সুস্থ্য সমাজ গঠনের প্রচেষ্টায় ‘নিস্পলক’

নিজস্ব সংবাদ, টিডিএন বাংলা : কৃষক, দলিত, আদিবাসী, সংখ্যালঘু সমাজ স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও নিজ দেশে সাংবিধানিক অধিকারের জন্য সংগ্ৰাম করে চলেছে। ‘নিষ্পলক’ পত্রিকা সমাজের, দেশের বঞ্চিত শ্রেণির কথা বারে বারে তুলে ধরার চেষ্টা করে চলেছে। এবারের ‘দলিত জীবন ও সংগ্ৰাম (২)’ সেই জীবনের কোলাজ। এক মনোঞ্জ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হলো ‘দলিত জীবন ও সংগ্ৰাম (২)’। উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও পশ্চিম বঙ্গ দলিত আকাদেমির সভাপতি মনোরঞ্জন ব্যাপারী, মনোহর মৌলি বিশ্বাস, মুকুল বৈরাগ্য, কল্যানী ঠাকুর চাড়াল, অনন্ত আচার্য, মৃন্ময় প্রামানিক, আশীষ হীরা, কনিষ্ক চৌধুরী, অশোক চট্টোপাধ্যায়, অমিতাভ চক্রবর্তী, গালিব ইসলাম, কার্তিক চৌধরি, বিনোদ কুমার, প্রেম বাহাদুর মানঝি সহ বিশিষ্টজনরা। এবারের সংখ্যায় তেরটি বিশেষ প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশ সহ ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের দলিত লেখকের জীবন সংগ্ৰাম ও দলিত চেতনার কথা লিপিবদ্ধ হয়েছে। রোহিত ভেমুলার মৃত্যু পরবর্তী ছাত্র আন্দোলন, দলিত সাহিত্যের সামনে চ্যালেঞ্জ, দলিত নাটক সহ নানা প্রবন্ধ। নির্ভীক দৃষ্টিপাতে উঠে এসেছে হ্যাঁ বৈদিক ও না বৈদিকের ইতিকথা। নতুন বিভাগ দখিনা হাওয়ায় এসেছে বিশিষ্ট দলিত লেখিকা অনীতা ভারতীর সাক্ষাৎকার। এছাড়া অন্যান্য বিভাগ বিজ্ঞান ভাবনা, তথ্যানুসন্ধান, ক্রীড়া বিভাগ ইত্যাদি। অধ্যাপক কার্তিক চৌধরির সম্পাদিত গ্ৰন্থ ‘বাবা সাহেব আম্বেদকর ও আজকের ভারত’ গ্ৰন্থটি পশ্চিমবঙ্গে আনুষ্ঠানিক প্রকাশিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে দিল্লির সীমানায় আন্দোলন রত কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে এক মিনিট শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। ‘নিষ্পলক’ পত্রিকার তরফে বিশিষ্ঠ গুণীজনদের বিশেষ সম্মান জানানো হয়। সভায় মনোরঞ্জন ব্যাপারী তার দলিত অতীত জীবনের কথা তুলে ধরেন।

দ্বিতীয় পর্বে আলোচনায় “ভারতের স্বাধীনতার ৭৫ বছর: দলিত সাহিত্য ও রাজনীতি” বিষয়ে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক মৃন্ময় প্রামানিক। তিনি তাঁর বক্তব্যে বর্তমান সময়ে কেন দলিত সাহিত্য চর্চা বেশি প্রয়োজন তা তুলে ধরেন। দলিত মানুষের আজও দেশের নাগরিকত্ত্বের প্রমাণ দিতে হয়। তাদের সামাজিক, রাজনৈতিক অধিকারের জন্য প্রান দিতে হয়। দলিত রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে নাগরিক হয়ে না উঠলে তারা ভারতের প্রকৃত নাগরিক হতে পারবে না। সবশেষে অনুষ্ঠানের সভাপতি মনোহর মৌলি বিশ্বাসের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শেষ হয়। সমগ্ৰ অনুষ্ঠানকে সূচারু ভাবে পরিচালনা করেন পশ্চিমবঙ্গ দলিত আকাদেমির সহ সভাপতি আশীষ হীরা মহাশয়।