টিডিএন বাংলা ডেস্ক: আমাদের অন্য সব মসজিদের মতই হাইয়া সোফিয়ার দুয়ার সবার জন্যই উন্মুক্ত থাকবে বলে মন্তব্য করলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোগান। তুরস্কে বাইজেন্টাইন যুগের স্মৃতিস্তম্ভ হাইয়া সোফিয়াকে আবার মসজিদে রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্তে কয়েকটি দেশ যে নিন্দা জানিয়েছে, শনিবার তা প্রত্যাখান করেছেন তিনি। প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেছেন, এটি তার দেশের ‘সার্বভৌম অধিকার’ ও জনগণের ইচ্ছার প্রতিনিধিত্ব করে। এদিন তিনি বসনিয়ার মুসলিমে গণহত্যায় নিহত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোরও ঘোষণা দেন।

ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হাইয়া সোফিয়া আগামী ২৪ জুলাই থেকে নামাজ পড়ার জন্য খুলে দেয়া হবে বলে গত শুক্রবার ঘোষণা দিয়েছেন এরদোগান। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে সমালোচকরা বলছেন যে, এরদোগান মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছেন।

অতীতেও তিনি এই ঐতিহাসিক ভবনটিকে মসজিদে রূপান্তরের জন্য বিভিন্ন সময়ে মত প্রকাশ করেছিলেন। তিনি ২০১৮ সালে সেখানে গিয়ে কুরআন থেকে একটি আয়াত তেলাওয়াত করেন। শনিবার ভিডিও-সম্মেলনের মাধ্যমে এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এরদোগান বলেন, ‘যারা নিজ দেশে ইসলামফোবিয়ার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেন না…তারা তুরস্কের সার্বভৌম অধিকার ব্যবহার করার ইচ্ছাকে আক্রমণ করেন।’ তিনি জানান, ২৪ জুলাই থেকে সেখানে নামাজ আদায় করা যাবে। তবে সবার প্রার্থনার উপযোগী করে তুলতে ছয় মাস সময় লাগবে। মসজিদে পরিণত হলেও এটি সব ধর্মের মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের অন্য সব মসজিদের মতই হাইয়া সোফিয়ার দুয়ার স্থানীয় বা বিদেশি, মুসলিম বা অমুসলিম, সবার জন্যই উন্মুক্ত থাকবে।’

পাশাপাশি, এদিন বসনিয়ার স্রেব্রেনিসা ও হার্জেগোভেনিয়ায় মুসলিম গণহত্যার ২৫তম বার্ষিকীর স্মরণ করে এরদোগান বলেন, ‘আমরা কখনও আমাদের শহিদদের ভুলব না। স্রেব্রেনিসার গণহত্যার কথা আমরা কখনও ভুলব না। হত্যাকান্ডে নিহতদের পরিবারের পাশে থাকবে তুরস্ক।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইউরোপে এখন আরও বেশি ইসলামবিদ্বেষ তৈরি হয়েছে, যা ইউরোপের মুসলিমদের ভবিষ্যতকে অনিশ্চিতায় ফেলে দেয়।’

শুক্রবার তুরস্কের অনেক মুসলিম হাইয়া সোফিয়ার সামনে সমবেত হন। নতুন সিদ্ধান্ত জানার পর তারা স্থাপনার বাইরে প্রার্থনায় অংশ নিয়েছেন এবং সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে, এই সিদ্ধান্তে ইউনেস্কো, যুক্তরাষ্ট্র, গ্রিসসহ বিভিন্ন দেশ প্রতিক্রিয়া ও নিন্দা জানিয়েছে। মসজিদে রূপান্তরের বিরোধীতা আগে থেকে করে আসছিল অর্থডক্স খ্রিস্টানরা। তুরস্কের সঙ্গে গ্রিসের সম্পর্কের আরেক দফা অবনতি ঘটারও সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে এ কারণে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোটাকিস এরদোয়ানের সিদ্ধান্তটির কড়া নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যারা আয়া সোফিয়াকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অপরিহার্য হিসেবে বিবেচনা করেন এটি তাদের সবার জন্যই ক্ষোভের। এই সিদ্ধান্তে শুধু গ্রিসের সঙ্গে নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউনেস্কো এবং গোটা বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে।