টিডিএন বাংলা ডেস্ক: আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার জেরে কারফিউ উপেক্ষা করে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী টানা অষ্টম দিনের মতো বিক্ষোভ করছে। আর এতে চিন্তা বাড়ছে ট্রাম্প প্রশাসনের। জানা গেছে, সোমবার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প একটি চার্চে যাওয়ার জন্য তার পথ পরিষ্কার করতে যে পার্ক থেকে বিক্ষোভকারীদের কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে পুলিশ ছত্রভঙ্গ করেছিল, ওয়াশিংটনের সেই পার্কের কাছে বিক্ষোভ হয়েছে। পুলিশি নৃশংসতায় জর্জ ফ্লয়েড ও অন্যদের মৃত্যুর প্রতিবাদে এদিন বিক্ষোভ ছিল শান্তিপূর্ণ। কিন্তু রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতি রাতেই শুরু হয় দাঙ্গা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট। দুটি শহরে সোমবার রাতে ৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা গুলিতে আহত হয়েছেন।
এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ওই খবরে আরো বলা হয়, মঙ্গলবার বিকেলে ক্যাপিটল ভবনের বাইরে হাঁটু গেঁড়ে বসে বিক্ষোভ করেন বিক্ষোভকারীরা। এ সময় তারা স্লোগান দেন ‘নীরবতা কোনো সহিংসতা নয়’। ‘কোনো বিচার না হলে, শান্তি আসবে না’। সরকার কারফিউ ঘোষণা করার আগে তাদের মুখোমুখি হয় পুলিশ। ওদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা নামার পরও কারফিউ উপেক্ষা করে লাফায়েতি পার্কে অবস্থান করছিলেন বিক্ষোভকারীরা। তাদেরকে দস্যু আখ্যায়িত করে প্রয়োজন হলে ন্যাশনাল গার্ড অথবা মার্কিন সেনাবাহিনী ব্যবহারের হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। লিঙ্কন মেমোরিয়ালের মোতায়েন করা হয়েছে কয়েক ডজন ন্যাশনাল গার্ড সদস্য।

খবরে প্রকাশ, নিউ ইয়র্কে রাত ৮টায় কারফিউ উপেক্ষা করে কয়েক হাজার মানুষ ফ্লাটবুশের বারক্লেস সেন্টার থেকে ব্রুকলিন ব্রিজ পর্যন্ত অগ্রসর হয়। এ সময় মাথার ওপর দিয়ে চক্কর দিতে থাকে হেলিকপ্টার। ম্যানহ্যাটান ব্রিজ সড়কপথে প্রবেশের সময় বিক্ষোভকারীরা কিছু সময়ের জন্য থামেন। তারা এ সময় দাঙ্গা পুলিশের উদ্দেশে স্লোগান দেন- ‘ওয়াক উইথ আস’। অর্থাৎ আমাদের সঙ্গেই আসুন।
এদিকে আমেরিকার এই বিক্ষোভ ছড়িতে পড়েছে পৃথিবীর অন্য দেশেও। এই নিয়ে বিভিন্ন রাষ্ট্র নেতারা মন্তব্য করছেন। সব মিলিয়ে আমেরিকায় যা হচ্ছে তা ট্রাম্পের জন্য সুখকর নয় বলে অনেকে মনে করছেন।