টিডিএন বাংলা ডেস্ক: আমেরিকা জুড়ে বিক্ষোভ চলছে। শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাতে জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর প্রতিবাদে গোটা আমেরিকা এখন উত্তাল। আন্দোলন সব জায়গায় শান্তিপূর্ণ নয়, কিছু জায়গায় হিংসা ছড়িয়েছে বলে খবর। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্যের পর আরও ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে আমেরিকা। অবস্থা এমন হয় যে, ট্রাম্পকে ‘লুকাতে’ হয়। কিন্তু এ বার ট্রাম্প জানিয়ে দিলেন, তিনি দেশের প্রেসিডেন্ট। দেশের আইনশৃঙ্খলার ভার তাঁর হাতে। বিক্ষোভ থামাতে প্রয়োজনে সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করে দেশে সেনা নামাবেন তিনি।
আর ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর সমালোচনা আরও বেড়ে যায়।https://twitter.com/HillaryClinton/status/1267642131998441473?s=20

আমেরিকায় তীব্র আন্দোলনের ফলে ৪০টি শহরে কারফিউ হয়। সোমবার হোয়াইট হাউসের কাছের এক পার্কে বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। তাঁদের হটাতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় পুলিশ। ছোড়া হয় ফ্ল্যাশ গ্রেনেডও। তার কিছু ক্ষণ পরেই হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেন থেকে সেনা নামানোর হুঁশিয়ারি দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘‘আমি আপনাদের প্রেসিডেন্ট। দেশের আইনশৃঙ্খলার ভার আমার হাতে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পাশে রয়েছি আমি। কিন্তু একদল নৈরাজ্যবাদী, হিংস্র অপরাধী যে ভাবে দাঙ্গা চালিয়ে যাচ্ছে তা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।’’
দেশ জুড়ে চলা বিক্ষোভকে অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদীদের কাজ বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। ট্রাম্প বলেন, ‘‘বেশ কিছু প্রদেশ এবং সেখানকার স্থানীয় প্রশাসন বিক্ষোভ থামাতে ব্যর্থ হয়েছে। নাগরিকদের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষায় কোনও পদক্ষেপ করতে পারেনি তারা। দুর্বৃত্তদের আক্রমণে বেশ কয়েক কিছু নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এটা কোনও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ নয়। এটা অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদীদের কাজ।’’
সেনা নামানোর হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘‘বিক্ষোভ রুখতে সমস্ত প্রদেশ, সেখানকার গভর্নর ও মেয়রদের কড়া পদক্ষেপ করতে হবে। রাস্তার প্রতিটি মোড়ে মোতায়েন করতে হবে জাতীয় নিরাপত্তারক্ষীদের (এনএসজি)। এর পরেও নাগরিকদের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষায় কোনও প্রদেশ বা শহর যদি তা না করে, তা হলে আমি সেনাবাহিনী নামাব। তাতে চটজলদি সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’’ রাস্তায় সশস্ত্র বাহিনী নামলেই সব দাঙ্গা-হাঙ্গামা বন্ধ হয়ে যাবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প।
জানা গেছে, এই পরিস্থিতিতে দেশ জুড়ে বিক্ষোভ থামাতে ট্রাম্প কী পদক্ষেপ করেন সোমবার সে দিকেই তাকিয়ে ছিল গোটা দেশ। কিন্তু বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলাপ আলোচনায় না গিয়ে এ ভাবে সেনা নামানোর হুঁশিয়ারি দেওয়ায় ট্রাম্পের সমালোচনায় সরব হয়েছেন আমেরিকার প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতারা। ।বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে ছররা গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার তীব্র সমালোচনা করে প্রাক্তন মার্কিন বিদেশ সচিব হিলারি ক্লিন্টন টুইটারে লেখেন, ‘‘নিজের দেশের নাগরিকদের উপর ভয়ঙ্কর ভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন প্রেসিডেন্ট। বিশ্বের কোথাও এই ধরনের আচরণের কোনও জায়গা নেই।’’