কৌশিক সালুই, টিডিএন বাংলা, বীরভূম: করোনা ভাইরাস এর কাছে আমি হারিনি। পাড়া প্রতিবেশীর কাছে আমরা হেরে গিয়েছিলাম। প্রশাসন খুব ভালো আমাদেরকে সহযোগিতা করেছেন। সবাই সহযোগিতা করেছেন। আমার তিন ছেলেমেয়ে। তাদের পড়াশোনার খরচ জোগাড় করতে পারছিনা। আমার এখন আর্থিক অবস্থা খারাপ। করোনা আমাকে খারাপ কিছু করতে পারেনি। আমাকে মানুষ পাড়া-প্রতিবেশী খারাপ করেছে। আমি মন্ত্রীকে জানিয়েছিলাম। আমাদের মতন আর যারা আছে তারা যেন ক্ষতি স্বীকার না হয়। আমাদের পরিবারকে টাইম কলের জল পর্যন্ত নিতে দেওয়া হয়নি। আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। আমাদেরকে এখনো পর্যন্ত গ্রামবাসীরা কেউ বিশ্বাস করে না। আমার দশ বছর বয়সী মেয়ে সেই সময় কার্যত দুদিন না খেয়ে ছিল”। এমনই এক তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন এক করোনা জয়ী এক ব্যক্তি। শনিবার বীরভূমের সিউড়ির ডিআরডিসি হলে কোবিদ ১৯ ওয়ারিয়ার্স ক্লাবের গঠন উপলক্ষে উপস্থিত হয়েছিলেন জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা, জেলা পুলিশ সুপার স্যাম সিং বীরভূম জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক হিমাদ্রি আড়ি জেলা পরিষদের মুখ্য পরামর্শদাতা অভিজিৎ সিংহ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নন্দেশ্বর মন্ডল সহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। এদিন জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পঞ্চাশের বেশি করোনা জয়ী পুরুষ ও মহিলা ক্লাব গঠন উপলক্ষে উপস্থিত হয়েছিলেন। সুস্থ ব্যক্তিরা কোভিদ হাসপাতালে কাজ করতে চাইলে জেলা বা জেলার বাইরে তাদেরকে নিয়োগ করা হবে। ইতিমধ্যেই অনেক কলনা আক্রান্ত ব্যক্তি কর্মচ্যুত হয়েছেন বা কাজ হারিয়েছেন। তাদেরকে পুনর্বাসন দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্যোগ গ্রহণ শুরু করেছে। কোভিদ হাসপাতালে যোগ্যতা অনুযায়ী তাদেরকে নিয়োগ করা হচ্ছে। প্রায় ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত তাদেরকে মাসিক ভাতা দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদ জেলায় সেই কাজকর্ম শুরু হয়ে গিয়েছে এরপরে বীরভূম জেলায় এদিন থেকে শুরু হল।
এদিনের ক্লাব গঠনের সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো নারীদের কাছ থেকে তাদের অভিজ্ঞতার কথা শুনতে চাওয়া হয়। সেই সময়ই সিউড়ী এক ব্লকের তিলপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বাশঝোড় গ্রামের বাসিন্দা জাকির হোসেন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের কাছে তার ও তার পরিবারের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা ওইভাবে তুলে ধরেন। জেলাশাসক মৌমিতা গদারা সঙ্গে সঙ্গে সিউড়ি থানার আইসি এবং সিউড়ি এক ব্লকের বিডিওকে ওই গ্রামে গিয়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। জাকির হোসেন মাস কয়েক আগে দিল্লিতে শ্রমিকের কাজ করতে গিয়েছিল। করোনা আবহে তিনি গ্রামে ফিরে আসেন। নিভৃত বাসে থাকার সময় তার লালা রস পরীক্ষা করা হয় এবং করোনা পজেটিভ পাওয়া যায়। যদিও ওই ব্যক্তির অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়েছেন স্থানীয় গ্রামবাসী থেকে তৃণমূল নেতৃত্ব। স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ কাজল শেখ বলেন,” সম্পূর্ণ লকডাউন চলাকালীন এলাকার সমস্ত দুঃস্থ মানুষদের কে রীতিমতো সহায়তা করা হয়েছিল। গ্রামবাসীরা ওই ব্যক্তির পরিবারকেও সহায়তা করেছিল। তবে তিনি কেন অভিযোগ করছেন সেটা বলতে পারবো না। তার অভিযোগ মিথ্যা”।