নিজস্ব সংবাদদাতা, টিডিএন বাংলা, কলকাতা : শাসক দলের বিরুদ্ধে প্রশাসন আর দলীয় রাজনীতি মিশিয়ে ফেলার অভিযোগ তুললো নাগরিক সমাজের বেশ কিছু ব্যক্তি। শুক্রবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে পঞ্চায়েত ভোটে হিংসা বন্ধের আবেদনও করেন নাগরিক সমাজের একাংশ। ‘সাধারণ নাগরিক সমাজ’ নামের সংগঠনটির অভিযোগ, রাজ্যে হিংসার মাধ্যমে এক এক দলীয় শাসন কায়েম করার চেষ্টা হচ্ছে।
রাজ্যজুড়ে যে হিংসা প্ররোচনা চলছে তার বিরোধীতা করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য রক্তিম চক্রবর্তীর মন্তব্য, ‘গণতান্ত্রিক পরিবেশে যে কোনও নির্বাচনে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সবার দায় আছে শান্তি বজায় রাখার। আমাদের উচিত, কোনওরকম হিংসা দেখলেই প্রতিবাদ করা। সুষ্ঠ পদ্ধতিতে ভোট গ্রহন এবং শান্তি বজায়ে অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে।” নির্বাচন কমিশন ও বাংলার মানুষের চেষ্টায় আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচন সুন্দর হবে বলেও রক্তিম বাবু আশা করেন।
বঙ্গবাসী কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপিকা রত্না ভট্টাচার্য সংবাদ মাধ্যম সহ সকলকে শান্তির জন্য এগিয়ে আসতে আহ্বান জানান। তাঁর মন্তব্য, সবাইকে সচেতন হতে হবে। পাশের বাড়ি জ্বলছে, কাল আপনার বাড়িও জ্বলতে পারে। সঙ্গীত শিল্পী পিলু ভট্টাচার্যও এদিন এসেছিলেন। তিনি শিল্পীদের এই দুর্দিনে এগিয়ে আসতে বলেন। তাঁর প্রশ্ন, জনপ্রিয় নেত্রী, জনপ্রিয় সরকার হওয়া সত্বেও কেন মারামারি করছে দিদির ছেলেরা?’
এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে এসেছিলেন বর্ধমান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপিকা ও বিজেপির সংখ্যালঘু সেলের তানভির নাসরিন। তিন তালাক বিরোধী আন্দোলনের ওই নেত্রী বলেন, ‘বিগত কয়েকদিনে প্রায় ২০ জনের অধিক সাংবাদিক আক্রান্ত। এই সাংবাদিকরা সিরিয়া অথবা আফগানিস্তানে কভার করছিলেন না। তারা শান্তির বাংলায় ভোটের খবর কভার করছেন।’
পঞ্চায়েত ভোটকে সামনে রেখে যেসব হিংসার ঘটনা ঘটেছে তার একটা তালিকা এদিন সাংবাদিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয় নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে। সেই সাথে রাজ্যে চলমান ঘটনার উপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে লিফলেট বিলির মাধ্যমে বাংলায় শান্তির প্রচার চালানো হবে।