টিডিএন বাংলা ডেস্ক: বেসরকারি ট্রেনের টিকিট এর ভাড়া কত হবে তা নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট সংস্থা গুলি। এর ওপরে রেল বোর্ডের কোন নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। এমনটাই জানিয়েছেন রেল বোর্ডের চেয়ারম্যান ভিকে যাদব। অনেকদিন ধরেই বেসরকারি রেলের ভাড়ার ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকবে কিনা তা নিয়ে আলোচনা চলছিল। এমনকি এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল নিলামে অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলিও। বৃহস্পতিবার সেই সম্ভাবনায় সহমত জানিয়ে ভিকে যাদব বলেন,”বেসরকারি সংস্থাগুলিকে ট্রেনের ভাড়া নির্ধারণ করার স্বাধীনতা দেওয়া হবে। তবে, ওই একই রুটে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত বাস এবং প্লেন চলবে। ভাড়া নির্ধারণের সময় বেসরকারি সংস্থা গুলিকে এই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।”

ভারতের মতো জনবহুল দেশে এবং বিশেষত অর্থনীতির দিক থেকে রেলপথ হচ্ছে এমন একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা যার ওপর ভারতের বেশিরভাগ মানুষ নির্ভরশীল।একটা পরিসংখ্যান অনুসারে ভারতে প্রতিদিন কতজন মানুষ রেলপথে যাতায়াত করেন সেই অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যার সমান। তাই টিকিটের ভাড়া ভারতে সব সময় রাজনৈতিক দিক থেকে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গত কয়েক দশক ধরে অবহেলা এবং আমলাতন্ত্রের ফাঁদে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভারতীয় রেল। ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ট্রেন চলাচল থেকে শুরু করে স্টেশনের আধুনিকীকরণ এবং ট্রেনের আধুনিকীকরণের জন্য বেসরকারি বিনিয়োগের আহ্বান করেছে মোদি সরকার। ভিকে যাদব জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই অ্যালস্টম এসএ, বম্বার্ডিয়ার ইনকর্পোরেটেড, জিএমআর ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড এবং আদানি এন্টারপ্রাইসেস লিমিটেডের মতো বেসরকারি সংস্থাগুলি রেলে বিনিয়োগ করতে উৎসাহ দেখিয়েছে।রেল মন্ত্রকের হিসেব অনুযায়ী কমপক্ষে ৭৫০ কোটি টাকার বিনিয়োগ হতে পারে ভারতীয় রেলে।

এদিকে, রেলের আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে জাপানের থেকে কম সুদে ঋণ নিয়ে বুলেট ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা করেছে মোদি সরকার। দূরপাল্লা ট্রেনের পাশাপাশি লোকাল ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও করা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত মোট ১০৯ টি রুটে ১৫১ টি ট্রেন চালানোর জন্য বেসরকারি সংস্থা গুলির দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায় সরকার। ৩৫ বছরের লিজে এই পরিচালন ভার নিতে পারবে বেসরকারি সংস্থাগুলি।