ভোল বদলাচ্ছে গান্ধিজির সবরমতী আশ্রম! প্রতিবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি

টিডিএন বাংলা ডেস্ক : ছাপোষা ভাবে জীবন কাটিয়েও স্বাধীনতা সংগ্রামের মত কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়া যায়। তা প্রথম প্রমাণ করেছিলেন জাতির জনক মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধি। তার সেই অনাড়ম্বর জীবনের প্রতিরূপ সবরমতী আশ্রম। ওই আশ্রমের জায়গায় তৈরি হতে চলেছে সংগ্রহশালা! গুজরাত প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত মানতে পারেননি রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলত। প্রতিবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিলেন তিনি।

ঐতিহাসিক আশ্রমকে ঢেলে সাজাতে ১২০০ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। গেহলত টুইটারে লিখেছেন, “মহাত্মা গান্ধি কীভাবে অনাড়ম্বর জীবন কাটাতেন, তা দেখতেই এই আশ্রমে মানুষ আসেন। সেই আশ্রম ভেঙে মিউজিয়াম তৈরির সিদ্ধান্ত অকল্পনীয়। অগ্রহণযোগ্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উচিত বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে আশ্রমকে রক্ষা করা।” রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীর আরও দাবি, সাধারণ মানুষ এখানকার সরলতা দেখতে আসেন। তাই এটাকে আশ্রম বলা হয়। মিউজিয়াম নয়। এখানে কখনোই মানুষ বিশ্বমানের বিল্ডিং দেখতে আগ্রহী হবেন না। এই আশ্রমের পবিত্রতা ও সম্মান নষ্ট করা জাতির জনকের অপমান। মনে হচ্ছে গান্ধিজির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব কিছুকে বদলে ফেলার রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র চলছে।

শুধু গেহলত নন। গুজরাত সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন ১৩০ জন বুদ্ধিজীবী। এদের মধ্যে রয়েছেন ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ, প্রাক্তন বিচারপতি এপি শাহ, লেখিকা নয়নতারা সেহগাল প্রমুখ। তাদের বক্তব্য, আশ্রমের সরলতাই এখানকার সৌন্দর্য। এখানে প্রজেক্ট করলে দুই শতাধিক পরিবার বাস্তুহারা হবে।