সেখ সাদ্দাম হোসেন, টিডিএন বাংলা, কলকাতা: প্রতি বছরের ন্যায় এবছরেও রাজস্থানের যোধপুরে অবস্থানরত বাঙালীদের উদ্যোগে শনিবার পালিত হল ঈদে মিলাদুন্নবী। মূলত কর্মক্ষেত্রে যোধপুরে থাকা বাঙালিদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা তামিম সিদ্দিকী সাহবে, নবাবিয়া মিশনের কর্নধার শাহিদ আকবর সহ আরও অনেকে। এই মহতি অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা জনাব সেখ শাকিল হোসেন, জামালউদ্দিন সাহেব, আবিদুর রহমান, নাসিরউদ্দীন প্রমুখদের থেকেই জানা গেল এর আগে মিলাদুন্নবী হলেও এবছরের উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মত। গত কয়েক বছরের তুলনায় লোকজনের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। তাদের কথায়, স্বাধীনতা সংগ্রামী যুগসংস্কারক পীর অবুবকর সিদ্দিকী(দাদা হুজুর,রহঃ)-র বংশধর তামিম সিদ্দিকীকে পেয়েই মানুষের মধ্যে মিলাদুন্নবীর উন্মাদনা আরও বেড়ে গেছে। কেউ কেউ বলেন, কর্মসূত্রে বাইরে থাকার জন্য ফুরফুরাতে যাওয়া হয়না। পীরসাহেব ও পীরজাদা দের সাথে দেখাও হয় না। তাই আজ কাছে পেয়ে অনেক ভালো লাগছে।

পীরজাদা তামিম সিদ্দিকী বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, “ঈদে মিলাদুন্নবী শুধু পালন করলে হবেনা। নবীর আদর্শে জীবন গঠন করতে হবে। আর তার জন্য প্রয়োজন সব রকমের শিক্ষা। আর এক দিকে মুসলিমদের শিক্ষা ক্ষেত্রে যেমন পিছিয়ে রাখা হচ্ছে তেমনি মুসলিমরা নিজে থেকেই শিক্ষায় পিছিয়ে পড়ছে। অথচ নবী(সঃ) শিক্ষার উপর জোড় দিয়েছিলেন বেশি। তাই আসুন আমরা আজ সবাই নবী দিবসের দিনে রাসূল(সঃ)-এর সুন্নত ও আদর্শ মোতাবেক জীবন গড়ার শপথ নিই।” আর বাংলার শিক্ষা জগতের বিকাশ পুরুষ নবাবিয়া মিশনের কর্ণধার শাহিদ আকবর সাহেব বলেন, “শুধু নবী দিবসের দিনে নবীর ভালোবাসা দেখাবো, আর বছরের বাকি দিন গুলো তার ধারেকাছেও যাবো না। তাহলে আর কিসের নবী প্রেম? নবী প্রেম যদি সত্যিই থাকে তাহলে আজকের মত আর ৩৬৪টা দিনেও একই ভাবে শরীয়ত মোতাবেক চলা প্রয়োজন।” তিনি আরও বলেন, “জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত কিভাবে জীবন যাপন করতে হবে তার সুষ্পষ্ট বিধান ইসলামেই সব থেকে পরিপূরক ভাবে রয়েছে। তাই সেগুলো সঠিক ভাবে জানা ও মানার মধ্যে দিয়েই আমাদের জীবনকে সুন্দর করে তুলতে হবে।”