টিডিএন বাংলা ডেস্ক: মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প! আর তাই আমেরিকার নির্বাচনে বিপুল ভোটে জিততে পারেন বিরোধী প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী বাইডেন। আমেরিকার একাধিক গণমাধ্যমের সমীক্ষায় এই খবর প্রকাশিত হয়েছে। সিএনএন বলছে,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর চার মাসেরও কম সময় বাকি। এই সময়ে এসে আমেরিকার রাজনৈতিক ম্যাপ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। প্রভাবশালী মার্কিন গণমাধ্যমগুলো মনে করছে, অধিকাংশ ভোটারের আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন ট্রাম্প। এ কারণে নির্বাচনে তিনি হারবেন। ট্রাম্পের সমর্থকদের মধ্যেও এখন অনেকটা উদ্বেগের চিহ্ন পরিষ্কার হয়ে উঠেছে।
এখন অনেকেই ধারণা করছেন, আসছে নির্বাচনে ট্রাম্প শুধু হারবেন না, নিজের দলকেও হারাবেন, যেখান থেকে রিপাবলিকান দলের উঠে আসা সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।
সিএনএন তাদের এ-সংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলেছে, আমেরিকার সামনের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের নীল ঢেউ নয়, রীতিমতো ডেমোক্রেটিক সুনামি বয়ে যাবে। বিশিষ্ট মার্কিন রাজনৈতিক ভাষ্যকার অ্যামি ওয়াল্টার ৮ জুলাই তাঁর প্রতিবেদনে লিখেছেন, রিপাবলিকান কৌশলবিদেরা মনে করেছেন, ট্রাম্প অধিকাংশ ভোটারের আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন এর মধ্যেই।
কিছুদিন আগেও সম্ভাব্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেনের সঙ্গে কিছু অঙ্গরাজ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনমত কাছাকাছি ছিল। সেগুলোতেও দ্রুত পরিবর্তন ঘটেছে। উইসকনসিন, পেলসিলভানিয়ার জনমত এখন ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ঝুঁকে আছে। জর্জিয়াকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম সমর্থকদের রাজ্য মনে করা হলেও সর্বশেষ জরিপে জো বাইডেনের সঙ্গে জর্জিয়ায় ট্রাম্পের অবস্থান সমান সমানে চলে এসেছে। মেইন, নেব্রাস্কার কিছু এলাকার হিসাব করে ‘কুকস পলিটিক্যাল’ তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, জো বাইডেনের পক্ষে এখনই ২৭৯টি ইলেকটোরাল ভোট নিশ্চিত হয়ে আছে। সংখ্যাটি নির্বাচনে জয়ের জন্য ৯ ভোট বেশি।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের কারণে রিপাবলিকান দলকে হোয়াইট হাউস হারানোর চেয়েও বেশি মূল্য দিতে হতে পারে। প্রতিনিধি পরিষদে আরও কিছু আসন হারাতে হতে পারে রিপাবলিকানদের। সিনেটে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কাও জোরদার হয়ে উঠেছে।
এদিকে ডেমোক্রেটিক দলের অভ্যন্তরীণ বিভেদ কমিয়ে আনতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বার্নি স্যান্ডার্সের মধ্য দিয়ে দলের মধ্যে যে চরম উদারনৈতিক জাগরণ সৃষ্টি হয়েছিল, তা সমন্বয়ের জন্য টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়। মধ্যপন্থী ও বনেদি ডেমোক্র্যাটদের কর্মসূচিতে ব্যাপক ফারাক ছিল। টাস্ক ফোর্সের মাধ্যমে এ ফারাক কমিয়ে আনা হয়েছে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে। স্বাস্থ্যবিমা, পুলিশ সংস্কার ও অভিবাসন আইন এসব নিয়ে বার্নি স্যান্ডার্স এবং জো বাইডেনের মধ্যে একটি সমঝোতা কর্মসূচি উপস্থাপন করা হয়েছে। বার্নি স্যান্ডার্সের আগের প্রস্তাবে আমেরিকার সব নাগরিকের জন্য সরকারনিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্যবিমা বিনা মূল্যে করার প্রস্তাব ছিল। অতি উদারনৈতিক এমন বহু কর্মসূচিকে জো বাইডেনের সমর্থকদের কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে একীভূত করা হয়েছে। অতি উদারনৈতিক অবস্থা থেকে সরে এসে একটি মধ্যপন্থার উদারনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে দলকে একাত্ম করার কৌশল নেওয়া হয়েছে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে।
ডেমোক্রেটিক দলের মধ্যে আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির ভাবাদর্শের সংঘাত লক্ষণীয় হয়ে উঠেছিল। বার্নি স্যান্ডার্সের সমর্থকদের নেতা আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও। তিনি উদারনৈতিক ব্যাপক যুব-তরুণ সমাজের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছেন। জন কেরির ভাবাদর্শ ও বনেদি ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধি জো বাইডেন। এবার ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হারানোর জন্য তাঁরা এক হয়েছেন। কমিয়ে এনেছেন নিজেদের দূরত্ব।
বার্নি স্যান্ডার্স এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন, ‘জো বাইডেন ও আমাদের সমর্থকদের মধ্যে নানা বিষয়ে জোরালো মতপার্থক্য থাকলেও ট্রাম্পকে পরাজিত করতে আমাদের এক থাকতে হবে।’