টিডিএন বাংলা ডেস্ক: করোনার সংক্রমনের প্রভাবে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিচার করে অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ওপর এই সময় সব থেকে বেশি জোর দেওয়ার বার্তা দিলেন রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস। এদিন ভিডিও কনফারেন্সে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান রজনীশ কুমারের সঙ্গে দেশের আর্থিক অবস্থার বিষয় আলোচনার সময় এমনটাই মত প্রকাশ করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, গত মার্চ মাস থেকে করোনা সংক্রমণের আবহে দেশব্যাপী জারি হওয়া লকডাউনের ফলে চরম আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি। বেসরকারি সংগঠনের কর্মীদের পাশাপাশি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং শ্রমিকরাও এই দুর্দশার শিকার হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ২০২০-২১ অর্থ বর্ষে ভারতের চরম অর্থনৈতিক মন্দার পরিস্থিতি নিয়ে এর আগেও হুশিয়ারি দিয়েছেন বহু অর্থনীতিবীদ।

এদিন আর বি আই এর গভর্নর শক্তিকান্ত দাস বলেন,স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্র করোনার প্রভাবে যে বিপুল পরিমাণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা বিগত ১০০ বছরের ইতিহাসে ঘটেনি। তিনি আরো বলেন দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবিলায় আরবিআই বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে। রিজার্ভ ব্যাংকের পক্ষ থেকে আর্থিক নীতিমালা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতির বাড়বাড়ন্তের আগেই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে আর বি আই। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে আর বি আই ২৫০ বেসিস পয়েন্ট(২.৫% পয়েন্ট) কমিয়েছে। এছাড়াও বাজারে টাকার যোগান বাড়াতে প্রচলিত ও ব্যতিক্রমী দুই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে আরবিআই।ফেব্রুয়ারি থেকে ৯.৫৭ লক্ষ কোটি তরল টাকার জোগানের ঘোষণা করে আরবিআই যা জিডিপির ৪.৭%শতাংশের সমান। এই মুহূর্তে অর্থনৈতিক বৃদ্ধি করার বিষয়কেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে আরবিআই।পাশাপাশি আর্থিক স্থিতিশীলতার দিকেও সমান অগ্রাধিকার দিতে হবে। এছাড়া এনবিএফসি এবং মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর উপরও নজর রাখতে হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে দেশজুড়ে করোনার সংক্রমণ লাগামছাড়া ভাবে বেড়েই চলেছে। মাত্র চার দিনে সাত লক্ষ থেকে আট লক্ষ্যের গন্ডি পেরিয়ে গেছে আক্রান্তের সংখ্যা। যেখানে এক লক্ষ আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছতে ভারতের সময় লেগেছে ১১০ দিন, সেখানে ৮ লক্ষ আক্রান্ত হতে সময় লাগলো মোটে ৫২ দিন।