টিডিএন বাংলা ডেস্ক: দেশজুড়ে করোনার  জেরে বন্ধ রয়েছে সমস্ত স্কুল কলেজ। যার ফলে প্রভূত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছাত্র-ছাত্রীরা। তাই চলতি শিক্ষাবর্ষে এই অবস্থার কথা মাথায় রেখেই সিলেবাস কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড (সিবিএসই)। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠ্যক্রমের ১৯০ টি বিষয়ের মধ্যে থেকে গণতান্ত্রিক অধিকার নাগরিকত্ব ধর্মনিরপেক্ষতার মত একাধিক অধ্যায় মিলিয়ে ৩০% বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। এরপরই এই বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।  যদিও সিবিএসসি তরফ থেকে জানানো হয়েছিল এই পরিবর্তন শুধুমাত্র ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের জন্য।

পাশাপাশি বোর্ডের তরফ থেকে আরও বলা হয়,”বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান এবং অন্যান্য শিক্ষকদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়েই বিষয়গুলি সিলেবাস থেকে আপাতত বাদ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যাও দেওয়া হবে।যে অধ্যায় গুলো সিলেবাস থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে তা স্কুলের ইন্টার্নাল অ্যাসেসমেন্ট ও বোর্ডের পরীক্ষায় থাকবে না।”


এই ঘোষণার পর থেকেই সিবিএসসি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে একের পর এক মন্তব্য করতে থাকেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। শুরু হয় বিতর্ক। এদিন সমস্ত বিতরকের অবসান করতে রমেশ পক্রিয়াল টুইটারে স্পষ্ট ভাষায় লেখেন,”#সিবিএসই সিলেবাস থেকে কিছু বিষয় বাদ দেওয়া নিয়ে নানারকম মন্তব্য করা হচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হ’ল যারা এই ধরনের মন্তব্য করছেন তাঁরা আসলে ভুয়ো গল্প ফেঁদে বিষয়টিকে একটি চাঞ্চল্যকর রূপ দিতে চান।”

করোনা পরিস্থিতিতে চলতি শিক্ষাবর্ষ যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তার কথা মাথায় রেখে বুধবার ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের সিলেবাস কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করে সিবিএসই। ছাত্রদের ওপর থেকে চাপ কমাতে কেন্দ্রীয় মধ্যশিক্ষা বোর্ডের তরফ থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয় গণতান্ত্রিক অধিকার, ভারতের খাদ্য সুরক্ষা, ফেডারেলিজম, নাগরিকত্ব এবং ধর্মনিরপেক্ষতার মত মূল অধ্যায়গুলি। সিবিএসসি এই সিদ্ধান্তের চরম বিরোধিতা করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টুইটারে লেখেন,”কোভিড সংকটে পাঠ্যক্রমের ভার কমানোর নামে নাগরিকত্ব, যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং দেশভাগের মত বিষয়কে কেন্দ্রীয় সরকার বাদ দিয়েছে জেনে বিস্মিত হচ্ছি। আমরা এর তীব্র বিরোধিতা করছি এবং ভারত সরকারের মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, কোন মূল্যেই যাতে এই গুরুতর বিষয়গুলি বাদ না যায়, তা নিশ্চিত করা হোক।”