মেঘের বাড়ি

শ্যামাপ্রসাদ ঘোষ

মেঘের বাড়ি যাব পাখি
আমায় নিয়ে যাবি?
পাখি আমায় নিয়ে যাবি?

আমায় নিয়ে দূরের দেশে
যাবি যখন ভেসে ভেসে
দেখবি তখন মনের মতো
একটা সঙ্গী পাবি।

এই যে আমি এখানে এই
হলুদ বাড়ির ছাদে,
পাশে একটা নিমের গাছে
পাখিরা  নীড়  বাঁধে,

আয় না পাখি বোস না ডালে তুই
হাত বাড়িয়ে তোর দু ডানার
পালকগুলো  ছুঁই।

শুনেই পাখি বসল এসে
এবং আমায় দেখে,
বলল, কী লাভ  হলো বল তো
এমন পিছু ডেকে?

আমি বললাম, দুর হাঁদারাম!
বন্ধু যদি ডাকে,
চলার পথে কারোর কোনো
ক্ষতির শঙ্কা থাকে?

পাখি বলল,বাদ দে ওসব
ডাকলি কেন বল,
নইলে আবার হেঁকে ডেকে
করবি রসাতল!

আমি বললাম, সঙ্গে যাব
আমাকে তুই নিবি?
যাব আমি মেঘের বাড়ি
আমায় পৌঁছে দিবি?

আমার বন্ধু টুসকি, ভোলা
কষ্ট খুবই  ওদের
বড়ো বাড়ির জন্যে ওরা
পায় না দেখা রোদের।

মেঘের  ভিতর বিজলি আছে
রোদের চেয়ে ভালো,
মেঘের বাড়ি গিয়ে আমি
আনব চেয়ে আলো।

পাখি বলল, বুদ্ধু ছেলে,
কেমন করে যাবি ?
ডানা ছাড়া উড়লে, পড়ে
ভীষণ ব্যথা পাবি।

আমি বললাম, আগেই বকে!
কথাটা শুনবি তো,
বলতে তো দে, তুই তো আমার
নোস অপরিচিত।

আজ আমাকে মেঘের পরি
কখন যেন এসে,
দিয়ে গেছে তার দু ডানা
হয়তো  ভালোবেসে।

পাখি বলল, আন তো গিয়ে
দেখা তো, কই দেখি!
ওমা! এত ছোট্ট ডানায়
শরীরটা ভাসবে কি?

তার চে বরং তালের পাতা কেটে
কাঁচি দিয়ে ধার গুলোকে ছেঁটে,
নিজের হাতে দুটি ডানা
তৈরি করে রাখিস,

তারপরে কাল সকাল হলে
আমাকে তুই ডাকিস।
আমি বরং ছড়িয়ে ডানা
নীল আকাশে ভেসে,

মাঝ বেলাতে পৌঁছে গিয়ে
মেঘ পরীদের দেশে,
গিয়ে বলি, বন্ধু আমার
আসবে মেঘবতী,
কালকে নিয়ে আসব ,তুমি
দাও তো অনুমতি।

আমি বলি, ঠিক তো পাখি
আমায় নিয়ে যাবি?
যাবি, নিয়ে যাবি?
এই এখানেই থাকব আমি
ঠিক এখানেই পাবি।

পাখি তখন অনেক দূরে
চারদিক নিজ্ঝুম,
ঠিক তখনই কাছে এসে
ভাঙিয়ে দিয়ে ঘুম – –

দিদি বলল, কী রে সামু
স্বপ্ন দেখিস বুঝি?
স্বপ্নে উড়ে আকাশপুরে
মেঘের বাড়ি খুঁজিস?

বুঝেছি তোর স্বপ্ন দেখার
কারণ ,কেন, কি তা
কাল শুনেছিস আমার থেকে
মেঘের আবৃত্তি টা,

শুভ বাবুর ‘মেঘ বলল ‘
পদ্য টাকে শুনে,
রাত্রে ঘুমে তুই ফেলেছিস
স্বপ্নের জাল বুনে।

শুভ বাবু, শোনো, তোমার
‘মেঘ বলল’ পদ্য
শুনে আমার ভাই যাচ্ছে
মেঘের বাড়ি অদ্য।

দেশবন্ধু নগর
ধুবুলিয়া, নদিয়া