টিডিএন বাংলা ডেস্ক: পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী ডঃ কাফিল খান-এর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে গোটা রাজ্য জুড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করল সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন এর কর্মীরা।কোচবিহারের বসিরহাট থেকে শুরু করে পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাট পর্যন্ত সর্বত্রই এদিন কাফিল খান-এর ওপর সরকারের অমানবিক অত্যাচার ও গ্রেফতারের প্রতিবাদে সোচ্চার হলেন ছাত্র-যুব সদস্যরা। এদিন ফেডারেশন-এর রাজ্য সম্পাদক মাওলানা কামরুজ্জামান-এর নির্দেশ অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে বর্ধমানের সমুদ্রগড়, বর্ধমান শহর, শেয়ারা বাজার, উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা, হাড়োয়া, মিনাখাঁ, সন্দেশখালি, বারাসাত, রাজারহাট, আমডাঙ্গা স্বরূপনগর ব্লকের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন সদস্যরা।এছাড়া দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙ্গড়, কাশিপুর, জিবনতলা, ক্যানিং, বারুইপুর, মহেশতলা, বাসন্তী থানার বিভিন্ন জায়গায় কর্মীরা কাফিল খান এর মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হন।হাওড়া জেলার জগৎবল্লভপুর থানার মুন্সিরহাটে সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন এর সদস্যরা বিক্ষোভ দেখায়।

রবিবার এ বিষয়ে একটি প্রেস বিবৃতি জারি করে কামরুজ্জামান জানান,”কাফিল খান উত্তরপ্রদেশের একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক।শিশু চিকিৎসায় তার যথেষ্ট আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার দেখে দেশজুড়ে তার সুনাম ছড়িয়ে পড়েছিল। যোগী সরকার এর কাছে এটাই সব থেকে বড় ঈর্ষার কারণ।তাই না না মিথ্যা মামলায় তাকে জেলে রেখে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হচ্ছে।”

তিনি আরো বলেন,”ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠন কাফিল খানের মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন।আগামী ১৫ জুলাই বুধবার, হাইকোর্টে কাফিল খান এর জামিনের আবেদনের শুনানি হবে ঐদিন যাতে ডাক্তার কাফিল খান মুক্তি পান সেজন্য দেশের বিভিন্ন মহল থেকে মহামান্য বিচারপতির কাছে আবেদন জানানো হচ্ছে।”

প্রসঙ্গত, গত মে মাসে ডঃ কাফিল খান-এর বিরুদ্ধে ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট আরোপ করা হয়। যার জেরে তাঁর বন্দীদশা আরো তিন মাস বেড়ে যায়। বর্তমানে তিনি মথুরা জেলে বন্দী রয়েছেন। আগের বছর ডিসেম্বর মাসে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি সভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে মন্তব্য করার জন্য চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের শেষ দিক থেকে মথুরা জেলে বন্দী হয়ে রয়েছেন উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরের ওই ডাক্তার। এর আগেও ২০১৭ সালে
উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরে বিআরডি হাসপাতালে ৬০ জনেরও বেশি শিশু মৃত্যুর জেরে তাঁকে গ্রেফতার করে উত্তরপ্রদেশের স্পেশাল টাস্কফোর্স। সে সময় ওই হাসপাতালের শিশু বিভাগের দায়িত্বে থাকা কাফিল খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, তিনি অন্যান্য হাসপাতাল থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার সংগ্রহ করেন। পরে আরো অভিযোগ ওঠে যে বিআরডি হাসপাতাল থেকে অক্সিজেন সিলিন্ডার চুরি করে নিজের ব্যক্তিগত ব্যবসা চালাচ্ছিলেন কাফিল খান। আর সেই কারণেই হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডারের ঘাটতি তৈরি হয়। যার জেরে মৃত্যু হয় ওই শিশুদের। যদিও পরে এই ঘটনায় ডঃ কাফিল খান কে ক্লিনচিট দেয় উত্তরপ্রদেশ সরকার।