নিজস্ব প্রতিবেদক, টিডিএন বাংলা, হুগলি: আরামবাগ টিভির সম্পাদক ও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করে গ্রেপ্তার করতে চেয়েছিল আরামবাগ থানা! এমনটাই অভিযোগ সম্পাদক সফিকুল ইসলামের। কিন্তু আরামবাগ টিভির সম্পাদক এবং সাংবাদিক কে গ্রেপ্তার করা যাবে না বলে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি দেবাংশু বসাক।
ঘটনার সূত্রপাত রাজ্য সরকারের প্রকল্পের খবর সম্প্রচার কেন্দ্র করে। গত ১৩ এপ্রিল আরামবাগ থানা থেকে রাজ্য সরকারের খেলাশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে ৫৭টি ক্লাবকে এক লক্ষ টাকা চেক বিতরণ করা হয় বলে খবর। মূলত সেই খবর সম্প্রচার করাকে কেন্দ্র করে আরামবাগ টিভির সম্পাদক শেখ শফিকুল ইসলাম এবং সাংবাদিক সুরাজ আলী খানের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে এফআইআর রুজু করে আরামবাগ থানার পুলিশ বলে জানা গেছে। বলা হয়, আরামবাগ টিভি নাকি ভুয়া খবর সম্প্রচারিত করেছে। পাশাপাশি সুমন্ত যশ নামে এক সরকারি কর্মচারী আরামবাগ মহিলা থানায় আরামবাগ টিভির সম্পাদক ও সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। ওই অভিযোগকারী ব্যক্তি সরকারি আধিকারিক হওয়া সত্ত্বেও করোনা আবহের মধ্যে মাক্স না পরার যুক্তি দিয়েছিলেন। সেই খবর সম্প্রচার হওয়াতে ওই ব্যক্তির নাকি মানহানি হয়েছে বলে অভিযোগ। তাই তিনিও একটি অভিযোগ দায়ের করেন। যদিও এই দুটি অভিযোগ দায়ের হওয়ার আগে, অভিযোগকারীদের তরফে আরামবাগ টিভি কে কোন নোটিশ পাঠানো হয়নি বলে কর্তৃপক্ষের অভিযোগ। এরপরই দুটি এফ আই আর কে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন আরামবাগ টিভির সম্পাদক শেখ শফিকুল ইসলাম। গত মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিচারপতি দেবাংশু বসাকের এজলাসে এই মামলার দীর্ঘ শুনানি হয়। আরামবাগ টিভির পক্ষে আদালতে লড়াই করেন বিশিষ্ট সিনিয়র আইনজীবী সাংসদ বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী শামীম আহমেদ, সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়, পিন্টু কারার, অরূপ হাজরা। আদালতে বিকাশবাবু বলেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে আরামবাগ টিভি কে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে। পুলিশ যেখানে স্বীকার করছে থানা থেকে ক্লাবগুলোকে চেক বিতরণ করা হয়েছে, আবার সেই খবর দেখানো কে ভুয়া বলে এফআইআর করছে পুলিশ। এটা কিভাবে সম্ভব। এটা একটি সংবাদ মাধ্যমের বাকস্বাধীনতাকে টিপে ধরা ছাড়া আর কিছু নয়। এ বিষয়ে আইনজীবী সব্যসাচী চ্যাটার্জী ও শামীম আহমেদ বলেন, এর আগে ঠিক সন্ময় বন্দোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও এমনটা ঘটে ছিল। এ রাজ্যের পুলিশ এভাবেই সংবাদমাধ্যমকে কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে। আমরা আদালতের কাছে সে বিষয়টি তুলে ধরেছি।
অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে এডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত আদালতে বলেন, যাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে, তারা এই করোনা আবহে বিডিও অফিসের সামনে মাক্স না পরে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। সেই কারণে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। কিন্তু এডভোকেট জেনারেল এর এই যুক্তিও হাস্যকর বলে মনে করছেন আইনজীবীরা। যদি মাক্স না পরার জন্য এফ আই আর করতে হয়, তাহলে ক্রিমিনাল কেস হবে কেন। এই প্রশ্ন তুলতে থাকেন আইনজীবীরা। দীর্ঘ শুনানির পর বিচারপতি দেবাংশু বসাক অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিয়ে বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনভাবেই আরামবাগ টিভির সম্পাদক ও সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা যাবে না। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজন পড়লে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে পুলিশ। তার জন্য আদালতের তরফে একটি দিন ধার্য করা হয়েছে। আগামী ৯ তারিখ আরামবাগ থানায় হাজির হয়ে পুলিশের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে আরামবাগ টিভির সম্পাদক ও সাংবাদিক কে। তবে তাদের কোন ভাবেই গ্রেফতার করতে পারবে না পুলিশ। কেন এফআইআর করা হলো তা হলফনামা আকারে আদালতে জমা দেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। চার সপ্তাহের মধ্যে পুলিশের তরফে হলফনামা জমা পড়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে জবাবী হলফনামা জমা দেবে আরামবাগ টিভি। ছয় সপ্তাহ পর এই মামলার পুনরায় শুনানি হবে।
আদালতের এই নির্দেশ কে প্রাথমিক জয় বলে মনে করছেন আরামবাগ টিভির সম্পাদক শেখ শফিকুল ইসলাম। তিনি টিডিএন বাংলাকে বলেন, আমরা নিশ্চিত এই মামলার জয় আমরা পাব। কারণ ষড়যন্ত্র করে কাউকে ফাঁসানো যায় না। সত্য ঠিক একদিন বেরিয়ে আসবে।