ষাটজন কৃষকের মৃত্যুর দায় সরকার এড়াতে পারেনা

মুহাম্মদ নুরুদ্দীন, টিদিএন বাংলা: দিল্লীতে কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে যে আন্দোলন চলছে তা শুধু ষাট দিন অতিক্রম করল তাই নয়। সেই সাথে সাথে ঝরে পড়ল ষাটটি তাজা প্রাণ। ষাট জন কৃষকের প্রাণের কী কোন দাম নেই? সরকার বলছেন, এই কৃষকরা ভুল করছে। তাদেরকে ভুল বোঝাচ্ছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। যদি তা সত্যিও হয় তাহলে তো সরকারের উপর অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপে। বিরোধীরা যদি কাউকে ভুল বোঝাতে পারে তাহলে ঠিক বোঝানোর দায়িত্বতো সরকারের। সরকার সে ব্যাপারে চরম উদাসীন কেন? সরকার সবকিছু গায়ের জোরে চাপিয়ে দিতে চায় কেন? কৃষকদের জমি পুঁজিপতিদের হাতে তুলে দেওয়া ও তাদের ইচ্ছা মত জমি চাষ করতে বাধ্য হওয়া তো কৃষকদের স্বার্থেই। স্বাধীনতার থেকে দাসত্বতো অনেক কল্যাণের । কৃষকরা এই সহজ কথাটা বুঝতে পারছেনা এটাই চরম আশ্চর্যের। চুক্তি সব সময় দুই বা তার অধিক পক্ষের মধ্যে হয়। পুঁজিপতিদের স্বার্থে একপেশে চুক্তির যে বন্দোবস্ত কেন্দ্রীয় আইনে করা হয়েছে কৃষকরা তা মানবেনা কেনো এটাই কেন্দ্রের প্রশ্ন। সরকার বারবার তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসছে কিন্তু নিজেদের অবস্থান থেকে নড়ছে না। শুধু অভিযোগ করা হচ্ছে কৃষকরা বোঝেনা।
প্রশ্ন জাগে কৃষকরা কী এতই বোকা যে নিজের ভালো মন্দ নিজেরাই বোঝেনা? কোন আন্দোলনের পিছনে কতটা মানসিক শক্তি থাকলে প্রাণ গেলেও ময়দান ছাড়তে রাজী হয়না সেই আন্দোলনকারীরা সেটা কি সরকারের জানা নেই।
এতদিন পর্যন্ত এ আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ভাবে চলছে সে কৃতিত্বও কৃষকদের। সরকার তাদের আন্দোলন ভাঙতে এই শীতের সময় কখনো জলকামান, কখনো সাপ্লাই লাইন বন্ধ করার চেষ্টা করেছে। কৃষকরা কোন প্ররোচনায় পা না দিয়ে শান্তিপূর্নভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।সেটাও কম নয়।এখনই কেন্দ্রীয় সরকার যদি এই কৃষি আন্দোলনের ব্যাপারে মনোযোগ না দেয় এবং সকলের জন্য গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করতে সফল না হন তার দায় থেকে কেন্দ্রীয় সরকার মুক্ত হতে পারবেনা।