টিডিএন বাংলা ডেস্ক: জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস বলেছেন, প্রাণঘাতি করোনা মহামারী থেকে একটি কার্যকরী পরিকল্পনার মাধ্যমে উত্তরণে সক্ষম হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। তিনি বিশ্বের প্রতিটি দেশকে দ. কোরিয়ার মডেল অনুসরণ করার আহ্বান জানান। -ফ্রান্স২৪, ফিনেন্সিয়াল টাইমস
গত বৃহস্পতিবার ফেব্রুয়ারির পর দেশটিতে প্রথম স্থানীয় কোনো নাগরিক করোনা শনাক্ত হয়নি। যে ৪ জন শনাক্ত হয়েছিলেন তারা বিদেশ থেকে এসেই স্বেচ্ছা আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় শনাক্ত হন। এর ফলে দেশটিতে করোনা শনাক্ত ১০ হাজার ৭৬৫টিতে থেমে গেলো। বিশ্বের অন্যতম করোনা হটস্পট থেকে কোনো রকম পূর্ণাঙ্গ লকডাউন ব্যতীতই এই সাফল্য বিরল। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে ইন বলেছেন, এটাই দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণের শক্তি।

ফেব্রুয়ারিতে একটি চার্চ থেকে দেশটিতে করোনা ছড়িয়ে পড়ার পর সরকার দেশজুড়ে গণহারে করোনা পরীক্ষা কাজ শুরু করে। ব্যক্তিগত কোম্পনিগুলোকে টেস্টিং কীট উৎপাদনের অনুমোদন দেয়া হয়, ভ্রাম্যমাণ ক্লিনিক স্থাপন করা হয় এবং বিনামূল্যে সরকারীভাবে টেস্টিং কীট দেয়া হয়। সিউলে গাড়ি চালকদের করোনা পরীক্ষা করা হয়। টেস্টের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ দ্রুত আক্রান্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আলাদা করে এবং চিকিৎসা প্রদান করা হয়। বিদেশ ফেরত সব ব্যক্তির ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হয়।

বন্ধ করা হয় চার্চ ও জনসমাগম। এখন চার্চ উন্মুক্ত করা হলেও পাদ্রীরা সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখছেন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নীতি অনুসরণ করছেন। সামাজিক দূরত্বের কঠোর বিধান অনুসরণ করে রেস্টুরেন্ট চালু করার নির্দেশ দেয়া হয়। মার্কেট খুলে দেয় হয় তবে অব্যাহত থাকে রাস্তাঘাট ও মার্কেটে তাপমাত্রা চেক। ১৫ এপ্রিল দেশটিতে সামাজিক দূরুত্ব কঠোরভাবে মেনে অনুষ্ঠিত হয় সাধারণ নির্বাচন। খুলে দেয়া হয় গণপরিবহন কিন্তু নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করা হয় সাবওয়ে স্টেশন ও পরিবহন। বন্ধ করা হয় নি দেশটির জনপ্রিয় খেলা বেসবল, তবে দর্শকদের প্রবেশের অনুমতি ছিলো না। খেলোয়াড়রা তাপমাত্রা পরীক্ষা করিয়ে গ্লাভস পরে খেলতে থাকেন। স্কুল বন্ধ রেখে চালু হয় অনলাইন ক্লাস। ইনকিলাব