টিডিএন বাংলা ডেস্ক: ভগবান রাম উত্তরপ্রদেশের ‘অযোধ্যা’ নিবাসী নন বরং তিনি নেপালের কাঠমাণ্ডুর কাছে অবস্থিত একটি ছোট্ট গ্রাম ‘অযোধ্যা’র বাসিন্দা ছিলেন। একটি সর্বভারতীয় সংবাদসংস্থায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি ওলি সোমবার নিজের বাসভবনে আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এমনই মন্তব্য করেছেন। নেপালের প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন রাম ভারতীয় নন তিনি নেপালি ছিলেন।

নেপালের নিউজ ওয়েবসাইট সেটোপাতি ডটকমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ” আমরা এখনো বিশ্বাস করি যে, আমরা অযোধ্যা থেকে সীতা রাজকুমার রামকে দিয়েছিলাম তবে আমরা রাজপুত্রকেও দিলাম, ভারত নয়। কাঠমাণ্ডুর থেকে ১৩৫ কিমি দূরে নেপালের বীরগঞ্জ গ্রামের পশ্চিমে অবস্থিত একটি গ্রাম অযোধ্যা।” পাশাপাশি তিনি ভারতের ওপর সাংস্কৃতিক নিপিড়নের অভিযোগ তুলে বলেন, “আমরা সংস্কৃতিগত ভাবে কিছুটা নিপীড়িত হয়েছিলাম। ঘটনাগুলি দখল করা হয়েছে।”

এদিন ভারতের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক নিপিড়নের পাশাপাশি রাজনৈতিক মানচিত্রে আগ্রাসনের অভিযোগও করেছেন। সম্প্রতি ভারতের উত্তরাখণ্ডের লিপুলিখ পথ এবং লিম্পিয়াধুরা ও কালাপানি অঞ্চলকে নেপালের অন্তর্গত বলে দাবি করেছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী এদিন এই বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়েই ভারতের বিরুদ্ধে এই মন্তব্য করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী।

উল্লেখ্য , নেপালের সংসদে এই ভূখণ্ডগুলিকে দেশের মানচিত্রের অংশ করতে একটি সাংবিধানিক সংশোধনী পাশ করার জন্য সর্বসম্মত ভাবে ভোট দিয়েছেন নেপালের সাংসদরা।

এদিকে এই অঞ্চলগুলি ভারত চীন সীমান্তের অত্যন্ত কৌশলগত অঞ্চল। ১৯৬২ সালের যুদ্ধের পর থেকে ওই অঞ্চলগুলির পাহারদারি করছে ভারতীয় সেনা।

নেপালের এই ভূখন্ডগুলির দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ” নেপাল এই বিষয়ে ভারতের ধারাবাহিক অবস্থান সম্পর্কে ভালোভাবেই জানে এবং আমরা নেপাল সরকারকে অনুরোধ করছি কার্টোগ্রাফিক বিবৃতি থেকে বিরত থাকার জন্য এবং ভারতের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান জানাতে অনুরোধ করছি।”