মহম্মদ ঘোরী শাহ, টিডিএন বাংলা : ভারতীয় রাজনীতির ভিতর এবং বাহির উভয়ক্ষেত্রে যে একটা বিবর্তন শুরু হয়েগেছে তার ইংগিত আর প্রকাশ হতে বাকী রইল না। উন্নয়নের স্থানে আবেগ, সৃষ্টির স্থানে ধংশ এবং অধিকারের স্থানে অনধিকার সগৌরবে জুড়ে বসছে। তার প্রয়োগ যে পশ্চিমবঙ্গেও হতে চলছে এটা বলা যেতেই পারে।বিষয়টা এই রূপকচিত্রটাকেই মনেকরিয়ে দেয়।

স্নেহশীল পিতা পুত্রকে কাঁধে চড়ালেন। কিন্তু একি কাণ্ড? পুত্র যে ইঁচড়ে পাকা তিনি ভাবতেই পারলেন না। ফলত কাঁধে বসানোর জন্যই কান মলা খেতেই হল। যদি এভাবে চলতে থাকে পুত্র যখন লায়েক হবে বৃদ্ধ পিতার কানের অবস্থা কি যে হবে তা এখনিই ভাবার বিষয়।

গনতন্ত্রে জনগন পিতা স্বরূপ,আর রাজনীতি পুত্রবৎ। গনস্নেহই ক্ষমতা অর্জনের চাবিকাঠি। তাহলে ঐ রূপা গাঙ্গুলীর ঐ বিশেষ স্বক্ষমতা গুলো অর্থাৎ এ কে ৪৭ চালানো পারদর্শীতার ঘোষনা বা অমিত শাহের এক হাতের বদলে দহাত ভাঙার হুঙ্কার এ কোন ধরণের রাজনীতি? এতো ভারতীয় রাজনীতির ঐতিহ্যের সঙ্গে মিলল না।

ভারতীয় রাজনীতির একটা সম্ভ্রম আছে, তা হল অহিংসবাদ। কিন্তু বাংলায় অঙ্কুরিত এ রাজনীতি তো রাজনীতি বলে মনে হল না, এ যেন সন্ত্রাসীদের রণহুঙ্কার। তাহলে কি আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচন অন্যরকম হতে যাচ্ছে? এমনিতেই নির্বাচনে রক্তের দাগ লেগেই থাকে, তার উপর যদি একে ৪৭ বা রিভলবার বা এর প্রত্যয় ব্যবহার হয় তবে অবস্থা কোথায় দাঁড়াবে তা ভাবার বিষয়।

তাই স্নেহপ্রবনতা ভাল কিন্তু এই প্রবনতায় অন্ধত্ব ভালো নয়। সচেতন নাগরিক মর্যাদার কর্ণ দুটি অক্ষত রাখতে লায়েক হওয়ার পুর্বেই ঝাঁকুনি দিয়ে পুত্রকে মাটিতে নামিয়ে ফেলাই মঙ্গল নয় কি?