টিডিএন বাংলা ডেস্ক: দেশে প্রতিদিন উত্তরোত্তর বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতে দেশের মানুষকে আশ্বস্ত করে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন বলেন, “ভারতে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হচ্ছে না।” বৃহস্পতিবার করোনা অতিমারির প্রভাবে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে একটি বৈঠকে অংশগ্রহণ করার পর সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “ভারত করোনা অতিমারির প্রভাবে তৃতীয় স্থানে থাকলেও ব্যাপারটিকে সঠিকভাবে বোঝা দরকার।”
তিনি ভারতের বিপুল জনসংখ্যার কথা উল্লেখ করে বলেন,”বিশ্বের জনসংখ্যার নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আমাদের দেশ। প্রতি মিলিয়নের পরিপ্রেক্ষিতে গড় হিসেব করলে আমাদের দেশের সর্বমোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫৩৮, যেখানে বিশ্বের হিসেব গড়ে ১,৪৩৫।”
এদিনের প্রাত্যহিক করোনা আক্রান্তের পরিসংখ্যান প্রকাশ করার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন সমগ্র দেশ জুড়ে সর্বমোট করোনা আক্রান্তের মধ্যে ৬২.০৮ শতাংশ রোগী ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তিনি এদিন আরও বলেন, দেশে এখনো পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীদের সর্বমোট সংখ্যা ৪,৭৬,৩৭৭। যেখানে করোনা পজিটিভ রোগীদের সংখ্যা ২,৬৯,৭৮৯। সুতরাং পজেটিভ রোগী এবং সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীদের মধ্যে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,০৬,৫৮৮।এই পরিসংখ্যান যথেষ্ট ইতিবাচক বলেই মনে করছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন। তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে আরো বলেন,”আজকের মিটিং এর কথোপকথন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞরা আবারও বলেন যে ভারতে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হচ্ছে না। কিছু জায়গায় সংক্রমনের হার অত্যধিক বেশি হলেও দেশের সর্বত্র কমিউনিটির ট্রান্সমিশন হচ্ছেনা।”
গতকালও স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল দেশজুড়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যার থেকে, শতকরা হারে সুস্থ হয়ে যাওয়া পেশেন্টের হার বেড়ে ৬১.৫৩ শতাংশ। পাশাপাশি ভারতের করোনা মোকাবিলায় উন্নততর স্বাস্থ্য পরিষেবার কথাও উল্লেখ করা হয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফ থেকে।
প্রসঙ্গত বৃহস্পতিবারের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত ২৪ ঘন্টায় দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৪,৮৭৯ জন। এখনো পর্যন্ত ভারতের সর্বমোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৭ লক্ষ ৬৭ হাজার ২৯৬ জন। এর মধ্যে করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ২ লক্ষ ৬৯ হাজার ৭৮৯। এখনো পর্যন্ত দেশজুড়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২১ হাজার ১২৯ জন। শেষ ২৪ ঘন্টায় মারা গিয়েছেন ৪৮৭ জন।