২০বছরেও মেলেনি সরকারি ঘর, অসহায় লছিমুদ্দিনকে ঘর করে দিচ্ছেন গ্রামের শাজাহান মন্ডল

নিজস্ব প্রতিনিধি, টিডিএন বাংলা, করিমপুর: থাকার ঘর নেই। কোথায় থাকবেন? কি করবেন কিছুই ভেবে পাচ্ছিলেন না বছর ছেষট্টির অসহায় বৃদ্ধ। বর্ষায় ধসেছে মাটির দেওয়াল। ভেঙে পড়েছে টালির চাল। ২০ বছর ধরে একটা পাকা ঘর চেয়ে আসছিলেন অন্ত্যদয় তালিকাভুক্ত লছিমুদ্দিন সেখ। কিন্তু জনপ্রতিনিধিরা সেই আবেদনে সাড়া না দিলেও অবশেষে তার পাশে দাঁড়ালেন গ্রামেরই এক ব্যবসায়ী। তার নাম শাজাহান মন্ডল। নিজে দায়িত্ত্ব নিয়ে লছিমুদ্দিনের ঘরের সব খরচ করছেন তিনি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে থানারপাড়ার দোগাছি মিয়া পাড়ার লছিমুদ্দিন সেখের অসহায়ত্বের খবর। খবর পান ডোবা পাড়ার ইঁটের ব্যবসায়ী শাজাহান মন্ডল। আর তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন একটা ঘর করে দেবার। এখন প্রায় আশি হাজার টাকার বাজেট ধরে সেই কাজটাই শুরু করেছেন তিনি। ঘর হওয়ায় খুশি লছিমুদ্দিন সেখ জানান, একটা ঘর কবে হবে সেই চিন্তায় স্ত্রী গত হয়েছে ওই ভাঙা মাটির ঘরে থেকে। এবার অন্তত মরার আগে পাকা ঘরে তো শুতে পাব। শাজাহান মন্ডল কাজটি করলেও তিনি প্রচারের আলোয় আসতে চাননি। বরং তিনি বলছেন, নামের জন্য তিনি কাজটি করেননি। গ্রামের একজন মানুষ হিসেবে আমার দায়িত্বটুকু পালন করেছি মাত্র। এটা ওর প্রাপ্য অধিকার।
এভাবে অসহায় বৃদ্ধ লছিমুদ্দিনের পাশে দাঁড়ানোয় শাজাহানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ গোটা গ্রাম। প্রতিবেশী গোলাম সেখ বলেন, অনেকদিন থেকেই লোকটার ঘরের ওই হাল দেখে গ্রামের ভাটা মালিক ঘরটা করে দিচ্ছেন দেখে ভাল লাগছে। উনি এভাবেই অনেক অসহায় মানুষেরই উপকার করেন। শাজাহানের মত উদারমনের মানুষরা যদি এভাবে দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ায় তাহলে আর কেউ অভাবী থাকার কথা নয়। ধোড়াদহ-২ পঞ্চায়েত সদস্য মাইনুল মন্ডল বলেন, ওনার ঘরের জন্য অনেক চেষ্টা করেছি। এবার নতুন লিস্টে নামও এসেছে। সমাজসেবী শাজাহান মন্ডল ভালো উদ্যোগ নিয়ে পাকা দেওয়ালের উপর টিন দিয়ে ঘরটা করে দিচ্ছেন। এবার নতুন ঘরের টাকা পেলে ছাদটাও হয়ে যাবে।