টিডিএন বাংলা ডেস্ক: দু’দিন ধরে একই ওয়ার্ডে পড়ে থাকা করোনায় আক্রান্তের মৃতদেহের পাশেই চিকিৎসাধীন অপর রোগীরা। এমনই চাঞ্চল্যকর একটি ভিডিও বুধবার টুইট করেন আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব। তার পোস্ট করা ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে একটি হাসপাতালের ওয়ার্ড-এর ছবি, যেখানে বেশকিছু রোগী ভর্তি রয়েছেন। আর তাদের মধ্যেই পড়ে রয়েছে দুজন করোনা আক্রান্তের মৃতদেহ। দুদিন ধরে পড়ে রয়েছে শবদেহ গুলি। শুধু তাই নয় ওই ভিডিওতে এক যুবক অভিযোগ করছেন হাসপাতালে কোন ডাক্তার বা নার্সও নেই। কারুর অক্সিজেনের প্রয়োজন পড়লে সেটা সঠিকভাবে দেখে দেওয়ারও কোন লোক নেই। পরিবারের লোকেরাই যত্ন নিচ্ছে রোগীদের।
বুধবার এই ভিডিওটি পোস্ট করে বিহারের আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব টুইটারে লেখেন,”বিহারের কি ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখুন। করণা ওয়ার্ডে দুদিন ধরে মৃত ব্যক্তিদের শব পড়ে রয়েছে। জীবিত রোগী পাশের বেডেই শুয়ে আছে। কোন ডাক্তার, নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মী নেই। রোগীর বাড়ির লোকেরাই তাদের দেখভাল করছে। ডক্টর, নার্স এবং ভেন্টিলেটার মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে কারণ ওখানেও ৬০ জন করোনা পজেটিভ রোগী রয়েছেন।”

বিহারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মঙ্গল পান্ডেকে এই ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান “এ বিষয়ে তিনি খোজ নিয়ে দেখেছেন এই ভিডিওটি সম্পূর্ণ মিথ্যে।”
এদিকে পাটনার করোনা হাসপাতাল এনএমসিএইচ-এ করোনা পজেটিভ রোগীদের মৃত্যুর পর তাদের সব দেহ সরিয়ে ফেলতে বিলম্ব করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন রোগীরা। বুধবার ৫ জন রোগীর মৃত্যুর পরে তাদের দেহ সরাতে বিলম্ব হওয়ার কথা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীরা। রোগীদের অভিযোগ, করণা আক্রান্তের মৃত্যু হলে তার মৃতদেহ সেই বিছানাতেই ফেলে রাখা হয় বহুক্ষণ।
বিহারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মঙ্গল পান্ডেকে করোনা আক্রান্তের মৃতদেহ সরিয়ে ফেলার বিষয়ে কি প্রটোকল আছে তা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন,”প্রক্রিয়া অনুযায়ী করানা আক্রান্তের মৃত্যু হলে তার পরিবারকে সূচনা দেওয়া, রোগী যে জেলার সেই জেলা প্রশাসনকে সূচনা দেওয়া, তারপর তার দেহকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্যানিটাইজ করা, এরপরে মৃতদেহের জন্য একটি বডি ব্যাগ দেওয়া, মৃতদেহটি যে ভ্যানে যাবে সেখানে আলাদা লোক নিযুক্ত করা, যারা রোগীর সাথে যাবে তাদের পিপিই পোশাক দেওয়া এই সমস্ত কাজ খুব সাবধানে করা হয়ে থাকে।”