সিদ্দিক হাসান ছিলেন যুব সমাজের অনুপ্রেরণা : সাদাতুল্লাহ হুয়াসাইনি

টিডিএন বাংলা, নিউ দিল্লি : প্রফেসর কে এ সিদ্দিক হাসানের প্রয়াণে জামাআতে ইসলামী হিন্দের সর্বভারতীয় সভাপতি সাইয়েদ সাদাতুল্লাহ হোসাইনী সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন সিদ্দিক হাসান ছিলেন যুব সমাজের অনুপ্রেরণা।

৬ এপ্রিল সিদ্দিক হাসান পরলোক গমন করেন। তিনি কেরালার অধিবাসী ছিলেন। জামাআতে ইসলামী হিন্দের কেরালা প্রদেশের সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জামাআতের সর্বভারতীয় স্তরে সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। হিউম্যান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন নামক একটি এন জি ওর তিনি প্রথম জেনারেল সেক্রেটারি হন। এই এনজিও-র স্বপ্নদ্রষ্টা তিনিই ছিলেন। কেরালার ‘দৈনিক মাধ্যমম’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠা তাঁরই হাত দিয়ে হয়।
স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে সাদাতুল্লাহ হোসাইনী বলেন, ‘‘গতিময়তা, উদ্যোগ গ্রহণ, সাহস, কর্মচাঞ্চল্য, নিঃস্বার্থপরতা, উন্নত মনোবল, প্রতিভা-দক্ষতার প্রয়োগ ও পরিকল্পনা এবং দূরদর্শিতা, দীর্ঘমেয়াদী ভিশন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নতুন পথের সন্ধান এসব গুণ ছিল সিদ্দিক হাসানেরর চরিত্রে ও ব্যক্তিত্বে। তারকাখচিত এই ব্যক্তিত্বের মধ্যে বিরল গুণগুলি শোভিত ছিল। এইসব গুণগুলো যারা এই কাজে যুক্ত তাদেরকেও সমৃদ্ধ করেছে।
‘দৈনিক মাধ্যমম’ পত্রিকা মালায়লি ভাষায় সত্য ও ন্যায়ের কণ্ঠস্বর হিসাবে নতুন ইতিহাসের মধ্যে গণ্য হয়েছে, যার প্রতিষ্ঠায় তিনি প্রয়াস চালিয়েছিলেন। মিডিয়ার জগতে এই পত্রিকা নতুন আশার বাণী শুনিয়েছে। অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট এন্ড ক্রেডিট লিমিটেড –সুদহীন মাইক্রোফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠান হিসেবে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এই দেশে। যার প্রতিষ্ঠায় সিদ্দিক হাসান সাহেবের স্বহস্ত কাজ করেছে। উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে শক্তিশালী করতে হিউমান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের অবদান সুবিশাল। সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্বের আবেশ সৃষ্টিতে এই এনজিওটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানের রূপ নিয়েছে। তিনি অসম্ভবকে সম্ভব করার শৈলী জানতেন। ২২ বছর ধরে আমার সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক ছিল। আমি দেখেছি লোকেরা এমন সব পরিকল্পনা নিয়ে আসতেন, যেগুলির বাস্তবায়ন অসম্ভব মনে হত। কিন্তু তার ছোঁয়ায় সব সম্ভব হয়ে উঠত। প্রতিভাধর ও গুণসম্পন্ন যুবকদের তিনি অনুপ্রাণিত করতেন, আর সারা দেশে ছড়িয়ে দিতেন। প্রতিভাকে চিহ্নিত করা এবং প্রতিভা সম্পন্ন ব্যক্তিকে কাজের ময়দানে সচল করার গুণটি অনুপম। এই জন্য তিনি তাদের হৃদয়কে জয় করেছিলেন।
ইসলামী সংগঠনের কাজে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখার জন্য সিদ্দিক হাসান লোকদের তৈরি করেছিলেন। এর ফলে ইসলামের স্বার্থে তাদেরকে সুনিশ্চিত ভাবে কাজে লাগানো হয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের আমাকে পরিচিত করার মূলে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। এসআইও থেকে অবসর নেওয়ার পর যখন আমি পেশার অনুসন্ধানে ব্যপৃত ছিলাম, তিনি ‘ভিশন’ এর টিমে আমাকে নিযুক্ত করেন। অনেক কাজ তিনি সেই সময় আমাকে দেন। কেন্দ্রীয় স্তরে আমি কাজ করি –তিনি বড় আশা করেছিলেন। সুদৃঢ়তা, কর্তব্যনিষ্ঠা, ব্যাবস্থাপনা, গতিশীলতা এবং সুন্দর ব্যবহার তার কাছ থেকে পেয়েছিলাম।
দীর্ঘ অসুস্থতার জন্য তিনি জনজীবনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারেননি। তবে তার উপস্থিতি আমাদের উৎসাহ যোগাত। তার ইতিহাস ভবিষ্যত প্রজন্মকে উৎসাহ যোগাতে থাকবে। অসংখ্য সংগঠনের প্রতিষ্ঠায় তিনি সহায়তা করেছেন। অগণিত মানুষ যেগুলির মধ্যে নিযুক্ত রয়েছেন, তাদের তৈরি করতে তিনি সহায়ক ভূমিকা পালন করেন।