টিডিএন বাংলা ডেস্ক: দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজে গত মাসে তবলিগ জামাতের বড় প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অংশগ্রহণকারী বেশ কিছু লোকের কোভিড-১৯ ধরা পড়লে দেশের একশ্রেণির মিডিয়া ও মানুষ মুসলিম বিদ্বেষী প্রপাগান্ডা ছড়ানো শুরু করে। করোনা ভাইরাস মুসলিমরাই ছড়াচ্ছে, এমন একটি তত্ত্ব দাঁড় করানোর চেষ্টা চলে। পরবর্তীতে বিস্তারিত রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে, মারকাজে ভিড়ের জন্য যতটা না জামাত দায়ী, তার চেয়ে বেশি দোষী স্থানীয় প্রশাসন। এর পর স্বভাবতই প্রশ্ন উঠে আসছে দেশজুড়ে মুসলিম বিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য পরিকল্পনা করেই কি এই তবলিগ জামাতের লোকদের দিল্লিতে ‘ অবরুদ্ধ করা হয়েছিল? এই ছকের পিছনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখ। দেশের জনগণের সামনে মুসলিম সম্প্রদায়কে আরও হীন প্রতিপন্ন করার জন্য অমিত শাহ ও অজিত দোভালের ইচ্ছাকৃত পদক্ষেপ এই তবলিগ জামাত কাণ্ড, এমন গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে তার মুখ থেকে।

সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে বিধে অনিল দেশমুখ বুধবার বলেছেন, এই ধর্মীয় সমাবেশ থেকে করোনা ছড়ানোর জন্য কেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে দায়ী করা হবে না? মহারাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল দেশমুখ আরও অভিযোগ করেন, জামাতের প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হওয়ার সময়কালে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত দোভাল জামাত নেতা মাওলানা সাদের সঙ্গে রাত ২টোয় সাক্ষাৎ করেছিলেন। তিনি দুজনের মধ্যে কী গোপন মিটিং হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার প্রশ্ন, দোভালকে সাদের সঙ্গে দেখা করতে গভীর রাতে কে পাঠিয়েছিল? জামাতের সদস্যদের কাছে পৌঁছনো এনএসএর কাজ ছিল নাকি দিল্লি পুলিশ কমিশনারের? এনসিপি-র এই প্রবীণ নেতা এ ধরনের আটটি প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে।

তিনি বলেন, মারকাজের নিকটে অবস্থিত নিজামুদ্দিন থানা থাকা সত্ত্বেও জামাতের প্রোগ্রামটি বন্ধ করা হয়নি কেন কোভিডের প্রেক্ষিতে? কেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক দিল্লির নিজামুদ্দিনে তবলিগ জামাতের ইজতেমা আয়োজনের অনুমতি দিয়েছিল? কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে তোপ দেগে দেশমুখ বলেন, মারকাজে এ জাতীয় বড় প্রোগ্রামের অনুমতি দিয়ে এবং পরবর্তীকালে অন্যান্য রাজ্যে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক কি দায়ী নয়?

তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন দোভাল ও দিল্লির পুলিশ কমিশনার এসএন শ্রীবাস্তব এই বিষয়ে কথা বলেননি। দোভালের সঙ্গে দেখা করার পরদিন মাওলানা সাদ কোথায় পালিয়ে গেছেন, এ প্রশ্নও এসেছে তার কাছ থেকে। প্রকারান্তরে তিনি বারবার ‘পরিকল্পিত ছকের কথাই তার বক্তব্যে দাবি করেছেন। কোভিড-১৯ হটস্পট হয়ে ওঠা দিল্লির নিজামুদ্দিনে তবলিগি জামাতের সমাবেশের অনুমতি কে দিয়েছিল, সোমবার এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ারও নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। (সৌজন্য- পুবের কলম)