টিডিএন বাংলা ডেস্ক: ডিজিটাল যুগে লজ্জিত মানবতা। লকডাউনে অ্যাম্বুলেন্স মেলেনি, ৩ বছরের মৃত ছেলের দেহ নিয়ে মাইলের পর মাইল হাঁটলেন অসহায় মা। হাসপাতালও ব্যবস্থা করে দিতে পারেনি অ্যাম্বুলেন্সের। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের পটনা থেকে ৪৮ কিলোমিটার দূরে জেহানাবাদে। এক মিনিট দীর্ঘ হৃদয় বিদারক ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। দেখা যাচ্ছে, একজন মহিলা বিভ্রান্ত হয়ে কেঁদে চলেছেন। তার কোলে মৃত সন্তান। ঠিক তার পাশেই দাঁড়িয়ে রয়েছেন তার স্বামী। একজন সাহায্য করতে চান বলে শোনা যায় ভিডিওতে। আর তখনই শিশুটির বাবা উত্তর দেন, “এখন আর তাদের অ্যাম্বুলেন্সের দরকার নেই।” এমন ঘটনায় দেশজুড়ে যেমন নিন্দার ঝড় উঠেছে, তেমনি আবার বিহারের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দিকেও প্রশ্নের আঙুল তুলেছেন অনেকেই।

এই ভিডিওটি দেখার পর, ওই রাজ্যে সঠিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কোথায়- এই নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ব্যক্তি লিখেছেন, “হৃদয় ভেঙে দেওয়া এই দৃশ্য বিহারের। যেখানে লকডাউনের মধ্যে একজন মা, তার মৃত সন্তানের দেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে মাইলের পর মাইল হাঁটছেন।” অন্য একজন লিখেছেন, “হৃদয়বিদারক! মায়ের কোলে সন্তান, মৃত। তাকে নিয়েই যেতে হচ্ছে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় হাসপাতালের খোঁজে! এই তো বিহারের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা!”

মৃত শিশুটির বাবা গিরজ কুমার জানান, “বাচ্চাটি দুদিন আগে অসুস্থ হয়েছিল। জ্বর, সর্দি, কাশি হয়েছিল। শাহপুরে গ্রামের ডাক্তার তার চিকিৎসা করছিল, হঠাৎই বাচ্চার অবস্থা খারাপ হয়। তখন আমরা একটা টেম্পো ভাড়া করে জেহানাবাদের হাসপাতালে নিয়ে আসি ওকে। আমরা কোনও অ্যাম্বুলেন্স পাইনি লকডাউনের জন্য।” তিনি আরও বলেন, “জেহানাবাদে নিয়ে গেলে, সদর হাসপাতালের ডাক্তাররা বাচ্চাকে পটনা মেডিকেল কলেজ এবং হাসপাতালে রেফার করে। কিন্তু আমরা অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে পারিনি। আর এই অবহেলার কারণেই আমরা আমাদের সন্তানকে হারালাম”।

জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই রাজ্য নিয়ন্ত্রিত সদর হাসপাতালে ম্যানেজারকে সাসপেন্ড করেছে। কিছু চিকিৎসককে শোকজ নোটিস ধরানো হয়েছে। জেহানাবাদের ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট নবীন কুমার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, “যে কোনও রোগীকে অ্যাম্বুলেন্স জোগাড় করে দিতেই হবে। আমরা খোঁজ নিচ্ছি কীভাবে এই ধরনের ঘটনা ঘটল।”