মোকতার হোসেন মন্ডল, টিডিএন বাংলা, কলকাতা : রাজনৈতিক দলগুলির ব্যানারে আয়োজিত ইফতার পার্টিগুলিকে মুসলিমদের বর্জন করার ডাক দিলেন ফুরফুরা দরবার শরীফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকী। পবিত্র রমজান মাসে এক ইফতার মজলিস শেষে তিনি বলেন, “আমি অনুরোধ করবো মুসলিমদের,কোন রাজনৈতিক দলের ব্যানারে যদি কেউ ইফতার পার্টি করে, তবে কোন রোজাদার মুসলমান যেনো ওই ইফতার পার্টিতে ইফতার না করে।” পশ্চিমবঙ্গ সহ ভারতের বিভিন্ন জায়গায় মুসলিমদের মন পেতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ইফতার পার্টির আয়োজন করে। সেখানে ওইসব রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন। সেক্ষেত্রে কী বলবেন ? ত্বহা সিদ্দিকীর জবাব,”যত বড়ো নেতা হোক, কোন রাজনৈতিক দলের দ্বারা যদি ইফতার পার্টি হয়, সেই ইফতার পার্টিতে কোন রোজাদারদের খাওয়া উচিৎ নয়। কারন, ওইসব দলের অধিকাংশের পয়সা হারাম, অবৈধ। আর অবৈধ টাকার ইফতারের খাবার খেয়ে কেন মুসলিমরা ইফতার করবে ?”
কিন্তু কোনও রাজনৈতিক নেতা যদি মুসলিমদের সংগঠনের বা মুসলিম নেতার আয়োজিত ইফতার পার্টিতে আসে তাহলে কী বলবেন ?মুজাদ্দেদিয়া অনাথ ফাউন্ডেশনের সুপ্রিমো ওই পীরজাদার জবাব, “মুসলিমদের ইফতার পার্টিতে রাজনৈতিক নেতারা আসলে খেতে পারে, অসুবিধা নেই। একজন মুসলিম রোজাদার অন্য মুসলিম রোজাদারকে হারাম খাওয়াতে পারে না। কিন্তু পলিটিক্যাল যে ইফতার পার্টি হয় তাতে সবাই মিলে চাঁদা দেয়, অনেকেই সুদের টাকায় চাঁদা দেয়। আর ইসলামে সুদ নিষিদ্ধ, এই ইফতার পার্টিতে মুসলমানদের খাওয়া ঠিক নয়। অনেক অমুসলিম রাজনৈতিক নেতা নেত্রীতো রোজা না করে টুপি পরে বা হিজাব পরে ইফতারে আসেন,মুনাজাত করেন। এঁদের বয়কট করছেন না কেন ? ত্বহা সিদ্দিকীর জবাব, “ওদের জন্য ইফতার নয়, ইফতার হলো রোজাদারদের জন্য। শুধু অমুসলিম নয়, কোন মুসলমান যদি রোজা না রাখে তার জন্যও ইফতার নয়, আসলে ওরা ইফতারকে সামনে রাখে ভোট এবং রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য। আর মুসলিম কিছু নেতা এতেই খুশি হয়, কিন্তু ইসলামের সাথে এঁদের কোনও সম্পর্ক নেই, এতে মুসলিমদের বদনাম হচ্ছে। আমি মনে করি, লোক দেখানো ইফতার করে নয়, মুসলিমদের যে উন্নয়ন করবে সে ভোট পাবে।” (তথ্যসূত্র : দৈনিক যুগশঙ্খ)