২০০ কোটি টাকার জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তার ২৫১ টাকায় স্মার্ট ফোনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া মোহিত গোয়েল

টিডিএন বাংলা ডেস্ক: ফের জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তার ২৫১ টাকা মূল্যের সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি “ফ্রিডম ২৫১” স্মর্টফোন কোম্পানির মোহিত গোয়েল। এম বি এ পাস করা মুহিতের ওপরে প্রায় ২০০ কোটি টাকার জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘দুবাই ড্রাই ফ্রুটস অ্যান্ড স্পাইসেস হাব’ নামে একটি কোম্পানি খুলে ব্যবসা শুরু করেছিলেন মোহিত। ব্যবসা প্রথমদিকে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ব্যবসায়ীদের আস্থা জিততে অর্ডার হাতে পাওয়ার আগেই টাকা মিটিয়ে দিতেন তিনি। তবে পরিচিতি তৈরি হয়ে গেলেই নেট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে ৪০% টাকা দিয়ে পুরো অর্ডার আনিয়ে নিতেন। আর বাকি টাকার জন্য চেক লিখে দিতেন কিন্তু ব্যবসায়ীরা ওই চেক ভাঙ্গাতে গেলে তা বাউন্স করত। এধরনের প্রায় চল্লিশটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে মোহিতের বিরুদ্ধে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, রাজস্থান, দিল্লি, কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং আরও একাধিক রাজ্যে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এ ধরনের জালিয়াতি করেছেন তিনি। তদন্তে নেমে পুলিশ আরো জানতে পারে, সেক্টর ৬২-এর কোরেন্থামের কাছে মাসিক ৩ লক্ষ টাকায় একটি অফিস ভাড়া নিয়ে আরও তিন চার জনের সঙ্গে মিলে ব্যবসা চালানো শুরু করেন মোহিত। নিজের কর্মীদের মধ্যে ফ্রন্ট অফিসের কাজকর্ম চালানোর জন্য তিনজন বিদেশি নাগরিককেও নিয়োগ করেছিলেন তিনি। এহেন মোহিত এবং তাঁর সহযোগীদের কর্মকাণ্ডের ওপর লাগাতার নজর রাখছিল পুলিশ। শেষ পর্যন্ত রবিবার মোহিত এবং তাঁর পাঁচ সহযোগীকে নয়ডার সেক্টর ৫১-র মেঘদূতানম পার্কের কাছ থেকে গ্রেফতার করে নয়ডা পুলিশ। গ্রেফতারের পর মোহিত এবং তাঁর সহযোগীদের কাছ থেকে একটি অডি ও দুটি অন্য গাড়ি, ৬০ কেজি ড্রাই ফ্রুট এবং বহু নথি উদ্ধার করে পুলিশ।

এর আগেও স্মার্টফোন নিয়ে জালিয়াতি কাণ্ডে গ্রেফতার করা হয়েছিল মোহিতকে, কিন্তু সে সময় আদালত থেকে গ্রেফতারির ওপর স্থগিতাদেশ পেয়ে যাওয়ার কারণে এতদিন জেলের বাইরে কাটাচ্ছিলেন মোহিত। নয়ডার অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (আইন শৃঙ্খলা) লভ কুমার জানিয়েছেন, অধিকাংশ সময় প্রতারিত ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধেই অপরাধ আইনে ভুয়ো মামলা ঠুকতেন মোহিতরা। সাজানো ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকদের দিয়ে হুমকিও দেওয়াতেন তিনি প্রতারিত ব্যবসায়ীদের।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে মোহিতের সাথেই সুমিত যাদব, প্রবীণ সিংহ নির্বাণ, রাজীবকুমার ওরফে মুরসাফিল লস্কর এই জালিয়াতি চক্রে শামিল ছিলেন। ওম প্রকাশ জাঙ্গির নামে এক ব্যক্তিকে ভুয়ো ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে সাজিয়ে পরিচালনা করা হতো এই জালিয়াতি চক্র। পুলিশ ওম প্রকাশ জাঙ্গির নামে ওই ব্যক্তিকেও গ্রেফতার করেছে।