টিডিএন বাংলা ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বুধবার অযোধ্যায় ভূমি পূজার উদ্বোধন করেন এভং রাম মন্দিরের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।এর পরে, তিনি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, আমার সৌভাগ্য যে শ্রী রামজন্মাভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট আমাকে মন্দির নির্মাণের জন্য ভূমি পূজন করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। আজ পুরো দেশের মানুষের শতাব্দীর অপেক্ষার অবসান ঘটল। রাম প্রত্যেকের রাম সবার মধ্যে আছেন।

এদিন জয় শ্রীরাম ধ্বনি দিয়ে নিজের বক্তব্যের শুরু করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, কয়েকবছর ধরে আমাদের ভগবান রাম তাবুতে বসবাস করছিলেন। এবার তার জন্য একটি দুর্দান্ত মন্দির নির্মিত হবে। শতাব্দী ধরে চলমান বিবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছে রাম জন্মভূমি।

রাম মন্দির আন্দোলন প্রসঙ্গে মোদি বলেন, রাম মন্দিরের আন্দোলনে ত্যাগ ছিল, লড়াই ছিল, প্রতিজ্ঞা ছিল। সেই ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আজ যাঁদের স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে, যাঁদের তপস্যা রাম মন্দিরে ভিত্তির সাথে জড়িত, আমি আজ তাদের সকলকে প্রণাম জানাই।

মোদি বলেন, রাম আমাদের মনে বাস করেন, আমাদের সবার মধ্যেই রয়েছেন রাম। আমরা যদি কিছু কাজ করতে চাই, তবে আমরা অনুপ্রেরণার জন্য ভগবান রামের দিকে চেয়ে থাকি। ভগবান রামের আশ্চর্য শক্তি দেখুন। মন্দির ধ্বংস করা হলো, অস্তিত্ব নির্মূল করার জন্য প্রচুর প্রচেষ্টা হলো কিন্তু রাম আজও আমাদের মনে রয়ে গেছেন, এটিই আমাদের সংস্কৃতির ভিত্তি। 

ভগবান রামের আদর্শ সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, এখানে আসার আগে দেখলাম হনুমানগরি। হনুমান রামের সমস্ত কাজ করেন। কলিযুগে রামের আদর্শ রক্ষা করাও ভগবান হনুমানের দায়িত্ব। হনুমানজীর আশীর্বাদে শ্রী রাম মন্দির ভূমিপুজনের এই অনুষ্ঠানটি শুরু হয়েছে। শ্রী রামের মন্দিরটি আমাদের সংস্কৃতির আধুনিক প্রতীক হয়ে উঠবে, আমাদের চিরন্তন বিশ্বাসের প্রতীক, আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতীক এবং এই মন্দিরটি কোটিকোটি মানুষের সম্মিলিত সংকল্প শক্তির প্রতীকও হয়ে উঠবে।এই মন্দিরটি তৈরির পরে, কেবল অযোধ্যার মহিমা বাড়বে না, এই অঞ্চলের পুরো অর্থনীতিও পরিবর্তিত হবে। এখানে প্রতিটি ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি হবে, প্রতিটি ক্ষেত্রে সুযোগ বাড়বে।ভাবুন, সারা পৃথিবী থেকে মানুষ এখানে আসবে, গোটা বিশ্ব আসবে ভগবান রাম এবং মা জানকিকে দেখতে। 

মোদী বলেন, এই দিনটি কোটি কোটি ভক্তের সংকল্পের সত্যতার প্রমাণ। আজ, এই দিনটি সত্য, অহিংসা, বিশ্বাস এবং ত্যাগের জন্য। ন্যায়বিচার, ন্যায়বিচারের ভারতের এক অনন্য উপহার। মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায় দেওয়ার পরেও আমরা এই ন্যায়বিচারের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। আমরা প্রত্যক্ষ করেছি যে সকল দেশবাসী কীভাবে শান্তিতে আচরণ করেছিল, প্রত্যেকের অনুভূতির যত্ন নিয়েছিল। আজও, আমরা সর্বত্র একই ন্যায়বিচার দেখছি। 

এরপর করোনা পরিস্থিতিতে বর্তমান ন্যায়বিচারের প্রসঙ্গে মোদি বলেন, “দো গজ কি দুরি মাস্ক হ্যায় জরুরি।” করোনার পরিস্থিতির জেরে ভূমি পূজার অনুষ্ঠান অনেক বাধা নিষেধ মেনে করতে হয়েছে মেনে চলতে হয়েছে অনেক নিয়ম কানুন।শ্রীরামের কাজের প্রতি সম্মানের একটি উদাহরণ উপস্থাপন করেছে দেশ। পাথরের উপর শ্রী রাম নাম লিখে যেভাবে রাম সেতু নির্মিত হয়েছিল, তেমনি শ্রদ্ধার সাথে ঘরে ঘরে, গ্রামে গ্রামে পাথরের উপাসনাও হয়ে উঠেছে এখানকার শক্তির উৎস।দেশজুড়ে বিভিন্ন মন্দির থেকে আনা মাটি এবং নদীর জলের সাথেই সেখানকার মানুষ, সংস্কৃতি এবং অনুভূতি আজ এখানে শক্তি হয়ে উঠেছে। 

এরপরে মোদি আরো বলেন, দলিত, ওবিসি, উপজাতি, সমাজের প্রতিটি অংশ যেমন গান্ধীজিকে স্বাধীনতা সংগ্রামে সমর্থন করেছিল, তেমনি আজ রাম মন্দির নির্মাণের এই পুণ্যকর্মটি সারা দেশের মানুষের সহযোগিতায় শুরু হয়েছে।রামচন্দ্রকে তেজে সূর্যের মতো, ক্ষমার জন্য পৃথিবীর সমতুল্য, বুদ্ধিতে বৃহস্পতির অনুরূপ এবং খ্যাতিতে ইন্দ্রের মতো বিবেচনা করা হয়। শ্রী রাম সামাজিক শাসনকে তাঁর শাসনের মূল ভিত্তি তৈরি করেছিলেন। তিনি গুরু বশিষ্ঠের কাছ থেকে জ্ঞান, কেওয়াতের কাছ থেকে ভালবাসা, শাবরীর কাছ থেকে মাতৃত্ব, হনুমানজি ও বনবাসী ভাইদের কাছ থেকে সমর্থন এবং আস্থা অর্জন করেছিলেন। জীবনের এমন কোনও দিক নেই যেখানে আমাদের রাম অনুপ্রেরণা দেয় না।ভারতের এমন কোনও অনুভূতি নেই যেখানে ভগবান রামকে দেখা যায় না। রাম ভারতের বিশ্বাসে, রাম ভারতের আদর্শে, ভারতের দর্শন এ রয়েছেন রাম।

মোদি এদিন আরও বলেন,শুধু ভারতেই নয় মুসলিম প্রধান দেশ ইন্দোনেশিয়াই হোক কিংবা কম্বোডিয়া মালয়েশিয়া থাইল্যান্ড সর্বত্রই রামায়ণের আরাধনা করা হয়। এমনকি ইরান এবং চিনেও রাম কথার পাঠ করা হয়। শ্রীলঙ্কায় জানকি হরন কথার মাধ্যমে রামায়ণের পাঠ করা হয়। নেপালের সঙ্গে মাতা জানকির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। আজ ওইসব দেশের মানুষ শান্তি অনুভব করছেন।