টিডিএন বাংলা ডেস্ক: সকল পড়ুয়াদের জন্য অবশ্য পালনীয় প্রভাত প্রার্থনা। হাত জোড় করে গাইতে হবে হিন্দু শাস্ত্রের ‘সাংস্কৃতিক শ্লোক’। সম্প্রতি এমনই নিদান দেওয়া হয় কেন্দীয় বিদ্যালয়গুলিতে। নিয়মের অন্যথা হলেই পেতে হবে সাজা। দেশের সর্বভারতীয় মুসলিম সংগঠন জমিয়ত উলামায়ে হিন্দ সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করলো কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে। যদিও সর্বোচ্চ আদালত আবেদন পত্র গ্রহণ করেনি, তবে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী শুনানির সময় সাংবিধানিক বেঞ্চের সামনে তাদেরকে বক্তব্য পেশ করার সুযোগ দেওয়া হবে। জমিয়ত উলামায়ে হিন্দ তাদের আবেদন পত্রে জানায়, এধরনের নিয়ম সংবিধান বিরোধী।

আবেদন পত্রে বলা হয়, সংবিধানের আর্টিকল 92 এর ১০ম অনুচ্ছেদের সাধারণ প্রার্থনাকে নতুন করে
সংশোধিত করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় সংগঠনের জন্য। এটি হিন্দু ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত। অন্যান্য ধর্মের সঙ্গে এর কোনো সংশ্লীষ্টতা নেই। তারপরও অহিন্দুদেরকেও বাধ্যতামুলকভাবে উপাসনা, গান করতে হবে। অন্যথা হলে শিক্ষকরা শাস্তি দেবেন। যেহেতু উল্লেখিত প্রার্থনা মূলত হিন্দুধর্মের উপরই ভিত্তি করে, সেহেতু অন্যান্য সংখালঘু সম্প্রদায়ের উপর তা চাপিয়ে দেওয়ায় তারা মর্মাহত।

ইতিপূর্বে, মধ্যপ্রদেশের এক আইনজীবি বিনায়ক শাহ কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের এই নির্দেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানায়। সুপ্রিম কোর্ট এই আবেদন গ্রহণ করে।
বিচারপতি ফলি নরিম্যান এবং বিচারপতি নবীন সিনহার বেঞ্চ আবেদনকারীর বক্তব্য শোনার পর সিদ্ধান্ত নেয় বিষয়টির নিষ্পত্তি হোক বৃহত্তর সংবিধান বেঞ্চে।

আবেদনকরি মনে করেন এই নির্দেশের ফলে মুসলিম ছাত্রছাত্রীদের বেশি অসুবিধা হওয়ার কথা। তাছাড়া জোর করে একটি বিশেষ ধৰ্ম শাস্ত্রগান কেন সরকারি স্কুলে বাধ্যতামূলক হবে। এটা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সরকারের অর্থে পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন বিশেষ ধর্মের গুণকীর্তন করা যায়না। এটা নিয়ে আদালতে রায় রয়েছে। তাছাড়া সংস্কৃত ভাষাকেও প্রকারান্তরে বাধ্যতামূলক করে দেওয়া হচ্ছে সব ধর্মের ছাত্রছাত্রীদের জন্য।

রাষ্ট্র এভাবে বিশেষ ধর্মের বিধান চাপিয়ে দিতে পারেনা ছাত্রদের উপর বলে মনে করেন আবেদনকারী আইনজীবী। ধর্মাশ্রিত কোন প্রার্থনা, গান ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বাল্যকাল থেকেই প্রভাব বিস্তার করবে। বিশেষ করে অহিন্দু পড়ুয়ারা ভাবতে পারে তাদের উওর জবরদস্তি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে অন্য ধর্মের নিয়ম। এটা সংবিধানের ২৮(১) ধারার বিরোধী। বলা হয়েছে, কোনো ধর্মীয় নির্দেশ দেওয়া যাবে না সরকারি অর্থে পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। কোনো বিশেষ ধর্মের প্রোপাগান্ডা প্রচার করতে পারবেনা সরকারি স্কুল।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় স্কুলে এধরনের নিয়ম চালু করার পর কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোন সদর্থক ভূমিকা নেওয়া হয়নি বরং বিতর্কটিকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় সরকার পক্ষ থেকে আদালতের কাছে জানানো হয় যেহেতু কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা, তাই এই নির্দেশ নিয়ে সরকারের কিছু করার নেই।