representative image

নিজস্ব সংবাদদাতা,টিডিএন বাংলা, কলকাতা: আসন্ন ঈদ-উল-আযহা সম্পর্কে জামাআতে ইসলামী হিন্দ শরিয়াহ কাউন্সিলের একটি বিবৃতি জারি করেছে। ওই বিবৃতিতে মুসলিম মিল্লাতের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জামায়াতের শরিয়াহ কাউন্সিল বলছে, কয়েকদিন পরে ঈদ-উল-আযহা অনুষ্ঠিত হবে। কুরবানী এর গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। করোনাভাইরাস মহামারি এবং তার জন্য সরকারি নানা বিধি-নিষেধ থাকার ফলে ঈদের বিষয়ে বিভিন্ন প্রকার প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।’ বিবৃতিতে বলা হয়, কুরবানী হযরত ইব্রাহিম (আ:)এর সুন্নাত। এর উপর শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সা. আমল করেছেন এবং এর উপর আমল করার জন্য নিজের উম্মতকে তাগিদ দিয়েছেন। এটি কেবল একটি
প্রথা নয়। হাদিস শরীফে এসেছে, আইয়ামে তাশরিকের মধ্যে কুরবানী দেওয়ার থেকে বড় কোন আমল আল্লাহ্র নিকট প্রিয় নয়। এজন্য ঈদ-উল-আযহার সময়ে মুসলমানদের যথাসম্ভব কুরবানী করার প্রচেষ্টা চালানো দরকার।’
জামায়াতে ইসলামী বলছে,সাদকা, খয়রাত, সেবামূলক অন্যান্য সৎকর্ম এর বিকল্প হতে পারে না। যে সকল ব্যক্তির উপর কুরবানী ওয়াজিব, সরকারি বা অন্যান্য নিষেধাজ্ঞার জন্য ইচ্ছা ও প্রচেষ্টা থাকা সত্ত্বেও কুরবানী করতে না পারে, তারা যেন অন্যত্র কুরবানী করানোর প্রচেষ্টা চালায়। যদি তা-ও সম্ভব না হয় কুরবানীর দিনগুলি অতিবাহিত হওয়ার পর কুরবানীর সমমূল্যের অর্থ গরিবদের মধ্যে দান করে দেবে।”
সংগঠনটি আরও বলছে,আইনের মধ্যে অবস্থান করে মুসলমানদের দ্বীন ও শরীয়তের উপর আমল কর্ম করার প্রচেষ্টা চালাতে হবে। যে সকল পশুর উপর কুরবানী দেওয়া আইনগতভাবে নিষেধ আছে তা থেকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে । করোনা প্রকোপের এই সময়ে সব রকমের সতর্কতামূলক পন্থা গ্রহণ করতে হবে। রাস্তা, ফুটপাথ, চলার পথে কুরবানী না করা হোক। স্বাস্থ্যবিধি
মেনে চলার দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। কুরবানীর পশুর রক্ত, অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলিকে মাটিতে পুঁতে দিতে হবে।
কুরবানীর আগে একটি কমিটি গঠন করতে হবে। এই কমিটি এলাকার পরিস্থিতির উপর নজর রাখবে। শান্তি-শৃগ্বলা বজায় রাখতে এই কমিটি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করবে। সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে ঈদগাহ ও মসজিদে নামাজ আদায় করতে হবে।
যে সকল জায়গায় করোনার জন্য বিধিনিষেধ আছে সেখানে বাড়িতে নামায আদায় করতে হবে, যেমন ঈদ-উল – ফিতরের সময়ে করা হয়েছিল।”
জামাতের শরীয়াহ কাউন্সিল কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলোর কাছে দাবি করেছে, নামাযে ঈদ ও কুরবানী মুসলমানদের কাছে অসাধারণ গুরুত্ব রাখে, তাই যতদূর সন্তব মুসলমানদের সুবিধা দিতে হবে এবং বিশৃঙ্লা সৃষ্টিকারীদের থেকে রক্ষা করতে হবে।’