টিডিএন বাংলা ডেস্ক: লকডাউনেও সিএএ এনআরসি বিরোধী আন্দোলনকারীদের ধরতে ব্যস্ত অমিত শাহের নিয়ন্ত্রণে থাকা পুলিশ! শাহিনবাগের আন্দোলনকারী থেকে জামিয়া মিলিয়ার পড়ুয়া হয়ে এ বার নিশানায় জেএনইউ। সিএএ এনআরসি বিরােধী আন্দোলনে জড়িত জেএনইউ – এর দুই পড়ুয়াকে শনিবার গ্রেফতার করেছে অমিত শাহের নিয়ন্ত্রণে থাকা দিল্লি পুলিশ। শনিবার টানা তিন ঘণ্টা জেরার পরে দেবাঙ্গনা কলিতা এবং নাতাশা নারওয়াল নামে দুই ছাত্রীকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। দু’জনেই জেএনইউয়ের পড়ুয়া এবং দিল্লিতে কলেজ – বিশ্ববিদ্যালয় – হস্টেলে ছাত্রীদের বিভিন্ন অধিকারের দাবিতে সরব ‘ পিজরা তােড় আন্দোলনের সক্রিয় সদস্য।

জানাগেছে, ফেব্রুয়ারিতে জাফরাবাদ মেট্রো স্টেশনের কাছে সিএএ বিরােধী বিক্ষোভে শামিল হয়েছিলেন অনেকে। যার পাল্টা হিসেবে সিএএ – র পক্ষে মিছিল বার করেন বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র। পুলিশের সামনেই তিনি হুমকি দেন , তিন দিনের মধ্যে ওই জায়গায় প্রতিবাদ – অবস্থান বন্ধ নাহলে তাঁরা নিজেরাই তা তুলে দেবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি কর্মী সমর্থকেরা হুমকি এবং উস্কানি দেয় বলে অভিযােগ ওঠে। এর পরেই গােষ্ঠী সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে উত্তর – পূর্ব দিল্লির বিভিন্ন এলাকায়। মৃত্যু হয় পঞ্চাশ জনেরও বেশি লােকের।

ওই সংঘর্ষে ও দাঙ্গায় পুলিশি ব্যর্থতা নিয়ে ক্ষুব্ধ অনেকেই। এর মধ্যেই অভিযােগ উঠেছে লকডাউনকে কাজে লাগিয়ে একাধিক সংখ্যালঘু যুবককে উত্তর – পূর্ব দিল্লির বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে অমিত শাহের পুলিশ। জেএনইউয়ের প্রতিবাদী পড়ুয়াদের অভিযােগ, একের পর এক প্ররােচনামূলক বক্তব্যের পরেও কপিল মিশ্রের মতাে বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি দিল্লি পুলিশ। অথচ জাফরাবাদে সিএএ – বিরােধী আন্দোলনে জড়িত থাকার কারণে অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার আচমকা বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে গ্রেফতার করা হয় দেবাঙ্গনা এবং নাতাশাকে।

পুলিশ সূত্রে দাবি, সরকারি কর্মীকে কাজে বাধা দেওয়া এবং তাঁদের উপরে চড়াও হওয়ার চেষ্টার অভিযােগে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁদের। জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার মীরন হায়দর , সাফুরা জারগর , শিফা উর রহমান , আসিফ ইকবাল তনহা থেকে জেএনইউয়ের দেবাঙ্গনা , নাতাশা। লকডাউনের মধ্যেও দিল্লি পুলিশের পড়ুয়া গ্রেফতারির সংখ্যা নেহাত কম নয়। অভিযােগ , এরা সকলেই সিএএ এনআরসি বিরােধী আন্দোলনের মুখ। অনেককে বন্দি করা হয়েছে ইউএপিএ আইনে। অনেককে রাখা হয়েছে তিহাড় জেলে। জিজ্ঞাসাবাদের নামে নিয়মিত হেনস্থা করা হচ্ছে জেএনইউ এর প্রাক্তনী উমর খলিদকেও। করােনা আবহেও অমিত শাহের পুলিশের এই ‘ প্রতিশোধস্পৃহা’র বিরুদ্ধে সরব পড়ুয়া ও সমাজকর্মীরা।