নিজস্ব প্রতিনিধি, টিডিএন বাংলা, বীরভূম: ভিন রাজ্য ফেরত পরিযায়ী শ্রমিক থেকে গণ সংক্রমণ ছড়ানো ঠেকাতে উদ্যোগ গ্রহণ বীরভূম জেলা প্রশাসনের। বৃহস্পতিবার  সিউড়িতে জেলার পুলিশ প্রশাসন স্বাস্থ্য দপ্তর এবং জনপ্রতিনিধি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী আশিস বন্দোপাধ্যায় এবং চন্দ্রনাথ সিনহা, বিধায়ক নীলাবতী সাহা, মইনুদ্দিন শামস,আব্দুর রহমান লিটন,জেলা পরিষদের মুখ্য পরামর্শদাতা অভিজিৎ সিংহ সহ অন্যান্য আধিকারিকরা।    বীরভূম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে ভিন রাজ্য থেকে পরিযায়ী শ্রমিক ঢুকতেই বদলে গিয়েছে করোনা ভাইরাস সংক্রমিত রোগীর চিত্র।  বিগত ৭২ ঘন্টায় প্রায় ৬০ জনেরও বেশি মানুষের করোনা ভাইরাস পজিটিভ পাওয়া গিয়েছে। বিশেষ সূত্রে জানা গেছে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত করোনা সংক্রামিত মোট রোগীর সংখ্যা প্রায় ৮৪ জন। এবং যাদের মধ্যে সিংহভাগ মানুষ পরিযায়ী শ্রমিক। পরিযায়ী শ্রমিক এবং ভিন রাজ্য ফেরত মানুষদের কাছ থেকে যাতে গণ সংক্রামন না ছড়ায় তার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ জেলা প্রশাসনের। ভারতবর্ষের করোনা ভাইরাস এর সংক্রমনের প্রায় ৬০ শতাংশ মহারাষ্ট্র ,গুজরাট ,দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ, তামিলনাড়ু প্রভৃতি রাজ্য থেকে ছড়াচ্ছে। তাই সেই সমস্ত রাজ্য ফেরত পরিযায়ী শ্রমিক বা সাধারণ মানুষকে নন হোম কোয়ারেন্টাইন থাকা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। প্রত্যেকটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রয়োজন মত দুটো থেকে চারটি কোয়ারেন্টাইন সেন্টার করা হচ্ছে। সে সমস্ত মানুষজন যাতে বাইরে বেরিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশতে না পারে তার জন্য তাদের হাতে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি ক্রমে আঙ্গুলে কালি লাগানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া বাকি রাজ্য ফেরত মানুষদেরকে হোম কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। সকলকে নজরদারির জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাতে দুটি করে মোটরবাইক দেওয়া হচ্ছে। সিভিক ভলেন্টিয়ার সেই নজরদারির কাজে নিযুক্ত থাকবেন। এছাড়াও আশা কর্মীরা আগের মত নজরদারি করে যাবেন।
পাশাপাশি গ্রাম পঞ্চায়েত পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদের সদস্যরা স্থানীয় স্তরের কাজকর্ম শুরু করে দেবেন। প্রতিটি ব্লকে স্থানীয় বিডিও, ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক, থানার ওসি, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নিয়ে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি করোনা ভাইরাস এর স্থানীয় সংক্রামিত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন। গত বুধবার পর্যন্ত প্রায় ২৪ হাজারের বেশি পরিযায়ী শ্রমিক বীরভূম জেলায় ফিরে এসেছে। রামপুরহাট মহকুমাতে সংক্রামিত রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় সেখানে আরো ৪০ বেডের করোনাভাইরাস হাসপাতাল করা হয়েছে। যদিও এর আগে বোলপুরে আরো একটি ৪০ শয্যার হাসপাতালে ছিল। করনা ভাইরাস রোগী দ্রুত চিহ্নিত করার জন্য দুর্গাপুরের সনকা হাসপাতালে এবার থেকে এই জেলার লালারসের পরীক্ষা করা হবে এবং কিছুদিনের মধ্যে বীরভূম স্বাস্থ্য জেলায় সেই পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। জেলা পরিষদের মুখ্য পরামর্শদাতা অভিজিৎ সিংহ বলেন,”  ভিন রাজ্যে ফেরত এবং তাদের মধ্যে করোনা ভাইরাস সংক্রামিত রোগীর চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সে বিষয়ে এদিন এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হলো”।