টিডিএন বাংলা ডেস্ক: আসলে গাড়ি ওল্টায়নি, সমস্ত গোপন কথা বাইরে চলে এলে সরকার পড়ে যাবে সেই ভয়েই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।—কানপুরের ত্রাস এনকাউন্টার এর পর পুলিশের বয়ানের বিরোধিতা করে এমনটাই মন্তব্য করেছেন সমাজবাদী পার্টির সভাপতি তথা উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব। শুধু অখিলেশই নন, অন্যান্য বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারাও বিকাশের এনকাউন্টার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি বিকাশকে মেরে ফেলা হয়েছে যাতে কোন গোপন তথ্য বাইরে না চলে আসে। শুধু তাই নয়, ঠিক কি পরিস্থিতিতে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্সকে এভাবে এনকাউন্টার করতে হলো সে বিষয়ে বিশদ তদন্তের দাবিও করেছেন বিরোধী দল নেতারা।
এদিন বিকাশ দুবে এনকাউন্টারে ঘটনা সামনে আসার পরই টুইটারে সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব লেখেন,”আসলে গাড়িটা উল্টায়নি, সরকার পড়ে যাওয়া থেকে বাঁচানো হয়েছে। গাড়িটা উল্টে গেল এবং বিকাশ দুবে পালানোর চেষ্টা করল। যদি তার পালানোরই থাকতো তাহলে সে আত্মসমর্পণ কেন করল। এর পেছনে রয়েছে গভীর গোপনীয়তা।”

অখিলেশ যাদবের পাশাপাশি বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা দ্বিগবিজয় সিংও বিকাশ দুবে কে এভাবে এনকাউন্টার করা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিকাশ দুবে ও তার সহযোগীদের এনকাউন্টারের একই রকম প্যাটার্ন নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্বিগবিজয় সিং লেখেন,”যা সন্দেহ করছিলাম তা হয়ে গেল।বিকাশ দুবের সাথে কোন কোন রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ এবং অন্য প্রশাসনিক অধিকারীদের যোগাযোগ ছিল তা আর সামনে আসবে না। গত তিন-চার দিনে বিকাশ ও তার অন্য দুই সাথীরও এনকাউন্টার করা হয়েছে কিন্তু তিনটে এনকাউন্টারেরই প্যাটার্ন একই রকম কি করে?”

এর আগে বিকাশ দুবের সারেন্ডার বা অ্যারেস্ট নিয়ে জুডিশিয়াল এনকোয়ারি বিষয়ে তিনি মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের সঙ্গেও কথা বলেন। তিনি জানান,”আমি বিকাশ দুবের গ্রেপ্তার বা আত্মসমর্পণের বিষয়ে জুডিশিয়াল এনকোয়ারি প্রসঙ্গে শিবরাজের সঙ্গে কথা বলেছি। কোন কোন পুলিশ অফিসার এবং কোন কোন রাজনৈতিক নেতা তার সাথে যোগাযোগের ছিল এ বিষয়ে একটা তদন্ত হওয়া দরকার। জুডিশিয়াল কাস্টডিতে বিকাশের নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া জরুরী, যাতে তার কাছ থেকে সমস্ত গোপন তথ্য বার করা যায়।”

কংগ্রেসের পূর্ব উত্তরপ্রদেশের ভারপ্রাপ্ত নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী লেখেন,”অপরাধীর শেষ হয়ে গেল কিন্তু অপরাধ আর তাকে সমর্থন করা লোকদের কি হবে?”

বিএসপি সভাপতি মায়াবতী এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে একটি তদন্ত কমিটি তৈরি করার দাবি করেছেন।

অপরদিকে, মহারাষ্ট্রের শাসকদল শিবসেনা ইউপি পুলিশের এনকাউন্টার কে সমর্থন করে বলেছে, এ ধরনের কুখ্যাত দুষ্কৃতী যে আইনি ব্যবস্থার ওপরে একটা বড়োসড়ো বিপদ ছিল তাকে মেরে ফেলার জন্য পুলিশকে কোন প্রশ্ন করা উচিত নয়।

অন্যদিকে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে একটি ভিডিও ক্লিপিং যেখানে দেখা যাচ্ছে একজন পুলিশ কর্তা অপরজন পুলিশ কর্তাকে বলছেন,”বিকাশ দুবে কি কানপুর পর্যন্ত পৌঁছবে?”প্রশ্নের উত্তরে অপর আধিকারিক হেঁসে বলছেন,”বিকাশ কানপুর পৌঁছবে না।”এরপর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে কাদের আড়াল করার জন্য মরতে হলো বিকাশ কে ? তাহলে কি বিরোধীদের সন্দেহই ঠিক? যদিও এই ভিডিওর সত্যতা সম্পর্কে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।