টিডিএন বাংলা ডেস্ক: করোনা মহামারির মধ্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতে দ্রুত অস্ত্রবিরতির দাবি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনলাইন বৈঠকে সিরিয়া, ইয়েমেন ও লিবিয়াসহ বিভিন্ন দেশে সংঘাত বন্ধে একমত হয় সদস্য দেশগুলো। এদিকে, করোনাভাইরাস মানবজাতির জন্য একটি পরীক্ষা বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান। স্থানীয় সময় বুধবার জরুরি বৈঠকে বসে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। তবে করোনা মহামারীর কারণে এ বৈঠক হয় ভার্চুয়ালি। বৈঠকের শুরুতেই কোভিড-নাইন্টিন প্রাদুর্ভাবের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানায় সদস্য দেশগুলো। অবিলম্বে এসব দেশে যুদ্ধ বিরতি কার্যকরের দাবি জানানো হয়। সিরিয়া, ইয়েমেন, লিবিয়া, সাউথ সুদান এবং কঙ্গোর মতো দেশগুলোতে সংঘাত অব্যাহত থাকায় এসব দেশে করোনা পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে পড়েছে বলে মনে করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। পরে যুদ্ধ বন্ধে একটি প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। ফ্রান্স ও তিউনিসিয়ার উত্থাপন করা ঐ প্রস্তাবে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের অভিযান বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। জাতিসংঘে ফ্রান্সের স্থায়ী প্রতিনিধি নিকোলাস দে রিভেয়ার বলেন, আজকে যে প্রস্তাব পাস করা হলো, বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় তা খুবই গুরুত্বপূর্ন। প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়ে সদস্য দেশগুলো বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে। এজন্য নিরাপত্তা পরিষদকে ধন্যবাদ জানাই। এই প্রস্তাব পূরণে সবাইকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে। মানবিক সঙ্কট মোকাবিলার পাশপাশি করোনা প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এদিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় স্বাস্থ্যবিধি মানার মতো সহজ পন্থা অবলম্বনে ব্যর্থ দেশগুলোর সামনে ভয়ঙ্কর পরিণতি অপেক্ষা করছে। করোনাভাইরাসকে মানবিকতার পরীক্ষা উল্লেখ করে সংস্থাটির প্রধান বলেন, এই ভাইরাস মোকাবিলায় সবাইকে একে অন্যের পাশে দাঁড়াতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস বলেন, এই ভাইরাস বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোন থেকে একটি চ্যালেঞ্জ। আমাদের চরিত্রের পরীক্ষাও এটি। বৈশ্বিকভাবে এটি মোকাবিলা করতে হবে। একে অন্যের প্রতি সহানুভ‚তিশীল হতে হবে। সবাই সবাইকে রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে যারা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। করোনা চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ রেমডিসিভির আগামী তিন মাসের চালান যুক্তরাষ্ট্র অগ্রিম কিনে নেয়ায় গভীর উদ্বেগ জানান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান। জীবন রক্ষাকারী একটি ওষুধের চালান এভাবে কুক্ষিগত করে রাখার একক পদক্ষেপ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করেন তিনি। রয়টার্স, এএফপি,ইনকিলাব