রাতারাতি কন্টেনমেন্ট জোন হাথরাসের নির্যাতিতার গ্রাম! ভয় দেখিয়ে ঘেরাও করল যোগীর পুলিশ, ঢুকতে বাধা সাংবাদিকদেরও

টিডিএন বাংলা ডেস্ক: যেভাবে রাতারাতি নির্যাতিতার শবদেহের অন্তিম সৎকার করা হয়েছিল, ঠিক সেভাবেই রাতারাতি “কনটেনমেন্ট জোন” ঘোষণা করা হলো হাতরাসের বুলগড়ী গ্রামকে। নির্যাতিতার বাড়ি থেকে মাত্র ২০০ কিলোমিটার দূরে একটা মাঠের মধ্যে কোনরকম হিন্দু নিয়মের তোয়াক্কা না করে ডিজেল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়ার পর এবার ছাই চাপা দেওয়ার প্রচেষ্টায় ব্যস্ত যোগী সরকারের পুলিশ। হাতরাসের নির্যাতিত তরুনীর গ্রাম বুলগড়ীকে রাতারাতি দুর্গ বানিয়ে ফেলা হলো। বলা হয়েছে, গ্রামের ভেতরে প্রহরারত তিন পুলিশকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাই গোটা গ্রাম এখন কনটেনমেন্ট জোন। বিরোধী দলনেতা তো বটেই, এমনকি সংবাদমাধ্যমকেও গ্রামের ভেতরে ঢুকতে বাধা দিচ্ছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে গোটা গ্রাম ঘিরে এক দুর্ভেদ্য দুর্গ তৈরি করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। না কেউ ভেতরে যেতে পারবে আর না কেউ বাইরে আসতে পারবে।

কারণ জিজ্ঞাসা করলে উত্তর একটাই। করোনা মহামারির প্রভাব। আর নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে, বা, এ প্রসঙ্গে কোন প্রশ্ন করলে উত্তর প্রদেশের পুলিশের মুখে একটাই জবাব। “তদন্ত চলছে।” কখনো উপেক্ষা করার জন্য কিংবা কখনো শাশানি দিয়ে ওই একই বার্তা দিনভর শুনিয়ে যাচ্ছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।

গতকাল, রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী দিল্লি থেকে হাথরাসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে গিয়ে মাঝপথে নয় রাতে পুলিশের কাছে বাধা পান। আটক হন। এমনকি রাহুল গান্ধী ও ১৫০ জন কংগ্রেস কর্মীর বিরুদ্ধে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ মহামারী আইনে মামলাও রুজু করেছে। যদিও তাতে থেমে যায়নি কংগ্রেস। পাল্টা লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছে যোগী সরকারকে। উত্তরপ্রদেশে যোগী জমানায় দলিত ও নারী নির্যাতনই এখন বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধীদের মূল অস্ত্র। ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভের জেরে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে সরাসরি ফোন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তারপরই এই ঘটনার তদন্তের জন্য তড়িঘড়ি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা সিট গঠন করেছে যোগী সরকার।

যদিও এই পদক্ষেপে মোটেও ক্ষান্ত হননি বিরোধীরা। উত্তরপ্রদেশের দলিত কন্যাদের ওপর হয়ে চলা একের পর এক অপরাধমূলক দুষ্কর্মের ঘটনাকে হাতিয়ার করে সোচ্চার হয়েছেন একে একে মায়াবতী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, অখিলেশ যাদবরা। যোগী সরকার কে কটাক্ষ করে মায়াবতী বলেছেন,”যোগীকে গোরক্ষনাথের মঠে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হোক। না হলে অযোধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর পদে কোনও দক্ষ ব্যক্তি দরকার।” যোগী সরকারকে হিন্দু ধর্মের কাঁটাতেই বিদ্ধ করে প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বলেছেন,”নিজেদের যারা হিন্দু ধর্মের রক্ষাকর্তা বলে, তারাই একজন বাবাকে মেয়ের চিতাও জ্বালাতে দেয়নি!”অপরদিকে, গোটা গ্রাম ঘিরে ব্যারিকেড দেওয়া যোগী সরকারের পুলিশ বাহিনীকে সরাসরি সামনাসামনি চ্যালেঞ্জ করে ব্যারিকেডের ঠিক পাশেই গলা ফাটিয়ে ধরনায় বসেছেন অখিলেশ যাদবের মাঝারি মাপের নেতা কর্মীরা। মাঝেমাঝেই পুলিশের নজর এড়িয়ে গ্রামে মধ্যে ঢোকার চেষ্টা করছেন তাঁরা। আর লাগাতার স্লোগান দিয়ে চলেছেন,”উত্তর প্রদেশে পুলিশের জোর-জুলুম চলবে না।”(ইউপি পুলিশ কি তানাশাহি নেহি চলেগা।)

গ্রামের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন দিল্লির নির্ভয়ার আইনজীবী সীমা সমৃদ্ধি কুশওয়াহা। গ্রামের ভেতর ঢুকতে চাইলে পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে রীতিমতো বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। জোড়ালো আওয়াজে তিনি বলেন,”আমাকে আটকানোর অধিকার আপনাদের নেই। যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশই এ সব হচ্ছে।” যদিও তার পরেও ব্যারিকেড খুলে ঢুকতে দেওয়া হয়নি তাঁকে।