টিডিএন বাংলা ডেস্ক: মাঝে মাঝেই খবরের শিরোনামে উঠে আসে কিছু অসাধু লোক ধর্মীয় স্থানে গো কিংবা শূকরের মাংস রেখে দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করে করে চলেছেন। কিন্তু শেষে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। এবারেও তেমনটাই ঘটল। মন্দিরে মাংস রেখে দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করলেন এক ব্যক্তি। ঘটনায় অভিযুক্ত ৪৮ বছর বয়সী এস হরি রামপ্রকাশকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটু শহরে।

ইংরেজি অনলাইন নিউজ পোর্টাল টাইমস অফ ইন্ডিয়ার খবরে প্রকাশ, শুক্রবার সন্ধ্যায় তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটু শহরে ভেনুগোপাল কৃষ্ণস্বামী মন্দির এবং শ্রী রাগবেন্দ্র মন্দিরের সামনে মাংস রেখে বিতর্ক ও দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করে হরি রামপ্রকাশ। ঘটনা জানাজানি হতেই চাঞ্চল্য শুরু হয় মন্দির এলাকায়। শেষে জানা যায় ঘটনাটি ঘটিয়েছে হরি রামপ্রকাশ নামের ওই ব্যক্তি। এরপর তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় স্থানীয়রা।  শুক্রবার সন্ধ্যায় হরি রামপ্রকাশকে গ্রেফতার করে কোয়েম্বাটু শহরের পুলিশ। যদিও গ্রেফতারের পর হরি রামপ্রকাশকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে দাবি করে তার পরিবার। কিন্তু এমন কোনও মেডিকেল রেকর্ড নেই সে মানসিকভাবে অসুস্থ প্রমাণ করবে।

হরির বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় দন্ডবিধি ১৫৩ এ (বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা প্রচারের) ধারা ২৯৫ এ (ইচ্ছাকৃত এবং ধর্মীয় বিশ্বাসকে অবমাননা করে ধর্মীয় অনুভূতিকে ঘৃণা করার উদ্দেশ্যে) এবং  (ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মে ধর্মে  বিভেদ তৈরির চেষ্টার উদ্দেশ্যে) মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কোয়েম্বাটু সিটি পুলিশ কমিশনার সুমিত শরণ বলেন, “আমরা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি এবং একজনকে পেয়েছি, যে তার মোটরসাইকেল দুটি মন্দিরের নিকটে দাঁড় করিয়ে মন্দির থেকে ফিরে এসেছিল। তার ভিত্তিতে আমরা হরিকে সনাক্ত করে গ্রেপ্তার করেছিলাম। ”

কমিশনার আরও জানান, শহরটিতে অনেক জায়গায় সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে এবং এটি পুলিশ কর্মকর্তাদের দ্রুত তদন্তে সহায়তা করেছে।

হরির প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় তারা অভিযোগ করেছিলেন যে তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন না। পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে তিনি কাভুন্দমপালিমের একটি দোকান থেকে এক কেজি শুয়োরের মাংস কিনেছিলেন।