টিডিএন বাংলা ডেস্ক : পাকিস্তান আনন্দ পায় এমন ভাষায় কথা বলছেন বিরোধীরা। এদিন মধ্যপ্রদেশে বিজেপির ‘বিজয় সংকল্প বাইক র্যালি (rally)’র অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে এভাবেই বিরোধীদের নিশানা করেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। পুলওয়ামার পর প্রত্যাঘাত, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক২। কাশ্মীরের আকাশে যুদ্ধের ডঙ্কা। ভোটের আবহে একে যে কাজে লাগাবে বিজেপি তা বলাই যায়। দেশাত্মবোধের আবেগ কাজে লাগিয়ে আরো একবার `জোশ’-এর ধুয়ো তুলবেন মোদী-শাহরা, তা চোখ বুজে বলাই যায়।

সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ২ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলওয়ামা ঘটনার তদন্ত চাইছেন সপা সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব। এই পরিপ্রেক্ষিতে অমিতের তোপ, সেনাকে নিয়ে রাজনীতি করা বন্ধ করুন, লজ্জা হওয়া উচিত আপনাদের।  আর ‘রাহুল বাবা’ বলে কংগ্রেস সভাপতিতে কটাক্ষ করলেন অমিত। ঠারেঠোরে  বুঝিয়ে দিলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন ছেড়ে দিন, এ বারে ফের দিল্লির তখতে বসছেন নরেন্দ্র মোদীই।

দেশের সেনাকে নিয়ে বিরোধীদের ‘রাজনীতি’ না করার হুঁশিয়ারি তো দিলেনই, তার সঙ্গে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ এ ও স্পষ্ট করলেন, এ দেশে থেকে ভারতের ভাষাতেই তাঁদের কথা বলতে হবে। পুলওয়ামা ঘটনার পর ভারত – পাকিস্তান কূটনৈতিক সম্পর্ক একেবারে তলানিতে ঠেকেছে। পাক মাটিতে ঢুকে জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা। পাল্টা নিয়ন্ত্রণরেখা লঙ্ঘন করে সেনার উপর হামলা চালায় পাকিস্তানও। এর পর পাকিস্তানের হেফাজতে বায়ুসেনার উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমান থাকায় দু’দেশের মধ্যে চাপানোতর আরও বাড়ে। গত কাল অভিন্দনকে নিয়ে কূটনৈতিক কৌশলে কতটা এগিয়ে থাকা যায়, তারই দৌড় দেখা গেল নয়া দিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে। তবে, অভিনন্দনকে দেশে ফেরানোয় নরেন্দ্র মোদীর কৃতিত্বকেই তুলে ধরলেন অমিত শাহ।

অমিত শাহ বলেন, দেশের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে ফের মোদীকেই প্রধানমন্ত্রী করা উচিত দেশবাসীর। তাঁর কথায়, গত ৫৫ বছর একটি পরিবারের শাসনকাল দেখেছেন। কংগ্রেসের জমানায় মুম্বই হামলা, সংসদে জঙ্গি হামলার মতো বড়সড় নাশকতা ঘটেছে। কিন্তু মুখের উপর জবাব দিতে দেখা যায়নি কংগ্রেস সরকারকে। তবে, বরাবরই বিপরীত পথে হেঁটেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অমিতের দাবি, উরি, পাঠানকোট কিংবা পুলওয়ামা ঘটনায় জবাব দিতে সময় নেননি নরেন্দ্র মোদী। পাকিস্তানে ঢুকে গুলির জবাব গুলিতেই দিয়েছে এই সরকার। পুলওয়ামা হামলার পর ভারতীয় বায়ুসেনার এয়ার স্ট্রাইক আগামী দিনে আরো কীভাবে বিজেপির প্রচারের তিয়ার হয়ে ওঠে, সেই দিকে নজর থাকবে দেশের।