টিডিএন বাংলা ডেস্ক: দিল্লি দাঙ্গা ঘটনায় সরাসরি নয় তবে দিল্লি দাঙ্গার দিনে স্কুলে ঢুকে ভাঙচুর করার অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছিল ইলিয়াসকে। প্রথমে রাজধানী পাবলিক স্কুলে ভাঙচুর করার জন্য ১৭ মার্চ এবং পরে দিল্লি পাবলিক স্কুলে ভাঙচুর করার অপরাধে ১৪ মে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫ মাসেরও বেশি সময় জেলে কাটিয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর, জামিনে মুক্তি পেয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা “দি ওয়ার” পত্রিকাকে জানালেন ইলিয়াস।

“দি ওয়ার” পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী জেল থেকে মুক্তির পর নিজের অভিজ্ঞতার সম্পর্কে বলতে গিয়ে ইলিয়াস জানিয়েছে, তাঁর মনে হচ্ছিল যে শুধুমাত্র মুসলিম হওয়ার জন্যই তাঁকে নিশানা করা হয়েছিল। ইলিয়াস বলেন পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসা করে, “এরাই স্বাধীনতা চাইছিল না?”ইলিয়াস “দি ওয়ার”কে আরো বলেন, প্রথমবার যখন তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল সে সময় তাকে দয়ালপুর থানায় নিয়ে গিয়ে দিল্লি দাঙ্গার সিসিটিভি ফুটেজ দেখিয়ে পুলিশ দাঙ্গাকারীদের সনাক্তকরণ করতে বলেছিল। ইলিয়াসের অভিযোগ সেসময় তিনি কিছু হিন্দুদের নাম নেওয়া শুরু করতেই পুলিশ তাকে থামিয়ে দিয়ে মুসলিমদের নাম নিতে বলে। এমনকি, ওই দাঙ্গার সঙ্গে নিজের কোনরকম যোগাযোগের কথা অস্বীকার করতে চাইলে ইলিয়াসকে পুলিশ বলে, দিল্লি দাঙ্গার ওই সিসিটিভি ফুটেজ থেকে দশজন মুসলমানের নাম বলে দিতে পারলে তাঁকে তৎক্ষণাৎ ছেড়ে দেওয়া হবে।

ইলিয়াসের বিরুদ্ধে কোনো জোরালো অভিযোগ না থাকা সত্বেও দিল্লি দাঙ্গার ঘটনা স্কুলে ভাঙচুর করার অপরাধে তাকে মানডোলি জেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ইলিয়াসের অভিযোগ, “আমার ধর্মকেই আমার অপরাধ বানিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

যদিও এ প্রসঙ্গে দিল্লি পুলিশের তরফ থেকে কোন মন্তব্য করা হয়নি।”দি ওয়ার”পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী এই বিষয়ে কোন রকম মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন এস আই পঙ্কজ কুমার, ক্রাইম ব্রাঞ্চ।

তবে এভাবে পরপর দুবার স্কুলে ভাঙচুর করার অপরাধে গ্রেপ্তার হওয়ার পরেও ইলিয়াসের কাছে আজও স্পষ্ট নয় তিনি কি অন্যায় করেছিলেন। কেন তাকে জেলে পাঠানো হয়েছিল। ইলিয়াস জানিয়েছেন, তার পরিবার আজও ভয়ে ভয়ে দিন কাটায়। তার বোন বোরখা পরে বাইরে বের হতে ভয় পান। তাঁর জামাইবাবু মুরসালিন বড় দাড়ি রাখতে ভয় পান। তাঁদের ভয়, মুসলিম হওয়ার অপরাধে তাঁদের ফের কোনো অভিযোগে জেলে পাঠিয়ে দিতে পারে পুলিশ। এককথায়, ২৮ বছরের ইলিয়াস এবং তার পরিবার দিল্লি দাঙ্গার ঘটনার পর থেকে নিজেদের পাড়া-প্রতিবেশীদের মধ্যেই সুরক্ষিত বোধ করেন না।