টিডিএন বাংলা ডেস্ক : পুলওয়ামার হামলার পর ক্ষোভে ফুটছে সারা দেশ। জওয়ানদের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ দেশ চায় কড়া ব্যবস্থা নিন মোদী। এদিন উত্তর প্রদেশের ঝাঁসির প্রকাশ্য জনসভায় মোদীর ঘোষণা, প্রত্যুত্তর দেওয়া হবেই। পুলওয়ামায় হামলাকারী জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ শুধু নয়, জঙ্গিদের মদতদাতাদেরও ‘জবাব’ দেওয়া হবে বলে মোদী শুক্রবার মন্তব্য করেছেন।

এদিন সকালেও নাম না করে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মোদী। সেই ধারা বজায় রেখে আবার  সরব হলেন। পাকিস্তানের মদতেই যে হামলা হয়েছে, প্রকাশ্য সভা থেকে এ কথা বলার সময়ে এ দিন আর কোনও কূটনৈতিক রাখঢাকের ধার ধারেননি মোদী। প্রত্যাঘাতের বিষয়ে যে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সেনাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী এ দিন ঘোষণা করেছেন।

উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসিতে আয়োজিত এক সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এদিন অত্যন্ত কঠোর বার্তা দিয়েছেন। যারা পুলওয়ামায় হামলা চালিয়েছে, তারা কিছুতেই ছাড় পাবে না— এভাবেই এদিন দেশকে আশ্বস্ত করতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ‘‘সন্ত্রাসবাদীদের এবং তাদের মদতদাতাদের আমি বলতে চাই, তারা খুব বড় ভুল করে ফেলেছে। এর জন্য খুব বড় মূল্য চোকাতে হবে তাদের।’’

বৃহস্পতিবারই হামলার দায় স্বীকার করেছিল জইশ-ই-মহম্মদ। আর জইশ যে পাক মদতপুষ্ট সংগঠন, জইশ-প্রধান মৌলানা মাসুদ আজহারকে রাষ্ট্রসংঘের নিষেধাজ্ঞার হাত থেকে বাঁচাতে যে পাকিস্তান সব সময় তৎপর, তা কারও অজানা নয়। তাই ভারতের প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার আর কোনও রাখঢাক করেননি। পুলওয়ামায় বৃহস্পতিবারের ভয়ঙ্কর হামলার ছবি গোটা বিশ্বের সামনে তুলে ধরে পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক মহলের সামনে আরও কোণঠাসা করতে তৎপর হয়েছে ভারত সরকার।

ঝাঁসির সভা থেকে নরেন্দ্র মোদী এ দিন জানান, গোটা বিশ্ব ভারতের পাশে রয়েছে। এই হামলার নিন্দা করে বিভিন্ন দেশ থেকে তাঁর কাছে বার্তা আসছে বলে মোদী এ দিন জানিয়েছেন। উরি হামলার পর জবাব দিতে দেরি করেননি মোদী। তবে আগে ভারত চেয়েছে বন্ধুত্বের মাধ্যমে বিরোধের নিষ্পত্তি। কিন্তু পাকিস্তান কোনোদিনই সন্ত্রাস রফতানি বন্ধ করেনি। তাই সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের আশ্রয় নিতে হয়েছে ভারতকে। এবার মোদী কীভাবে প্রত্যাঘাত হানেন, তাই দেখার। কারণ সামনে ভোট।