টিডিএন বাংলা ডেস্ক: স্বাধীনতাপন্থী একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করলো হংকং। ২১ বছর আগে যুক্তরাজ্য শহরটির নিয়ন্ত্রণ চীনের হাতে ছেড়ে দেওয়ার পর প্রথমবারের মতো সেখানে হংকং ন্যাশনালিস্ট পার্টি নামের একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন তার সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনও ছাড় না দেওয়ার ব্যাপারে জোরালো অবস্থান নেওয়ার পর এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে হংকং।

১৯৯৭ সালে হংকংকে চীনের কাছে হস্তান্তর করে ব্রিটেন। চীনের অধীনস্ত হলেও সাবেক এই ব্রিটিশ উপনিবেশটির মৌলিক আইন সম্বলিত একটি সংবিধান রয়েছে, যার মাধ্যমে আধা সায়ত্ত্বশাসিত অঞ্চলটিতে কিছু সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। গত অর্ধশতকের বেশি সময় ধরে চলা চীনের ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ নীতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ওই সংবিধান। তবে আধা-সায়ত্ত্বশাসিত অঞ্চল হংকং মত প্রকাশের স্বাধীনতাসহ কিছু বিষয়ে মূল ভূখণ্ডের চেয়ে অপেক্ষাকৃত বেশি স্বাধীনতা ভোগ করে থাকে। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তবে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর অধীনে সেখানে দিনকে দিন ভিন্নমত দমনের প্রচেষ্টা জোরদার হচ্ছে।

চলতি বছরের জুলাইয়ে হংকং ন্যাশনালিস্ট পার্টিকে (এইচকেএনপি) নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। দলটি চীন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন ভিয়েতনাম প্রতিষ্ঠার পক্ষে রাজনীতি করে। দলটিতে খুব বেশি সদস্য না থাকলেও সংগঠনের সদস্যদের স্বাধীনতার জোরালো দাবির কারণে সেখানে দলটি খুবই সুপরিচিত। একে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ যুক্তরাজ্যসহ মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। তারা সে সময় হংকং-এর অধিকারের সুরক্ষার পক্ষে জোরালো অবস্থান নেয়। তা সত্ত্বেও ওই রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ চলমান থাকে।

২০১৬ সাল থেকে একটি ‘স্বাধীন ও মুক্ত রিপাবলিক অব হংকং’-এর লক্ষ্যকে সামনে রেখে যাত্রা শুরু করে তার দল দ্য হংকং ন্যাশনাল পার্টি। পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ২৭ বছরের আন্ডি চ্যান হো-তিন ২০১৪ সালের গণতন্ত্রপন্থী অকুপাই সেন্ট্রাল আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। ওই বছর থেকেই পার্লামেন্ট নির্বাচনে তার অংশগ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।