টিডিএন বাংলা ডেস্ক: ভারত বৃহস্পতিবার জম্মু ও কাশ্মীরে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মোইন-উল-হককে “মিথ্যা ও আধা-সত্য” বয়ান দেবার জন্য তিরস্কার করেছে। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ইসলামাবাদের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত, প্রশিক্ষিত ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল, যা ভারতের একটি অভিন্ন অঙ্গ সেখানে শান্তি শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে।

বেজিংয়ে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “জম্মু ও কাশ্মীরে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতি আনতে ভারতের সমন্বিত প্রচেষ্টা পাকিস্তানের রণনীতির সম্পূর্ণ বিপরীত, যা ওই অঞ্চলকে দুর্বল করার লক্ষ্যে সীমান্তে সন্ত্রাসবাদ অভিযানের চেয়ে সামান্য বেশি।”গত ৭ আগস্ট চীনের অফিসিয়াল সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবাল টাইমস’-এ প্রকাশিত ‘আর্জেন্ট একশন অন জম্মু-কাশ্মীর নিডেড’শীর্ষক প্রতিবেদনের জবাবে ভারতীয় দূতাবাস এই মন্তব্য করে।

ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “রাষ্ট্রদূত হক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীরের বিষয়ে পাকিস্তানের মিথ্যা এবং অর্ধসত্য কথাগুলি বলেছেন,যা ভারতের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ এবং যার বিষয়গুলি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং সেখানে পাকিস্তান বা অন্য কোনও দেশের হস্তক্ষেপের কোন অধিকার নেই। ”

ওই বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে যে রাষ্ট্রদূত হকের ভুল উপস্থাপনায় বিস্মিত হওয়ার মতো ঘটনা ঘটেনি, তবে ভারতের সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদের বেশিরভাগ বিধান বাতিল করার কারণে জম্মু ও কাশ্মীরে এক বছরে যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে তা গোপন করা যায় না। ওই বিবৃতিতে গত এক বছরে সরকারের শুরু করা উন্নয়ন সম্পর্কিত কার্যক্রমের বিবরণও দেওয়া হয়েছে।

দূতাবাসের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে যে হকের উচিত তাদের “শাসনব্যবস্থার” দিকে নজর দেওয়া এবং ভারত সরকারের পদক্ষেপগুলি সম্পর্কে অযৌক্তিক মন্তব্য করার আগে ওই অঞ্চলে পাকিস্তানের “কাজকর্ম” সম্পর্কে উল্লেখ করা উচিত। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “পাকিস্তানের নিয়োগপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষিত এবং সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা জম্মু ও কাশ্মীরে শান্তি শৃঙ্খলা লঙ্ঘন করে, ২০১৯ সালের আগস্ট মাসের ঘর থেকে সন্ত্রাসী সহিংসতার ঘটনা ৪৫০ এরও বেশি হয়ে গেছে যাতে, বহু নাগরিক হতাহত হয়েছে। এবং প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তানই জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের অবৈধ ও জোরপূর্বক দখলকৃত অঞ্চলগুলিতে প্রশাসনিক ও জনসংখ্যার পরিসংখ্যান পরিবর্তন করেছে। ”

বিবৃতিতে বলা হয়েছে পাকিস্তান কর্তৃক বিনা উস্কানিতেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং কেবলমাত্র ২০২০ সালের প্রথম সাত মাসে নিয়ন্ত্রণবিরোধী সীমান্ত (এলওসি) থেকে সন্ত্রাসীদের অনুপ্রবেশকে সহায়তা করার জন্য প্রায় ৩,০০০ এর মতো যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা হয়েছিল। দূতাবাস জানিয়েছে যে ‘গ্লোবাল টাইমস’ ভারতীয় দূতাবাসের প্রতিক্রিয়া সম্প্রচার করতে অস্বীকার করেছে।

দূতাবাসের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে একটি টুইট করে জানিয়েছে,”গ্লোবাল টাইমস এই সাক্ষাত্কারে ভারতীয় দূতাবাসের প্রতিক্রিয়া জানাতে অস্বীকার করেছে।” দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাদের ওই টুইটের সাথেই নিজেদের বিশদ প্রতিক্রিয়াটিকেও সংযুক্ত করে দেওয়া হয় যা,চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবাল টাইমস’ প্রকাশিত করতে অস্বীকার করেছে।