নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, দিল্লী: ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইয়্যুথ ফেডারেশন সংগঠনের (IIFSO) পরিচালনায় তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে এক যুগান্তকরী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এই সম্মেলনে বিভিন্ন দেশ থেকে তরুণ মুসলিম নেতার একত্রিত হন। আগামীর পৃথিবীতে এক নতুন দিনের দিশা দেখানোর সংকল্প নিয়েই মূলত এই সম্মেলন।

বিশ্বের প্রায় ৬০ টিরও বেশি দেশের শতাধিক তরুণ ছাত্র নেতারাই হলেন এই ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউথ ফেডারেশন সংগঠনের সদস্য। দেশের সর্ববৃহত ছাত্র সংগঠন হিসাবে পরিচিত এসাআইও- র সর্ব ভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আজহারউদ্দিন আন্তর্জাতিক স্তরের এই সভায় আমন্ত্রিত হয়েছিলেন। এই সম্মেলনে তিনি ভারতের ইসলামি ছাত্র সংগঠন এসআইও -র প্রতিনিধিত্ব করেন। ফিউচার চেঞ্জ মেকার শীর্ষক এই সম্মেলন থেকে তাঁকে তাৎপর্যপূর্ন ভাবে আইআইএফএসও এর কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসাবে নিযুক্ত করা হয়।

তরুণ ছাত্রদের উদ্যোগে ১৯৬৬ সালে আইআইএফএসও ( IIFSO) গঠিত হয় এবং ১৯৬৯ সালে সংগঠনটির আনুষ্ঠানকভাবে আত্মপ্রকাশ ঘটে। এরপর ১৯৭৭ সালে একটি এনজিও সংগঠন রূপে জাতিসংঘের সঙ্গে
আইআইএফএসও যুক্ত হয়। বিভিন্ন সামাজিক এবং অর্থনৈতিক বিষয়ে বিশেষ পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করার জন্য জাতিসংঘের কাছে বাড়তি গুরুত্ব পায় আইআইএফএসও। জাতিসংঘের নানাবিধ সেবামূলক কর্মসূচিতে তাঁরা সদর্থক ভূমিকা নিয়ে থাকে। তরুণ-যুবা কর্মীদের সার্বিক মানবিক বিকাশের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকে তাঁরা। মানবধিকার, ইসলামোফোবিয়া (ইসলাম সম্পর্কে ভীতি), নারী অধিকার, সামাজিক বিকাশের মতো গুরুত্বপর্ণ বিষয়ে আয়োজিত সম্মেলনে আইআইএফএস-কে অংশগ্রণ করতে দেখা গেছে।

গত ৬ এপ্রিল তুরস্কে আয়োজিত দুই দিন ব্যাপী চলা এই সম্মেলনে ভারত থেকে ইসলামী ছাত্র সংগঠন এসআইও- র প্রতিনিধি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠন টির সর্বভারতীয় সাধার সম্পাদক সৈয়দ আজহারউদ্দিন। তিনি তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে বলেন , ” বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে ছাত্র এবং যুবকদেরকে সমাজ পুনর্গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। যদিও ইসলাম ধর্ম ও তাঁর অনুসারীদের জন্য পরিস্থিতি খুবই নাজুক। তারপরও আমাদের সম্মুখে সুযোগ আছে। আমরা নিজ নিজ দেশের জন্য অবদান রাখতে পারি।”

বিশ্বের বুকে কিভাবে শান্তি ও সৌহার্দের বাতাবরণ তৈরী করা যায় তা নিয়ে তিনি বিশদ বক্তব্য রাখেন। আজহারউদ্দিন চারটি আলাদা আলাদা ক্ষেত্রের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি ছাত্র যুবকরা যদি এই পরিসরগুলিতে ঠিকভাবে কাজ করতে পারেন তাহলে উদ্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছান সম্ভব। তিনি যে চারটি পরিসরে মুসলিম যুবকদেরকে কাজ করার দাবি করেন সেগুলি নিম্নরূপ –

প্রথমত, ইসলাম সম্পর্কে যে ভুল ধারণা সমাজের একটি বৃহদ জনসমষ্টির মাঝে প্রোথিত হতে আছে তা দূর করার জন্য সচেষ্ট হতে হবে। ইসলামের সঠিক রূপ তাঁদের সম্মুখে তুলে ধরতে হবে। আর ইসলাম সম্পর্কে মানুষের মনে যে ভীতি তৈরী করা হয়েছে তা দূর করার এটিই সব থেকে বড় হাতিয়ার বলে তিনি মতামত ব্যক্ত করেন।

দ্বিতীয়ত, নিরক্ষরতা দূরীকরণে অগ্রনী ভুমিকা গ্রহণের কথা তিনি উল্লেখ করেন। শিক্ষার উপর জোর দিতে হবে। সমাজে সচেতনতা বাড়াতে হবে, তাহলেই বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষেরা মর্যাদাপূর্ণ জীবন পেতে পারেন। ক্ষমতালোভী শাসকদের চাপের কাছে তাদেরকে নিষ্পেষিত হতে হবে না।

তৃতীয়ত, অর্থনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সমাজের প্রান্তিক, পিছিয়ে পড়া শ্রেণীকে সমান সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। বিশ্ব- শান্তির জন্য সমগ্র মানবজাতিকে অর্থনৈতিক ভাবে শ্বনির্ভরশীল করা খুবই গুুত্বপূর্ণ একটি বিষয় বলে তিনি অভিমত দান করেন।

চতুর্থত, বিশ্বের রাজনীতিতে শুধু ক্ষমতার লড়াই চলছে। ক্ষমতা পাওয়ার জন্য, তথাকথিত স্বঘোষিত বিশ্ব নেতারা দেশগুলির সামাজিক বিন্যাসকে ধ্বংস করছে। এ হেন সঙ্গীন পরিস্থিতে আমাদের মাঝে হজরত ওমর (রা:) মতো একজন নেতার প্রয়োজন। তিনি তাঁর শাসন অধীন প্রতিটি এলাকা ঘুরে দেখতেন। প্রতিটি মানুষের সমস্যার সমাধান করেছিলেন তিনি।

আগামীর তরুণ প্রজন্মের জন্য এক সোনালী সকাল রচনার জন্য সমাজের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে মিলমহব্বত তৈরী করার কথা বলেন পৃথিবীর কোনায় কোনায় থেকে আগত উপস্থিত বিভিন্নভ দেশের ছাত্র-সংগঠনের প্রতিনিধিরা। সেবা, সংহতি এবং বিকাশের মহান ব্রতী নিয়ে বিশ্বব্যাপি ছাত্র সংগঠনগুলির প্রতিনিধিত্ব করার সংকল্প নিয়ে এই আন্তর্জািক সম্মেলনের সমাপ্তি ঘোষনা করা হয়।

উল্লেখ্য, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের ভোটা ভুটির মাধ্যমে এন্স এ্যালমানকে আইআইএফএসও- র সাধারন সম্পাদক নিযুক্ত করা হয়েছে।