টিডিএন বাংলা ডেস্ক: অযোধ্যায় রাম মন্দিরের ভিত্তি প্রস্তর অনুষ্ঠানের আগে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড (এআইএমপিএলবি) সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলল। টুইটারে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড জানিয়েছে, “আপনাদের মন ভাঙার দরকার নেই”।

অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড টুইটারে লেখে, “# বাবরি মসজিদ ছিল এবং সর্বদা একটি মসজিদ হয়েই থাকবে। # আয়া সোফিয়া আমাদের জন্য একটি দুর্দান্ত উদাহরণ। অন্যায় পূর্ণ, দমনকারী, লজ্জাজনক এবং বহু সংখ্যক দৃষ্টিভঙ্গির দ্বারা সৃষ্ট ওই ভূমির পুনর্নির্মাণ এই শক্তিকে বদলাতে পারবে না। মন ভাঙ্গার প্রয়োজন নেই। পরিস্থিতি চিরকাল স্থায়ী হয় না। “এই টুইটের সাথে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে।

প্রসঙ্গত, অযোধ্যা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে গত বছর নভেম্বরে এআইএমপিএলবি একটি রিভিউ পিটিশন দায়ের করেছিল।আদালত কেন্দ্রীয় সরকারকেও অযোধ্যাতে একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য পাঁচ একর জমি বরাদ্দের নির্দেশ দেয় কিন্তু এআইএমপিএলবি জানায় ওই বিকল্প পাঁচ একর জমি তারা গ্রহণ করবে না। জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ (জেইউএইচ) বলেন যে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন।

উল্লেখ্য, এআইএমপিএলবি এই মামলার পক্ষ না থাকলেও অন্য তিনটি মামলায় অভিযুক্ত ছিল। রায়ে অযোধ্যা নগরীর বাসিন্দা মোহাম্মদ ওমর খালিদ, অযোধ্যা জেলার বাসিন্দা মিসবাহউদ্দিন এবং আম্বেদকরনগর জেলার টান্দা শহরের বাসিন্দা মাহফুজুর রহমান রায় দিয়ে একটি রিভিউ পিটিশন দায়ের করেছিলেন। তবে, সমস্ত রিভিউ পিটিশন শীর্ষ আদালত খারিজ করে দেয়।

প্রায় এক শতক ধরে চলে আসা বাবলি মসজিদ বিবাদের মামলায় ২০১০ সালে, এলাহাবাদ হাইকোর্ট নির্মোহী আখড়া, রাম লাল্লা এবং সুন্নি কেন্দ্রীয় ওয়াকফ বোর্ডকে জমি সমানভাবে বিতরণের নির্দেশ দিয়েছিল। এরপর ভারতের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ-এর নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ-বিচারকের সর্বসম্মতিক্রমে হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তকে প্রত্যাহার করে জমিটি রামলালাকে দেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্ট সরকারকে ওই বিতর্কিত জমির পরিচালনা ও মন্দির নির্মাণের তদারকি করার জন্য একটি ট্রাস্ট স্থাপনের নির্দেশ দেয় এবং বাবরি মসজিদের বিকল্প স্থানে পাঁচ একর জমিও দেবার নির্দেশ দেয়।