প্রতিভা সম্পন্ন এক যুবক। ১৮৩০ সালে কানপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। পরে তিনি নানা সাহেবের উপদেষ্টা নিযুক্ত হন। ইংরেজরা যখন দ্বিতীয় বাজিরাও এর দত্তক পুত্র নানাসাহেব কে ভাতা দিতে অস্বীকার করল তখন তার হয়ে দরবার করতে আজিমুল্লাহ লন্ডন পাড়ি দেন। সেখানে গিয়ে তিনি ইংরেজদের ভারত বিদ্বেশ সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা লাভ করেন। সেখান থেকেই তিনি ইংরেজদের হাত থেকে ভারতকে স্বাধীন করার পরিকল্পনা করতে থাকেন। নানাসাহেবকে চিঠি দিয়ে তিনি জানিয়ে দেন, যেকাজে এসেছিলাম সে কাজ যখন হলো না তখন ইংরেজদের শিকড়সহ উপড়ে ফেলার ব্যবস্থা করে তবেই যাব। ঐতিহাসিক ডক্টর সুরেন্দ্রনাথ সেন আজিমুল্লাহ খান সম্পর্কে তার এইটিন ফিফটি সেভেন বইতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন। আজিমুল্লাহ ইংল্যান্ড থেকে তুরস্ক, সেখান থেকে রাশিয়া ও মিশর সফর করে ভারতে ফেরেন। ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়তে গেলে যে আন্তর্জাতিক শক্তির প্রয়োজন সেই বিষয়ে পরিকল্পনা করাই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য। এই প্রতিভা সম্পন্ন যুবকের অসামান্য কৃতিত্ব হচ্ছে নানাসাহেব কে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলা ।সিপাহী বিদ্রোহে ইংরেজদের নাস্তানাবুদ করা। কিন্তু মাত্র ২৫ বছর বয়সে ১৮৫৮ সালে নেপালে তার মৃত্যু হয়।