টিডিএন বাংলা ডেস্ক : সেনার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ দেশ। কিন্তু এই ইস্যুতে ভোট রাজনীতি করার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। আর এতেই ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। এদিকে সেনা মৃত্যুর ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের প্রতিবাদ জানালো বিরোধী দলগুলি। বুধবার দিল্লিতে ২১ বিরোধী দলের বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে বিজেপি’র নির্লজ্জ রাজনীতিকরণে ক্ষোভ জানানো হয়েছে। পুলওয়ামায় জঘন্য সন্ত্রাসবাদী হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন বিরোধীরা। পাশাপাশি সরকারের উদ্দেশ্যে বিরোধী দলগুলি বলেছে, জাতীয় স্বার্থকে সঙ্কীর্ণ রাজনীতির ওপরে জায়গা দিতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী সর্বদলীয় বৈঠক করেন। কিন্তু  তা না হওয়ায় খেদ জানান বিরোধীরা। ইউপিএ চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধীর ডাকে এদিন এই বৈঠক হয়েছে দিল্লিতে। জানা গিয়েছে, সোনিয়া গান্ধীর আহ্বানে বৈঠকের গোড়ায় পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেছেন সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী, দলের সাংসদ এবং রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা গুলাম নবি আজাদ অংশ নেন বৈঠকে। বৈঠকে অংশ নিয়েছেন সিপিআই সাধারণ সম্পাদক এস সুধাকর রেড্ডিও। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি, বিএসপি’র সতীশ মিশ্র, আরজেডি’র মনোজ ঝা, আম আদমি পার্টির সঞ্জয় সিং, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার শিবু সোরেন, জনতা দল (এস)’র দানিশ আলি, এইচএএম’র জিতন রাম মাঝি, আরএলএসপি উপেন্দ্র কুশওয়াহা, টিজেএস’র কোদণ্ডরাম বৈঠকে যোগ দেন এদিন। সমাজবাদী পার্টি যোগ দেয়নি বৈঠকে। ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লাও ছিলেন না।
যৌথ বিবৃতিতে সমর্থন জানানো হয়েছে সন্ত্রাসবাদী শক্তির ঘাঁটিতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর আক্রমণে। সরকারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সশস্ত্র বাহিনীর সাহসিকতার প্রশংসাও করেছেন বিরোধীরা। পাশাপাশি, জওয়ানদের আত্মত্যাগ নিয়ে বিজেপি যেভাবে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে নেমেছে তাতে তীব্র ক্ষোভ জানানো হয়েছে। পুলওয়ামায় সিআরপিএফ জওয়ানদের ওপর সন্ত্রাসবাদী হামলার পর দেশের পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জানিয়েছেন বিরোধীরা। বিদেশমন্ত্রক বুধবারই জানিয়েছে যে পাকিস্তান ভারতের সামরিক সরঞ্জাম লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। ভারতের একটি যুদ্ধবিমান নিখোঁজ। পাকিস্তানের নিন্দা করার পাশাপাশি নিখোঁজ পাইলটের সুরক্ষা সম্পর্কে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে। একুশটি রাজনৈতিক দলের নেতারা কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে বলেছেন, দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দেশের মানুষকে সঙ্গে নেওয়ার জন্যও বলেছেন বিরোধী নেতৃবৃন্দ। এদিন বৈঠকে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, দেশের রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে হবে মানুষের প্রতিদিনের জীবনযন্ত্রণার ভাষ্য। তিনি বলেন, দেশের রাজনীতিতে প্রাধান্য তৈরি করছিল মানুষের ভাষ্য। পুলওয়ামায় জঘন্য সন্ত্রাসবাদী হামলার পর পরিস্থিতির সাময়িক পরিবর্তন হয়েছে। বিজেপি সরকারের পছন্দমতো রাজনৈতিক ভাষ্য প্রাধান্য তৈরি করেছে জনজীবনে। বিরোধী নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, জীবন-জীবিকার পক্ষে সঙ্কট নিয়ে প্রশ্ন তুলতে হবে নিজের নিজের জায়গায়। চালকের আসনে ফিরিয়ে আনতে হবে মানুষের ভাষ্যকে। জানা গিয়েছে, যৌথ বিবৃতির প্রথম খসড়ায় জওয়ানদের আত্মত্যাগের রাজনীতিকরণ প্রসঙ্গ ছিল না। বামপন্থী নেতৃবৃন্দের সক্রিয়তায় বিষয়টি লেখা হয় বিবৃতিতে।
সোনিয়া গান্ধী বৈঠকের শুরুতে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার অনুরোধ করেন ইয়েচুরিকে। আলোচনার ভিত্তিতে প্রস্তাবও গ্রহণ করা হয়েছে। ভারত-পাকিস্তান সামরিক সংঘাতের পরিস্থিতি রাজনীতিতে প্রভাব ফেলছে। বিজেপি সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বীরত্ব প্রচারে নেমেছে ভোটের লক্ষ্যে। বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলির একাংশও পরিস্থিতির কারণে খানিক গুটিয়ে গিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। জানা গিয়েছে, বৈঠকে ইয়েচুরি আবেদন জানিয়েছেন প্রতিবেশি দু’দেশের যুদ্ধের বিপক্ষে জনমত গড়ার জন্যও। কাশ্মীরের মানুষের নিরাপত্তাহীনতার মতো বিষয়ও প্রচারে শামিল করার আবেদন জানান তিনি। পাকিস্তানে আটক ভারতীয় বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সবরকম ব্যবস্থাগ্রহণে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে সিপিআই(এম)। পাশপাশি পার্টি বলেছে, সাহসী এই উইং কমান্ডারের জন্য সারা দেশ গর্বিত। বৈঠকে অন্যতম আলোচ্য ছিল বিরোধী দলগুলির অভিন্ন ন্যূনতম কর্মসূচি। সিপিআই(এম) এবং সিপিআই এই প্রস্তাবে সহমত ছিল না। জানা গিয়েছে, ইয়েচুরি বলেছেন যে নির্বাচনের পর এমন কর্মসূচি তৈরি হতে পারে। নির্বাচনের আগে অভিন্ন কর্মসূচিতে সিপিআই(এম)’র শরিক হতে পারবে না। কারণ, বিভিন্ন রাজ্যে বিরোধী দলগুলিও একে অপরের সঙ্গে লড়াইয়ে রয়েছে। এই অবস্থায় অভিন্ন ন্যূনতম কর্মসূচি প্রাসঙ্গিক হতে পারে ভোট পরবর্তী পরিস্থিতিতে। পুলওয়ামা হামলা পরবর্তী পরিস্থিতি থেকে ভোটে ফায়দা তোলার পরিকল্পনা জানা গিয়েছে বিজেপি সূত্র থেকেও। রাজনৈতিক মহলের গুরুত্বপূর্ণ অংশেরই মত, সম্ভবত পঞ্চাশ দিনের মধ্যে হবে লোকসভা ভোট। তার আগে চিত্রনাট্য চূড়ান্ত করে ফেলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। সূত্রের খবর, বিশেষত হিন্দি বলয়ে হারানো জমি ফেরাতে চাইছে বিজেপি।